কম্পিউটার : বিজ্ঞানের বিস্ময় রচনা - কম্পিউটার : বিজ্ঞানের বিস্ময় | Computer : Bigganer Bismoy Rochona

কম্পিউটার : বিজ্ঞানের বিস্ময় রচনা - কম্পিউটার : বিজ্ঞানের বিস্ময়, Computer : Bigganer Bismoy Rochona, কম্পিউটার : বিজ্ঞানের বিস্ময় গুরুত্ব, কম্পিউটার : বিজ্ঞানের বিস্ময় অনুচ্ছেদ রচনা, রচনা - কম্পিউটার : বিজ্ঞানের বিস্ময়


    কম্পিউটার : বিজ্ঞানের বিস্ময় রচনা

    ভূমিকা : আধুনিক যুগ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যুগ । এ যুগে বিজ্ঞানকে হালকাভাবে নেওয়ার কোনাে সুযােগ নেই । ব্যক্তি মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে জড়িয়ে গেছে বিজ্ঞান । বিজ্ঞানকে বাদ দিয়ে । আধুনিক সভ্য জগৎ এখন অকল্পনীয় । আর বিজ্ঞানের আরেক অকল্পনীয় দান হচ্ছে কম্পিউটার । বিশ শতকে একক আবিষ্কার হিসেবে কম্পিউটার মানব জাতিকে যতটা প্রভাবিত করতে পেরেছে , মানুষের জীবনকে যতটা । গতিসম্পন্ন করতে পেরেছে তা বােধ করি অন্য কোনাে আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়নি । বিজ্ঞানের নানা আবিষ্কার নানা ক্ষেত্রে যুগান্তকারী বিপ্লব বয়ে আনলেও কম্পিউটারই আজ বিজ্ঞানের বিস্ময় হিসেবে বিবেচিত। 

    আবিষ্কার : আজকের সুপরিচিত কম্পিউটার হঠাৎ করে বিজ্ঞানের আবিষ্কার হিসেবে পৃথিবীতে আসেনি । বহুকালের বহু গবেষণার ফল হিসেবে কম্পিউটার আবিষ্কৃত হয়েছে বিজ্ঞানীদের হাতে । ১৬৪২ খ্রিষ্টাব্দে কেইটি পাসকেল যােগ - বিয়ােগ করতে সক্ষম এমন গণনা যন্ত্রের আবিষ্কার করেন । ১৫৭১ খ্রিষ্টাব্দে ফ্লাইড গুণ ও ভাগ করতে পারে এমন যন্ত্র তৈরি করেন । কিন্তু ব্রিটিশ গণিতজ্ঞ চার্লস ব্যাবেজই হলেন আধুনিক কম্পিউটারের জনক । আধুনিক কম্পিউটারের পূর্ণাঙ্গ গঠন তত্ত্বটি প্রথম তার হাতেই রূপ পায় । ব্যাবেজ কম্পিউটার তৈরি করেছিলেন ধাতব যন্ত্রাংশ দিয়ে । তখনও সূক্ষ্ম রকমারি যন্ত্র বা যন্ত্রাংশ তৈরি না হওয়ায় তিনি পরিপূর্ণ কাঠামাে দাঁড় করাতে পারেননি । তবে আজ যে কম্পিউটার গােটা বিশ্বকে জয় করেছে তাতেও কিন্তু অনুসরণ করা হয়েছে ব্যাবেজেরই গঠন তত্ত্ব । ১৯৪৪ সালে হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি এবং আইবিএম কোম্পানির যৌথ প্রয়াসে প্রথম ইলেকট্রো মেকানিক্যাল কম্পিউটার তৈরি হয় । ইয়ানিক ’ পূর্ণাঙ্গ কম্পিউটার তৈরি হয় ১৯৪৬ সালে । 

    কম্পিউটারের প্রধান অঙ্গসমূহ : কম্পিউটারের নানারকম যন্ত্রাংশ থাকলেও এর গঠন কাঠামােটি প্রধানত দুটি ভাগে বিভক্ত । একটি হলাে : হার্ডওয়্যার যেটিকে যান্ত্রিক সরঞ্জাম বলা যায় , অন্যটি প্রােগ্রাম সম্পর্কিত বা সফটওয়্যার । তথ্য সংরক্ষণের স্মৃতি , অভ্যন্তরীণ কাজের জন্য ব্যবহৃত তাত্ত্বিক দিক , ইনপুট ও আউটপুট অংশ এবং সকল বৈদ্যুতিক বর্তনী হার্ডওয়্যারের মধ্যে পড়ে । এদের কাজ হচ্ছে প্রােগ্রামের সাহায্যে কম্পিউটারকে কর্মক্ষম করে তােলা । 

    কম্পিউটারের প্রকারভেদ : কম্পিউটারের আকৃতি , কার্যসম্পাদনের গতি ও প্রক্রিয়া অনুযায়ী নানারকম কম্পিউটার দেখা যায় । যেমন : সুপার কম্পিউটার , মিনি কম্পিউটার , মাইক্রো কম্পিউটার , মেইনফ্রেম ইত্যাদি । অধুনা ল্যাপটপ কম্পিউটার বিশ্ববাসীর নজর কেড়েছে । সহজে পরিবহন এবং কাজের সুবিধার জন্য এ কম্পিউটার অনেকের কাছে এখন কাম্য বস্তু ।


