(PDF Download) পদ্মা সেতু রচনা | স্বপ্নের পদ্মা সেতু বাংলা রচনা | padma bridge bangla paragraph

  

(PDF Download) পদ্মা সেতু রচনা | স্বপ্নের পদ্মা সেতু  বাংলা রচনা | padma bridge bangla paragraph


   
       

    স্বপ্নের পদ্মা সেতু  বাংলা রচনা | padma bridge bangla paragraph


    স্বপ্নের পদ্মা সেতু

     

    সূচনা

    বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একটি উন্নয়শীল দেশ । নদীমাতৃক এদেশটিতে দেশি - বিদেশী অনেক জালের মতো ছড়িয়ে - ছিটিয়ে আছে । তাই স্বভাবতই এদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় সেতু একটি ঘুরত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে পরিচিত । বাংলাদেশের প্রধান তিনটি নদী হলো পদ্মা , মেঘনা এবং যমুনা । এদেশের মধ্যে যমুনা ও মেঘনা নদীর উপর দিয়ে ইতিমধ্যে সেতু তৈরি হয়েছে । বাকি ছিল শুধু পদ্মা নদী । পদ্মা নদীর উপর দিয়ে নির্মাণাধীন একটি সেতু যার নাম পদ্মা সেতু এই সেতু বাংলাদেশের দক্ষিণ - পশ্চিম অংশের সাথে উত্তর - পূর্ব অংশের সংযোগ ঘটাবে । এই সেতুকে কেন্দ্র করে মনে মনে স্বপ্ন বুনছে দক্ষিণ পশ্চিম অঞ্চলের মানুষ । সকলের আশা এই পদ্মা সেতু বদলে দেবে দেশের অর্থনীতি ; উন্নত হবে মানুষের জীবনযাত্রা ।
    স্বাধীনতা - উত্তর বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় এই প্রকল্প খুলে দেবে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার । নেদারল্যান্ডসভিত্তিক এক গবেষণা প্রতিষ্ঠান অনুযায়ী
    “ পদ্মা সেতু নির্মাণের জন্য প্রতি এক টাকা খরচের বিপরীতে দুই টাকা লাভবান হবে বাংলাদেশ ”

    পদ্মা সেতুর ইতিহাস 

    ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে বাংলাদেশের বৃহৎ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক মেনিফেস্টোর মধ্যে পদ্মা সেতু নির্মাণ ছিল অন্যতম । আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক দল সরকার গঠন করার পর পদ্মা সেতু নির্মাণ ছিল অন্যতম কাজ এবং তারা পদ্মা সেতু নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু করে । এজন্য  বিশ্বব্যাংক , ADB ( Asian Development Bank ) জাইকা প্রভৃতি প্রতিষ্ঠান আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল । কিন্তু পদ্মা নির্মাণে দুর্নীতির অজুহাত তুলে বিশ্বব্যাংক ঋণ দিতে অশ্বীকৃতি জানায় । সাথে সাথে অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো পদ্মা সেতু নির্মাণে ঋণ প্রদান থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেয় । এরপর বিভিন্ন তর্ক - বিতর্কের পর আওয়ামী লীগ সভানেত্রী এবং তৎকালীন সরকার প্রধান শেখ হাসিনা মহান জাতীয় সংসদে বাংলাদেশের নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের ঘোষণা দেয় ।

    পদ্মা সেতু নির্মাণের প্রেক্ষাপট

    পদ্মা সেতু দেশের দক্ষিণ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন । এজন্য এই অঞ্চলের মানুষ স্বাধীনতা - উত্তর বাংলাদেশে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সরকারের কাছে তাদের দাবি বাস্তবায়নের কথা জানিয়ে এসেছে । অবশেষে সেতুর সম্ভাবনার কথা বিবেচনায় এনে ১৯৯৮ সালে প্রথম সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয় । সমীক্ষা যাচাইয়ের পর ২০০১ সালে এই সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয় । কিন্তু অর্থের জোগান না হওয়ায় সেতুর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছিল । পরবর্তীতে পদ্মা সেতু প্রকল্পের যাত্রা শুরু হয় ২০০৭ সালে । পরে ২০১১ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে এই সেতুতে রেলপথ সংযুক্ত করে ।

