৭ম/সপ্তম শ্রেণির ১২শ/দ্বাদশ সপ্তাহের এসাইনমেন্ট ২০২১ উত্তর/সমাধান কর্ম ও জীবনমুখী শিক্ষা (এসাইনমেন্ট-২) | ২০২১ সালের ৭ম/সপ্তম শ্রেণির ১২শ/দ্বাদশ সপ্তাহের কর্ম ও জীবনমুখী শিক্ষা এসাইনমেন্ট সমাধান/উত্তর


    ৭ম/সপ্তম শ্রেণির ১২শ/দ্বাদশ সপ্তাহের এসাইনমেন্ট ২০২১ উত্তর/সমাধান কর্ম ও জীবনমুখী শিক্ষা (এসাইনমেন্ট-২)  

    উত্তরঃ 

    আমরা নিজের সম্পর্কে যে বিচার , মতামত , মূল্যায়ন করি সেটাই হলাে আত্মমর্যাদা । অন্যভাবে বললে , আমাদের সম্পর্কে নিজের যে আবেগীয় মূল্যায়ন এবং নিজের প্রতি নিজের যে দৃষ্টিভঙ্গি , নিজের প্রতি নিজের অনুভূতি , সেটাই হলাে আত্মসম্মান বা আত্মমর্যাদা । স্মিথ অ্যান্ড ম্যাকলের ( ২০০৭ ) মতে , আমরা নিজের সম্পর্কে যা কিছু মনে করি , সেটাই হলাে আত্মমর্যাদা ।

    আত্মমর্যাদা কিভাবে তৈরি হয় : আত্মসম্মান সারাজীবনের অভিজ্ঞতার আলােকে তৈরি হয় । অতীত অভিজ্ঞতাগুলাে যদি ইতিবাচক হয় , তাহলে আপনার মধ্যে উচ্চ আত্মসম্মানবােধ তৈরি হবে । আর যদি নেতিবাচক হয় , তাহলে নিম্ন আত্মসম্মানবােধ তৈরি হবে । অতীত এবং বর্তমান জীবনের সব আন্তঃব্যক্তিক সম্পর্কগুলােও আত্মসম্মান তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে । যদি আপনার প্রতিটি সম্পর্ক সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা করতে পারেন , দায়িত্বগুলাে সঠিকভাবে পালন করতে পারেন , তাহলে আত্মসম্মানবােধ বেড়ে যাবে । জীবনে যত মানুষের সাথে দেখা হয়েছে , সবাই হয় আপনার আত্মসম্মানবােধ বাড়িয়ে দিয়েছে ; না হয় কমিয়ে দিয়েছে । তবে আত্মসম্মানবােধ সময়ের সাথে সাথে পরিবর্তন হতে পারে।


    আত্মমর্যাদার প্রকারভেদ : 

    সাধারণত তিন রকমের আত্মমর্যাদাবােধ দেখা যায় । একই ব্যক্তির মধ্যে সময়ের পরিক্রমায় আত্মসম্মানের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যেতে পারে ।

    তারা অন্যের কথা শুনতে চান না এবং নিজের সমালােচনা সহ্য করতে পারেন না বা মেনে নেন না । নিজের ভুল - ভ্রান্তিগুলাে শুধরে নিতে চান না । অনবরত অন্যকে দোষারােপ করে থাকেন । উপরন্তু তারা অন্যদের অবমূল্যায়ন করেন এবং তাদের প্রতি শত্রুভাবাপন্ন আচরণ করেন । এ ধরনের স্ফীত আত্মসম্মানী মানুষের পক্ষে অন্যদের সাথে আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে তােলা সম্ভব হয় না । তারা সব সময় অন্যকে নিজের প্রতিপক্ষ মনে করেন। 


    উচ্চ আত্মসম্মানবােধ : উচ্চ আত্মসম্মানবােধ সম্পন্ন ব্যক্তি যেমনই হােক , নিজেকে গ্রহণ করেন এবং নিজেকে মূল্য দেন । এটি ইতিবাচক আত্মসম্মান । যেখানে ব্যক্তি নিজের জীবন নিয়ে সন্তুষ্ট থাকেন । তাদের জীবনে যে বাধা - বিপত্তিগুলাে আসে , সেটা তারা নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস ও সাহস দিয়ে মােকাবিলা করে সামনে এগিয়ে যান । আত্মমর্যাদা বাড়ানাের উপায় : যদিও আত্মমর্যাদাবােধ ছােটবেলা থেকেই গড়ে ওঠে । 

