চুলকানি দূর করার সহজ উপায় | এলার্জি চুলকানি ঔষধের নাম | চুলকানির হোমিও ঔষধের নাম | চুলকানির ক্রিমের নাম স্কয়ার | বাচ্চাদের চুলকানির ঔষধ


       
       

    চুলকানি দূর করার সহজ উপায়

    চুলকানির কারণ—

    চুলকানি হল লক্ষণ আর অ্যালার্জি হল কারণ। যা অ্যালার্জেন্স ঘটিত। অর্থাৎ কোনও একটি বিশেষ উপাদান শরীর নিতে না পরলে তার প্রতিক্রিয়া অ্যালার্জি। অ্যালার্জিতে তাঁরাই বেশি আক্রান্ত যাঁদের রক্তে ইওসিনোফিলের মাপ বেশি। বেশিরভাগ সময় অ্যালার্জির ক্ষেত্রেও চুলকানিটা একটা লক্ষণ, কারণ শরীরের অ্যালার্জেনের প্রতিক্রিয়া বা বহিঃপ্রকাশ হল ইনফ্লেমেশন অর্থাৎ জ্বালা-যেটা চুলকানির রূপে প্রকাশ পায়। এই চুলকানি শরীরে যে কোনও স্থানে হতে পারে।


    চুলকানি দূর করার ঘরোয়া উপায়

    টি-ট্রি অয়েল


    টি-ট্রি অয়েল এলার্জি থেকে মুক্তি পাওয়ার দুর্দান্ত উপায়। টি-ট্রি অয়েলও ত্বকের অ্যালার্জিতে খুব সহায়ক। এটিতে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল এবং অ্যান্টিআইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা অনেক ত্বকের অ্যালার্জি থেকে মুক্তি দেয়। । ত্বকের লালচেভাব এবং চুলকানি থেকে মুক্তি পেতে টি-ট্রি অয়েল একটি দুর্দান্ত বিকল্প।

    অ্যাপল সিডার ভিনেগার

    অ্যাপল সিডার ভিনেগার সাধারণত ওজন হ্রাস এবং হজমজনিত সমস্যা দূর করতে ব্যবহার করা হয়, তেমনটা নয়। তবে ওজন হ্রাস করা বা ডায়রিয়াস নিরাময়ের জন্য এটি কেবল দুর্দান্ত স্কিনকেয়ার এজেন্টই নয়। এটিতে অ্যাসিটিক অ্যাসিড রয়েছে যা ত্বকে চুলকানি এবং অ্যালার্জির প্রভাব কমায়। তবে সংবেদনশীল ত্বকে এর ব্যবহার ঠিক নয়।
    এক কাপ গরম জলে এক টেবিল চামচ আপেল সিডার ভিনেগার মিশিয়ে নিন। এবার তুলার সাহায্যে কার্যকর জায়গায় এই মিশ্রণটি লাগান। এবার এটি শুকনো ছেড়ে রেখে ঠান্ডা জলে ধুয়ে ফেলুন। ত্বকের অ্যালার্জি থেকে মুক্তি পেতে আপনি দিনে অন্তত দু'বার এটি করতে পারেন।

    নারিকেল তেল 

    নারকেল তেল স্কিন কেয়ারের জন্য সেরা । এটিতে ময়েশ্চারাইজিং রয়েছে যা অ্যালার্জির ক্ষেত্রে ত্বককে সুরক্ষা দেয়। শুধু তাই নয়, নারকেল তেল অ্যালার্জির কারণে চুলকানিও কমায়। একটি বাটিতে সামান্য নারকেল তেল নিন এবং ৫ সেকেন্ডের জন্য গরম করুন। তারপরে আপনি যেখানে অ্যালার্জির লক্ষণ দেখছেন সেই জায়গায় এই গরম তেলটি প্রয়োগ করুন। মনে রাখবেন, এ্যালার্জির জায়গায় রেখে দিন, ম্যাসাজ করবেন না। এক ঘন্টা রেখে দিন। ৩-৪ ঘন্টা পর পর নারকেল তেল ব্যবহার করতে পারেন। এটি ত্বকের অ্যালার্জি উপশম করবে।