    ভৌগোলিক প্রেক্ষাপটে পদ্মা সেতুর গুরত্ব

     বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ । এদেশের বুক চিরে বয়ে চলেছে অসংখ্য নদ নদী । তাই যাতায়াত ব্যবস্থায় আমাদের প্রতিনিয়তই নৌপথের আশ্রয় নিতে হয় । এতে যোগাযোগ ব্যবস্থায় দীর্ঘসূত্রিতা ও মন্থর গতি পরিলক্ষিত হয় । এই যাতায়াত ব্যবস্থাকে গতিশীল করার জন্য প্রয়োজন হয় সেতুর । সেতু থাকলে নদীর দুই দিকের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থায় যেমন উন্নতি হয় , তেমনি ব্যবসা বানিজ্য ভালো হওয়ায় মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটে ।

    প্রতিবন্ধকতা ও বাংলাদেশের সক্ষমতা

    পদ্মা সেতু স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় প্রকল্প । বিভিন্ন সময় নানা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হয়েছে এই প্রকল্প । ২০০৯ সালের পর বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতুতে অর্থায়নে আগ্রহ প্রকাশ করলে তাদের সাথে ১২০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি হয় । কিন্তু ২০১২ সালে ধানচুক্তি বাতিল করে বিশ্বব্যাংক ; অগ্নিশ্চয়তার মুখে পড়ে পদ্মা সেতু প্রকল্প পরবর্তীতে সরকার নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের ঘোষণা দেয় । ষড়যন্ত্রের বাধা জয় করে এগিয়ে চলে পদ্মা সেতুর কাজ ; নিজস্ব অর্থায়নে দৃশ্যমান হতে থাকে স্বপ্নের পদ্মা সেতু ।

    পদ্মা সেতুর বর্ণনা

     পদ্মা সেতু হচ্ছে বাংলাদেশের র্দীঘতম সেতু । মূল সেতুর দৈর্ঘ্য ৬.১৫ কিলোমিটার এবং প্রশ্ন ২১.১০ মিটার । এই সেতুটি দ্বিতল ; উপর দিয়ে চলবে যানবাহন এবং নিচে দিয়ে চলবে ট্রেন । সেতুটি নির্মিত হয়েছে কংক্রিট এবং ও স্টিল দিয়ে । সেতুর দুই পাড়ে ১২ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক নির্মিত হয়েছে । নদী শাসনের জন্য চীনের সিনহাইড্রো কর্পো রেশন কাজ পেয়েছে । দুই পাড়ের সংযোগ সড়ক ও অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য কাজ দেওয়া হয়েছিল বাংলাদেশের আবদুল মোমেন লিমিটেডকে । বাংলাদেশ সেনাবাহিনী , বুয়েট এবং কোরিয়া এক্স প্রেসওয়ে কর্পোরেশন অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটস সেতুর নির্মাণ কাজ তদারকি করেছিল । পদ্মা সেতুর রেল সংযোগ প্রকল্পে ১৪ টি নতুন স্টেশন নির্মাণ এবং ৬ টি বিদ্যমান স্টেশন উন্নয়ন ও অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে । নতুন ১৪ টি স্টেশন হলো কেরানীগঞ্জ , নিমতলা , শ্রীনগর , মাওয়া , জাজিরা , শিবচর , ভাঙ্গা জংশন , নগরকান্দা , মুকসুদপুর , মহেশপুর , লোহাগড়া , নড়াইল , জামদিয়া ও পদ্ম বিল । এছাড়া অবকাঠামো উন্নয়নের ৬ টি স্টেশন হলো- ঢাকা , গেন্ডারিয়া , ভাঙ্গা , কাশিয়ানী , রূপদিয়া ও সিঙ্গিয়া । মূল সেতুর পিলার ৪২ টি । এর মধ্যে নদীর মাঝে ৪০ টি ও নদীর দুই পাড়ে ২ টি পিলার । নদীর ভিতরের ৪০ টি পিলারে ৬ টি করে মোট ২৪০ টি পাইল রয়েছে । এছাড়া সংযোগ সেতুর দুই পাশের দুটি পিলারে ১২ টি করে মোট ২৪ টি পাইল রয়েছে । পিলারে উপরে ৪১ টি স্প্যান বসানো হয়েছে । সোনালি রং সূর্যের তাপ কম শোষণ করে বলে পদ্মা সেতুর রং সোনালি । সেতুর কাজ করেছিল চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড । এই সেতুর স্থায়িত্ব কাজ হবে ১০০ বছর । এই সেতুর পাইলিং গভীরতা ৩৮৩ ফুট এবং প্রতিটি পিলারের জন্য পাইলিং ৬ টি এইসিওএমের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক এবং জাতীয় পরামর্শকদের নিয়ে একটি দল গঠন করা হয় । এরাই পদ্মা সেতুর নকশা পরা মর্শদাতা । এই সেতুর ভূমিকম্প সহনশীলতা মাত্রা রিখটার স্কেলে ৯ । এই সেতুতে কর্মরত একমাত্র বাঙালি নারী প্রকৌশলী হলো ইশরাত জাহান ইশি ।