    কম্পিউটারের ব্যবহার : কম্পিউটার মানবজীবনের সাথে এখন এত ব্যাপক পরিসরে সম্পৃক্ত হয়েছে যে , কম্পিউটারকে এখন মানুষের অনিবার্য সঙ্গী হিসেবে কল্পনা করা যায় । ব্যবসা - বাণিজ্য , শিক্ষা , চিকিৎসা , মহাকাশ গবেষণা প্রভৃতি ক্ষেত্রে কম্পিউটার আজকাল অপরিহার্য হয়ে পড়েছে । রােগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রেও কম্পিউটার ব্যবহৃত হচ্ছে ব্যাপকভাবে । ই - মেইল , ইন্টারনেট তথা আধুনিক দ্রুত যােগাযােগ ব্যবস্থাপনায় । কম্পিউটারই প্রধান সহায়ক । মানবজীবনের সকল স্তরকে যেন কম্পিউটার জয় করে ছাড়বে । দেশের অফিস আদালত , কল - কারখানা সর্বত্রই কম্পিউটারের উপস্থিতি । প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিশ্লেষণ , বাজেট প্রণয়ন ইত্যাদি কাজেও কম্পিউটারের ব্যবহার দিন দিন নবযাত্রা লাভ করছে । মােটকথা , কম্পিউটার ও মানবজীবন এখন অভিন্ন । একটিকে বাদ দিলে যেন অন্যটি বিকল । 

    কম্পিউটারের নবযাত্রা : যেদিন কম্পিউটার প্রথম আবিষ্কৃত হয়েছিল সেদিনকার আকৃতি এখন আর নেই বললেই চলে । আকৃতিতে কম্পিউটার এখন অনেক ছােট হয়েছে কিন্তু কাজের ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে । কম্পিউটারে যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন প্রতিভার অবদান । দিন যত যাচ্ছে ততই কম্পিউটার তার ক্ষমতাকে যেন বৃদ্ধি করে চলেছে । মানুষের সকল কাজই যেন সে একা করবে । তাই ক্রমশ কাজের ক্ষেত্রে কম্পিউটার শক্তিমান হয়ে উঠছে । কোন কম্পিউটার কত দ্রুত কত কাজ করতে পারে এর ওপর নির্ভর করছে তার চাহিদা । তাই কম্পিউটার কোম্পানিগুলােও বড় বড় বিজ্ঞানী ও গবেষকদের মাধ্যমে নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রতিযােগিতার শীর্ষে থাকার চেষ্টা করছে , ফলে বৃদ্ধি পাচ্ছে কম্পিউটারের কার্য সম্পাদনের ক্ষমতা।

    বাংলাদেশে কম্পিউটার : বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতাে বাংলাদেশেও কম্পিউটার ব্যবহার বৃদ্ধি পাচ্ছে । অফিস , আদালত ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সর্বত্রই এখন কম্পিউটার । কম্পিউটারে পারদর্শী হলে তুলনামূলকভাবে ভালাে কর্মসংস্থান জোটে বলে তরুণ - তরুণীদের মধ্যে কম্পিউটার এখন জনপ্রিয় । কম্পিউটারের ক্ষেত্র অনেক বিস্তৃত বলেই বিশ্ববিদ্যালয়ের মতাে সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে এখন কম্পিউটার বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রির প্রচলন হয়েছে । এমনকি কম্পিউটার তথা বিজ্ঞাননির্ভর পড়াশােনার বিস্তারে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় নামে পৃথক বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে উঠেছে । দেশ - বিদেশে সর্বত্র মুদ্রণ শিল্পে কম্পিউটারের অনিবার্যতা অস্বীকার করার সুযােগ নেই । তাই বলা যায় , কম্পিউটার বিজ্ঞানের এমন দান যে তাকে দু হাত ভরে গ্রহণ না করার কোনাে সুযােগ নেই । 

    কিছু বিরূপ প্রতিক্রিয়া : হাজার উপকারিতা সত্ত্বেও কম্পিউটারের কিছু অপকারিতা নিয়ে সমালােচনাও আছে । যুদ্ধ - বিগ্রহ , অস্ত্র নির্মাণ ইত্যাদিকে সহজ করে তুলছে কম্পিউটার । দশ জনের কাজ এখন কম্পিউটার একাই করতে পারে বলে এটাও কম্পিউটারের দোষ বলা হয়ে থাকে , কেননা এতে বেকারত্বের সৃষ্টি হচ্ছে । 

    শেষ কথাঃ গুহাবাসী মানুষ আজ বিশ্বজয় করেছে আর বিশ্বকে জয় করেছে কম্পিউটার । বিজ্ঞানের হাজার আবিষ্কারের মধ্যে কম্পিউটারই শক্তিমান । তাই কম্পিউটার বিজ্ঞানের বিস্ময় , বিজ্ঞানের শ্রেষ্ঠ দান ।

    কম্পিউটার : বিজ্ঞানের বিস্ময়

    Computer : Bigganer Bismoy Rochona


    Tag: কম্পিউটার : বিজ্ঞানের বিস্ময় রচনা - কম্পিউটার : বিজ্ঞানের বিস্ময়, Computer : Bigganer Bismoy Rochona, কম্পিউটার : বিজ্ঞানের বিস্ময় গুরুত্ব, কম্পিউটার : বিজ্ঞানের বিস্ময় অনুচ্ছেদ রচনা, রচনা - কম্পিউটার : বিজ্ঞানের বিস্ময়
    Previous Post Next Post

    👇 সকল ক্লাসের এসাইনমেন্ট নোটিফিকেশন আকারে সহজে পেতে ডাউনলোড করুন আমাদের এপ্লিকেশন 

    আমাদের ফেসবুক পেইজে যুক্ত হতে ক্লিক করুন