    অ্যালোভেরা জেল

    অ্যালোভেরার ওষধি গুণাগুণ সম্পর্কে আমরা সবাই অবগত। অ্যালোভেরা বিভিন্নভাবে ব্যবহৃত হয়। কিছু লোক এটি রস হিসাবে ব্যবহার করে। এটি ত্বকের অ্যালার্জি থেকে মুক্তি পাওয়ার সেরা উপায়। অ্যালার্জির কারণে যদি আপনার ত্বকের চুলকানি এবং শুকনো সমস্যা হয় তবে অ্যালোভেরার ওষধি গুণগুলির জন্য দ্রুত জ্বালা এবং চুলকানি থেকে মুক্তি দেয়। চুলকানি থেকে মুক্তি পেতে প্রথমে কিছুটা তাজা অ্যালোভেরা নিয়ে ত্বকে লাগান। আপনার যদি অ্যালোভেরা না থাকে তবে আপনি অ্যালোভেরা জেলটি ব্যবহার করতে পারেন। অ্যালোভেরা জেলটি ৩০ থেকে ৪০ মিনিটের জন্য রেখে দিন, চুলকানি এবং জ্বলন্ত সমস্যা কিছু দিনের মধ্যে মুক্তি পাবে।

    এলার্জি চুলকানি ঔষধের নাম 

    [যে কোন ওষুধ ব্যাবহারের পূর্বে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। নিজ দায়িত্বে ওষুধ ব্যাবহার করে স্বাস্থ্যঝুঁকি নিবেন না।‌]

    চুলকানি থেকে মুক্তি দিতে পারে এমন ওষুধগুলির মধ্যে রয়েছে। 

    অ্যান্টিহিস্টামিন (চুলকানি, হাঁচি ও সর্দিতে ব্যাবহৃত হয়) 

    ★ডাইফেনাহাইড্রামিন
    ★সিটিরিজিন
    ★লোরাটিডিন
    ★ডেসলোরাটিডিন
    ★ফেক্সোফেনাডিন


    [এলার্জি রোগের নানান কারণ থাকতে পারে যেমন শরীরের মধ্যে কোন মারাত্মক রোগ থাকলে এলার্জির পরিমাণ বেড়ে যায় ত্বকের কোন রোগ দেখা দিলে অ্যালার্জি হতে পারে। তাই এলার্জি দেখা দেওয়া মাত্রই আপনাকে ভালো বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ বা ঔষধ সেবন করা উচিত।]

    চুলকানির হোমিও ঔষধের নাম


    ★Calendula Officinalis : ক্যালেন্ডুলা এই ঔষধটি ভ্যাসলিনের সাথে মিশিয়ে মলম আকারে ব্যবহার করা যায় এতে ভালো উপকার পাওয়া যায়,  এর ব্যবহার অনেকটাই সহজ কারণ এটি আপনি যেকোন ভ্যাসলিন কিংবা যেকোন ক্রিমের সাথে মিশিয়ে ত্বকে ব্যবহার করতে পারেন।  চর্মরোগ বা চুলকানির মেডিসিন ব্যবহারের পূর্বে আপনাকে একটি বিষয় ভালোভাবে খেয়াল রাখতে হবে আসলে আপনার এই রোগটির  জন্য শরীরের অন্য কোন রোগ দায়ী কিনা।

    Sulphur : সালফার চুলকানির একটি শ্রেষ্ট ঔষধ। সালফারের প্রধান প্রধান লক্ষণগুলো যেমন সকাল ১১টার দিকে ভীষণ খিদে পাওয়া, শরীর গরম লাগা, রাতে চুলকানি বৃদ্ধি পাওয়া, গরমে চুলকানি বৃদ্ধি পাওয়া, মাথা গরম কিন্তু পা ঠান্ডা, মাথার তালু-পায়ের তালুসহ শরীরে জ্বালাপোড়া ইত্যাদি পাওয়া গেলে অবশ্যই সালফার প্রয়োগ করতে হবে।

    Lapis alba : লেপিস স্ত্রী যৌনাঙ্গের চুলকানিতে একটি কাযর্কর ঔষধ। ইহার প্রধান প্রধান লক্ষণ হলো জ্বালাপোড়া, সূঁই ফোটানো-হুল ফোটানো ব্যথা, রাক্ষুসে ক্ষুধা, মিষ্টি খাবারের প্রতি ভীষণ লোভ ইত্যাদি।

    চুলকানির ক্রিমের নাম 

    চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পারমিথ্রিন ক্রিম বা বেনজাইল বেনজোয়েট লোশন এবং পেভিসন ক্রিম ইত্যাদি সঠিক নিয়মে ব্যবহার করতে হবে। তবে পরিস্থিতি বেশি খারাপ হলে বা ঘা হয়ে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হলে অ্যান্টিবায়োটিক লাগতে পারে। চুলকানি কমাতে অ্যান্টিহিস্টামিন খাওয়া যাবে।