    পদ্মা সেতু নির্মাণের সম্ভাব্য ব্যয়

     -২০০৭ সালের তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ১০ হাজার ১৬১ কোটি টাকার পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্প পাস করে । এরপর ২০১১ সালে প্রকল্পের সংশো ধিত ব্যয় নির্ধারণ করা হয় ২০ হাজার ৫০৭ কোটি টাকা । এরপর ২০১৬ সালে পদ্মা সেতু নির্মাণের ব্যয় দ্বিতীয়বারের মতো সংশো ধন করা হয় । সম্ভাব্য ব্যয় নির্ধারিত হয় ২৮ হাজার ৭৯৩ কোটি টাকা ।

    পদ্মা সেতুর অর্থনৈতিক গুরত্ব

    - পদ্মা সেতু নির্মাণে দেশের দক্ষিণ এবং দক্ষিণ - পশ্চিমাঞ্চলের ২১ টি জেলার জনগণের ভাগ্য বদলাবে । সাথে রাজধানী ঢাকার পৌনে দুই কোটি মানুষের খাদ্য দ্রব্যের জোগান সুলভ মূল্যে সম্ভব হবে । দেশের জিডিপি বৃদ্ধি পারে দ্রুত হারে ।

    শিল্পক্ষেত্রে পদ্মা সেতুর গুরত্ব

    পদ্মা সেতু নির্মাণের ফলে দেশের দক্ষিণ - পশ্চিমাঞ্চলের সাথে সরাসরি উত্তর - পূর্বাঞ্চলের যোগাযোগ ঘটবে । ফলে এই অঞ্চলে গড়ে উঠবে নতুন নতুন শিল্প খাত । তাছাড়া এই সেতুকে কেন্দ্র করে গতিশীল হবে পায়রা সমুদ্র বন্দর । ফলে ব্যবসায়ের সুবিধার্থে স্থাপিত হবে নতুন শিল্পকারখানা ,।

    কৃষিক্ষেত্রে পদ্মা সেতুর ঘুরত্ব

    বর্তমানে দক্ষিণ - পশ্চিমাঞ্চলের সাথে উত্তর - পূর্বাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না থাকায় মূল্য থেকে বর্ণিত হয় । সেতু নির্মাণের ফলে যাতায়াত ব্যবস্থা ওই অঞ্চলের মানুষ তাদের উৎপাদিত ফসলের ন্যয় গতিশীল হবে । ফলে ওই অঞ্চলের কৃষকদের উৎপাদিত ফসল সহজেই দেশের বিভিন্ন স্থানে পৌঁছে যাবে । এছাড়া কৃষিতে নতুন নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার সহজ হবে । ফলে উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে ।

    সেতু নিমার্ণে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি

     প্রিন্ট মিডিয়া এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় আমরা প্রায়ই দেখতে পাই পাটুরিয়া , দৌলতদিয়া , মাওয়া , জাজিরা ঘাটে শত শত বাস , ট্রাক ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকতে । কিন্তু পদ্মা সেতু নির্মাণ হলে কম সময়ে কম টাকায় ঢাকার সাথে যোগাযোগ সম্ভব হবে । তাছাড়া পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগ রয়েছে , যা যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল ও সহজতর করবে ।

    পদ্মা সেতুর রাজনৈতিক গুরত্ব 

     পদ্মা সেতু নির্মাণে বর্তমান সরকার রাজনৈতিকভাবে খুব লাভবান হবে । পদ্মা সেতু নির্মাণ করা সরকারের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ছিল । দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ - পশ্চিমাঞ্চলের ভোট সংখ্যা আওয়ামী লীগের জন্য সুবিধা জনক অবস্থানে যেতে পারে । সরকার হিসেবে আওয়ামী লীগ পদ্মা সেতুকে সফলতা হিসেবে দেখতে পারবে ।

    দারিদ্র বিমোচনে পদ্মা সেতুর প্রভাব

     পদ্মা সেতু দেশের দক্ষিণ - পশ্চিম অঞ্চলের মানুষের দারিদ্র বিমোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে । এই সেতু নির্মাণের ফলে যাতায়াত ব্যবস্থা উন্নত হওয়ায় সেখানে শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে । ফলে অনেক মানু ষের কর্মসংস্থান হবে । তাছাড়া সহজেই ওই অঞ্চলের মানুষ কাজের জন্য অন্যান্য স্থানে যেতে পারবে । এতে বেকারদের কর্ম  সংস্থান হবে ।

    সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ

    বাংলাদেশ সরকার পদ্মাসেতু প্রকল্পটিকে খুবই গুরুত্ব দিচ্ছে । এর পেছনে দুটি কারন রয়েছে প্রথমত , পদ্মাসেতু প্রকল্পের অর্থায়ন নিয়ে বিশ্বব্যাংকসহ দাতা । তাই সর দের সঙ্গে সরকারের তিক্ততার সম্পর্ক তৈরি হয়েছে । কার এই প্রকল্পকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে । পাশাপাশি এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বিশ্বের সামনে বাংলাদেশের সক্ষমতাকেও তুলে ধরতে চায় সরকার ।
    দ্বিতীয়ত , আওয়ামী লীগের নির্বাচনি ইশতেহারে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে ২০০৮ সালে । প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সরকারের প্রতি দক্ষিণ ও দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের আস্থা বহুগুন বেড়ে যাবে ।

    পদ্মা সেতুর মূল কাজের উদ্বোধন

     ২০১৫ সালের ১২ ই ডিসে স্বর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাজিরা পাড়ে নদী শাস নের কাজের উদ্বোধন করেন । এরপর মাওয়া পাড়ে সুইচ টিপে পাইলিং কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় মূল সেতুর নির্মাণযজ্ঞ । স্বপ্নের এ সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে । প্রধানমন্ত্রী সুইচ অন করার পর মুহুর্মুহু করতালির আওয়াজের সঙ্গে বিশ্বের সবচেয়ে

    শক্তিশালী হাইড্রোলিকা গ্যামারে নদীর তলদেশে গভীর থেকে | গভীরে প্রোথিত হতে থাকে পদ্মা সেতুর মূল পাইল । এর মাধ্য মে বিশ্বকে জানিয়ে দেওয়া হয় নিজস্ব অর্থায়নেই নির্মিত হচ্ছে দেশের বৃহত্তম পদ্মাসেতু । এটি আর স্বপ্ন নয় ; বাস্তবদৃশ্য । সেতুর নির্মাণ কাজের উদ্বোধনী দিনে সাক্ষী হতে ঢল নামে হা জারো মানুষের । তারা ছুটে আসেন শ্রীনগর , লৌহজং , কেরানী গঞ্জ প্রভৃতি অঞ্চল থেকে । এছাড়া পদ্মার ওপারের জাজিরা ও মেঘনার ওপারের গজারিয়া থেকেও এসেছেন অনেকে । উপস্থিত জনগনের চোখে - মুখে ছিল স্বপ্ন ।