    বাচ্চাদের চুলকানির ঔষধ 

    নীচে বাচ্চাদের চুলকানির মলম রয়েছে যা আপনি আপনার সন্তানের অস্বস্তি কাটিয়ে উঠতে চেষ্টা করতে পারেন, যথা:

    কর্টিকোস্টেরয়েড মলম—

    শিশুদের একজিমা বা চুলকানি কর্টিকোস্টেরয়েডযুক্ত একজিমা মলম দ্বারা চিকিৎসা করা যেতে পারে। বাচ্চাদের চুলকানির এই মলমটি চুলকানির ত্বকে দিনে দুবার সরাসরি প্রয়োগ করা হয়।

    [তবে মনে রাখবেন যে কর্টিকোস্টেরয়েড মলম ব্যবহার অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী হওয়া উচিত। ]

    ★ময়শ্চারাইজিং ক্রিম—

    আপনার শিশুর ত্বকে আর্দ্রতা আটকে দেওয়ার কার্যকারিতা ছাড়াও, ময়েশ্চারাইজিং ক্রিমও প্রতিরক্ষামূলক ত্বকের ield লাল হতে পারে এবং একজিমার কারণে চুলকানি থেকে মুক্তি দেয়। ময়শ্চারাইজিং ক্রিম লাল, স্ফীত এবং চুলকানিযুক্ত ত্বক নিরাময় করে না, তবে কেবল ত্বকের সুরক্ষা ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করে।

    ★দস্তা লোশন—

    লিংক, মলম বা ক্রিম যা জিংক অক্সাইড ধারণ করে তাও এক ধরণের medicineষধ যা আপনার ছোট চুলকানি ত্বকে কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করার জন্য ভাল। দস্তা লোশন ত্বকে একটি প্রতিরক্ষামূলক স্তর গঠন করে এবং আর্দ্রতা বজায় রেখে কাজ করে। দস্তা লোশন এছাড়াও ত্বকে প্রদাহ হ্রাস করতে পারে, অ্যান্টিব্যাক্টেরিয়াল বৈশিষ্ট্যযুক্ত, নতুন ত্বকের কোষগুলির বিকাশকে উদ্দীপিত করে এবং ত্বকে চুলকানি কমাতে সহায়তা করে। জিঙ্ক লোশন বা ক্রিমগুলি ডায়াপার র্যাশগুলির চিকিৎসার জন্যও ভাল।

    পায়ের চুলকানি দূর করার সহজ উপায় 

    ঘরোয়া পদ্ধতিতে পায়ের চুলকানি দূর করা সহজ উপায়গুলো নিচে দেওয়া হলোঃ

    ১. হেনা বা মেহেদি শুধু চুলের জন্যই ভাল নয়। হেনার পেস্ট যদি পায়ের ইনফেকশনে লাগান, তাহলে তা তাড়াতাড়ি শুকায়।

    ২. কাঁচা হলুদ বাটাও পায়ের ইনফেকটেড জায়গায় লাগালে সহজে ও শীঘ্রই রেহাই পাওয়া যায়।

    ৩. পায়ের পাতায় খুব বেশি চুলকানি হলে লেবুর রস ও ভিনিগার  মিশিয়ে তা লাগান।

    ৪. কাঁচা পেঁয়াজের রস ভাল করে পায়ে মালিশ করুন। এতে ক্ষত তাড়াতাড়ি শুকাবে।

    ৫. পুদিনা পাতা ও তুলসী পাতা বেটে তা পায়ের পাতায় লাগালেও উপকার পাবেন।

    ৬. ইনফেকশন থেকে পায়ে দুর্গন্ধ হলে পেপারমিন্ট অয়েল পায়ের পাতায় লাগান। শীঘ্রই উপকার পাওয়া যায় এই টোটকাতেও।



    চুলকানি বা ত্বকের এ্যালার্জি থেকে মুক্তির উপায়


    ১. কোল্ড শাওয়ার- একটি ঠান্ডা স্নান ত্বকের জ্বালা এবং অ্যালার্জি হ্রাস করতে সহায়তা করে। একটি শীতল ঝরনা আপনার রক্তনালীগুলি সঙ্কুচিত করতে সহায়তা করে এবং হিস্টামিন বেরোতে দেয় না। এটি অ্যালার্জির তীব্রতা এবং ত্বকের জ্বালাও হ্রাস করে।