    নির্মাতা ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান

    পদ্মা সেতুর কাজ দ্রুত এগিয়ে নিতে শিফট অনুসারে কাজ করছিল এবং ড্রেজিংসহ নদীশাসনের কাজও দ্রুত এগিয়ে গিয়েছিল । নদী শাসনের কা জের দায়িত্বে ছিল ' সিনোহাইড্রো কর্পোরেশন , দেশের গুরত্বপূর্ণ এসেতুর মূল নির্মাণ কাজের জন্য চীনের চায়না মেজর ব্রীজ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন কোম্পানিকে দায়িত্ব দেওয়ার পাশাপাশি দুই পাড়ে সংযোগ সড়ক ও অন্যান্য অবকাঠামো নির্মা নের জন্য যৌথভাবে বাংলাদেশি‘আবদুল মোনেম লিমিটেড ' ও মালেশিয়ার হাইওয়ে কনস্ট্রাকশন ম্যানেজমেন্ট ’ কাজ করে চলছে । এছাড়া পদ্মাসেতুর কাজ তদারকির জন্য পরামর্শক প্রতি ষ্ঠান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার কোরিয়ান এক্সপ্রেসওয়ে’ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে ।

    ভূমি অধিগ্রহণ 

    মাদারীপুর , মুন্সিগঞ্জ ও শরীয়তপুর তিনটি জেলায় প্রস্তাবিত ১৪২২ , ৭৫ হেক্টর ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে । ক্ষতিগ্রস্তদের পূর্নবাসনের কাজও প্রায় শেষের দিকে । ইতিমধ্যে ৮০ শতাংশ পুনর্বাসনের কাজ শেষ হয়েছে । শহরের আদলে নির্মিত পুনবার্সন কেন্দ্রগুলো এখানকার মানুষের মাঝে নগরজীবনের ছোয়া এনে দেয় । ৭ টি পুনর্বাসন কেন্দ্রে ২৭০০ পরিবারের জন্য প্লট বরাদ্দ রাখা হয়েছে । অধিকাংশ পরি বারের কাছে ইতিমধ্যে প্লট হস্তান্তর করা হয়েছে । পদ্মা সেতু প্রকল্পে ৫ হাজার পরিবার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে । পুনর্বা সন কেন্দ্রগুলো ঘুরে দেখা যায় , পরিকল্পিতভাবে দৃষ্টিনন্দিত করে সাজানো হয়েছে । কেন্দ্রগুলোতে স্কুল , কলেজ , মসজিদ , স্বাস্থ্যকেন্দ্র , মার্কেট মেড , পানির ট্যাংক , পাকা রাস্তা রয়েছে ।

    পরিবেশের ভারসাম্যে পদ্মা সেতুর ভূমিকা

     পদ্মা সেতু প্রকল্পকে কেন্দ্র করে নদীর দুই পাড়ে বিস্তীর্ণ এলাকায় নদীর পাড় বাধা হয়েছে । ফলে ওই এলাকায় নদীভাঙ্গন রোধ হবে । এছাড়া নদীর দুই পাড়ে এবং সংযোগ সড়কের রাস্তার দুই পাশে বৃক্ষরোপণ হচ্ছে । সবুজায়নের ফলে ওই এলাকা মরুকরণের হাত থেকে রক্ষা পারে । আবার বর্তমানে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ জ্বালানি হিসেবে কাঠ ব্যবহার করে বলে অবাধে বৃক্ষনিধন হয় । কিন্তু পদ্মা সেতু প্রকল্পের মাধ্যমে ওই অঞ্চলে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সং যোগ দেওয়া সহজ হবে । এতে মানুষের জ্বালানির চাহিদা পূরণ হবে । ফলে বৃক্ষনিধন কমে যাবে এবং পরিবেশের ভার সাম্য রক্ষা পারে ।

    স্বপ্নের পদ্মা সেতু 

     প্রশস্ত পদ্মা নদী জুড়ে একটি সেতু নির্মিত হয়েছে এবং নদীর দুইপাড়ের লাখ লাখ মানুষ যাতায়াতের জন্য এটি ব্যবহার করবে তা কেউ আন্দাজ করতে পারে নি । বা বন্ধু যমুনা সেতুর কাজ শেষ হওয়ায় আশাবাদী দক্ষিণ - পূর্বাঞ্চলের বাসিন্দারা । পদ্মার ওপরও সেতু নির্মিত হয়েছে । জনগণের স্বপ্ন ও প্রত্যাশা পূরণে বর্তমান প্রশাসনের আকাঙ্খা রয়েছে । পদ্মা সেতু বিশ্বে দীর্ঘতম সড়ক সেতুগুলোর মধ্যে ২৫ তম ৷৷ এটির দুটি স্তর রয়েছে ও অটোমোবাইল এবং ট্রেন উভয়ই এটির উপর দিয়ে যাতায়াত করবে । এটি বাগান এবং ফোয়ারা দ্বারা বেষ্টিত হবে । উভয় উপকূলে , পর্যটন কেন্দ্রিক সুযোগ সুবিধা এবং পরিবেশ নির্মাণ করা হবে । এটি হবে মানুষের পুনমিলনের এক ধর নের স্থাপত্য উপস্থাপনা । আগামী ২৫ জুন যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে পদ্মা সেতু । ২৫ জুন সকাল ১০ টায় সেতুর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা । পদ্মা সেতুর উদ্বোধন এবং নামকরণের বিষয়ে মঙ্গলবার দুপুরে গণভবনে থেকে বেরিয়ে অপেক্ষামান সাংবাদিকদের তিনি বলেন
    “ বহু প্রতিক্ষীত পদ্মা সেতু , সেটা করে উদ্বোধন হবে জানার আগ্রহ সবার মধ্যে সেই সুসংবাদ আপনাদের দিচ্ছি ”

    পদ্মা সেতু ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

    পদ্মা সেতু এশিয়ান হাইওয়ের পথ হিসেবে ব্যবহৃত হবে । অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন , পদ্মা সেতু চালু হলে দেশের আর্থিক প্রবৃদ্ধি বাড়বে । পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়িত হওয়ার পর ঢাকা শহর থেকে মাওয়া মহাসড়ক পর্যন্ত ১৩ কিলোমিটার দীর্ঘ উড়াল সড়ক স্থাপিত হবে । পদ্মাসেতুকে ঘিরে হংকং - এর আদলে নগর গড়ার পরিকল্পনা রয়েছে । মাওয়া থেকে পোস্তগোলা পর্যন্ত চার লেনের সড়ক হবে ।

    উপসংহার 

    পদ্মা সেতু বাংলাদেশের মানুষের একটি স্ব প্নের নাম যা আজ বাস্তবায়িত হওয়ার পথে ।। এটি আমাদের অর্থনীতির চেহারা পাল্টে দেবে । এই সেতুর ফলে দেশের দক্ষিণা ঞ্চলে গড়ে উঠবে শিল্পকারখানা , গার্মেন্টস , গোডাউন প্রভৃতি । ব্যবসা - বাণিজ্যে আসবে নতুন গতি । নানা অনিশ্চয়তাকে পাশ কাটিয়ে নিজেদের ঢাকায় বাঙালির স্বপ্ন এখন বাস্তবের পথে । এই - অচিরেই বদলে দেবে দেশের অর্থনীতি , উন্নত করবে মানুষের জীবনযাত্রা ।

    “ পদ্মা সেতু আমাদের অহংকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ” 


     পদ্মা সেতু রচনা pdf

    Title পদ্মা সেতু রচনা pdf

    PDF Size

     
     363 kb

     Total Page 4

    Click Here To  Download 


    Tag:পদ্মা সেতু রচনা, স্বপ্নের পদ্মা সেতু বাংলা রচনা,  padma bridge bangla পারাগ্রাফ

                                   

    0/Post a Comment/Comments

    Previous Post Next Post

      আপনার নামের অর্থ জানতে ক্লিক করুন


    আমাদের ফেসবুক পেইজে যুক্ত হতে ক্লিক করুন