    ২. অলিভ অয়েল- অতিরিক্ত ভার্জিন জলপাই তেল দুর্দান্ত ময়েশ্চারাইজার হিসাবে আশ্চর্য করে। ভিটামিন ই সমৃদ্ধ, অ্যালার্জির সমস্যা পরে ত্বক নিরাময় এবং মেরামত করতে সহায়তা করে এবং চুলকানি হ্রাস করে।

    ৩. বেকিং সোডা- বেকিং সোডা ত্বকের অ্যালার্জির জন্য একটি দুর্দান্ত ঘরোয়া উপায়। এটি ত্বকের ফুসকুড়ি দূর করতে সহায়তা করে, চুলকানি থেকে মুক্তি দেয় এবং ত্বকের আরও প্রদাহ রোধ করে।

    ৪. অ্যাপল সিডার ভিনেগার- অ্যাপল সিডার ভিনেগার হ’ল অনেক রোগের জন্য আশ্চর্য নিরাময়। এতে প্রচুর এসিটিক অ্যাসিড রয়েছে যা শক্তিশালী অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল এবং অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ট্যযুক্ত। এই দুটি সমন্বিত বিভিন্ন ধরণের ত্বকের অ্যালার্জিতে জড়িত র্যাশগুলিকে চিকিৎসা করতে সহায়তা করতে পারে।

    ৫.নিম পাতা- নিম পাতার ওষধি গুণাবলী জন্য ভারতে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত আরও একটি জনপ্রিয় ভেষজ। এটি প্রদাহ বিরোধী বৈশিষ্ট্যের কারণে লালচেভাব, ফোলাভাব এবং চুলকানি লাঘব করতে পারে।


    নাকের এলার্জি রোধে করণীয়

    ★বিভিন্ন কারণে নাকে এলার্জির সমস্যা হতে পারে। আসুন জেনে নিই বেশ কিছু কারণ।

    ১. রাস্তার ধুলা, পুরনো বইপত্র বা পত্রিকায়, বাসার পুরনো ধুলোজমা কসমেটিকস, ফুলের রেণু ও পশুপাখির লোম থেকে এলার্জি হতে পারে। 

    ২. গাড়ি থেকে নির্গত কালো ধোয়া, সিগারেটের ধোয়া, শিল্পকারখানার বিভিন্ন উপাদানও এলার্জির আরেকটি কারণ।  

    ৩. কিছু খাবার রয়েছে যেমন- ইলিশ মাছ, বোয়াল মাছ, চিংড়ি, বেগুন ও হাঁসের ডিম থেকেও এলার্জি হতে পারে। 

    ৪. শীতকালে শুষ্ক আবহাওয়ায় বাতাসে ধুলাবালি বেশি থাকে। তাই এ সময় সমস্যা বেশি হয়ে থাকে। 


    ★প্রতিরোধে কী করবেন

    এলার্জি প্রতিরোধের একমাত্র উপায় হলো– কারণ শনাক্ত করে তা এড়িয়ে চলা। রোগীকে প্রথমেই বুঝতে হবে কী কারণে তার এলার্জির সমস্যা হয়।  

    এলার্জি চিকিৎসার প্রথম ধাপ হলো হেলথ এডুকেশন। যাদের এই সমস্যা আছে, তারা শীতের ধুলাবালি ও গাড়ির কালো ধোয়া থেকে নিরাপদ থাকতে মাস্ক ব্যবহার করতে হবে।


    ★চিকিৎসা

    যদিও এলার্জির কারণ এড়িয়ে চলা এই রোগের প্রধান চিকিৎসা। এই রোগের প্রধান ওষুধ হলো– এন্টি-হিস্টামিন, স্টেরয়েডজাতীয় নাকের স্প্রে। এ ছাড়া বয়সভেদে মন্টেলুকাস্ট জাতীয় ট্যাবলেট বেশ কার্যকর। 

    [তবে যে কোনো ওষুধ ব্যবহারের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।]



    Tag: চুলকানি দূর করার সহজ উপায়,  এলার্জি চুলকানি ঔষধের নাম,  চুলকানির হোমিও ঔষধের নাম,  চুলকানির ক্রিমের নাম স্কয়ার,  বাচ্চাদের চুলকানির ঔষধ, পায়ের চুলকানি দূর করার সহজ উপায়, চুলকানি বা ত্বকের এ্যালার্জি থেকে মুক্তির উপায়, নাকের এলার্জি রোধে করণীয় 

                                   
    Previous Post Next Post
    আমাদের ফেসবুক পেইজে যুক্ত হতে ক্লিক করুন