    তবুও নিন্মােক্ত উপায়গুলাের মাধ্যমে একজন ব্যক্তি আত্মমর্যাদা বাড়াতে চেষ্টা করতে পারেন : 

    ।১. যে বিষয়গুলাে আপনি ভয় পান বা ভয়ের কারণে করা থেকে দূরে থাকেন , প্রথমেই সেই ভয়গুলােকে দূর করুন । ভয়গুলােকে আকাশের তারায় পরিণত করুন । যাতে সেটা থেকে দূরে না গিয়ে সেগুলাে সাথে নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে পারেন । একটি কাজ আগে করার অভিজ্ঞতা থাকুক বা না থাকুক , সুযােগ পেলে সেটি করার চেষ্টা করুন । সফল না হলেও অভিজ্ঞতার খাতায় সেটিই যােগ করুন । ব্যর্থতাকে স্বাগত জানান , পরবর্তীতে উন্নতির জন্য । 

    ২. বুদ্ধিমত্তার সাথে যেটা পারবেন না , বা যেটা করা সম্ভব নয় সেটা এড়িয়ে চলুন । সব কাজ সবার জন্য নয় । একজন মানুষ সব কাজ করতে পারে না । যখন আপনি সহজেই নিশ্চিত | হবেন , কোনাে একটি বিষয় পুরােপুরি আপনার আয়ত্তের বাইরে , সেটি এড়িয়ে যাওয়া উত্তম । 

    ৩. পৃথিবীতে অন্যের জন্য যা - ই কিছু করেন না কেন , সেটির একটি বিনিময় আশা করেন । আপনার কোনাে বন্ধুর বিপদে সহযােগিতা করলে স্বভাবতই আপনার বিপদে তার সহযােগিতা আশা করবেনই । কিন্তু আত্মমর্যাদার উন্নয়নে মাঝে মাঝে মানুষের জন্য বিনিময় প্রত্যাশা না করে কিছু করুন মনে প্রশান্তি আসবে ।

    8. কেউ আপনার জন্য ছােটখাটো কোনাে উপকার করলেও তাকে ধন্যবাদ দিন । হতে পারে কাজটি ব্যক্তি কর্তব্য বা দায়িত্ব ছিল আপনার জন্য করার । তবুও তাকে ধন্যবাদ দিন , অভিনন্দন জানান । একইভাবে , কোনাে কিছুর জন্য কেউ আপনাকে অভিনন্দন বা ধন্যবাদ জানালে , সেটি হাসিমুখে গ্রহণ করুন । এটি মানব চরিত্রের গুরুত্বপূর্ণ একটি দিক ।

    ৫. একজন ব্যক্তি হিসেবে , পেশাজীবী হিসেবে আপনার দায়িত্বগুলাে যথাযথভাবে গ্রহণ করুন এবং তা করতে আন্তরিক হন । কোনাে সহযােগিতা লাগলে সেটির জন্য জিজ্ঞেস করুন।  

    ৬. নিজের জীবনের সঠিক , বাস্তবিক এবং অর্জনযােগ্য লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ঠিক করুন । যত বাধাই আসুক , আপনার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের দিকে ধাবিত হােন পাখির চোখের মত অন্যের দ্বারা প্রভাবিত না হয়ে স্ব - উদ্যোগী হয়ে নিজেকে চালিত করুন ।

    ৭.নিজেকে সব সময় ইতিবাচক অটো সাজেশন দিন । আমি পারবাে , আমার দ্বারা সম্ভব , সব কিছু ঠিক হয়ে যাবে' এরকম মন - মানসিকতা ধারণ করুন। 

    ৮. যত বিপদই আসুক , আঘাত আসুক , ধৈর্য ধারণ করুন । নিজের রাগকে ইতিবাচকভাবে প্রকাশ করুন । আপনার সময় আসবেই । 

    ৯. আপনার ভালাে দিকগুলাে এবং যেসব দিক উন্নতি করতে হবে , সেগুলাে সব আলাদা করে তালিকা করুন । আপনার ভালাে দিকগুলাে বেশি বেশি অনুশীলন করুন , কাজে লাগান এবং উন্নতির দিকগুলাে উন্নয়নে উদ্যোগী হােন ।

    ১০. ইতিবাচক থাকুন । নিজের অধিকার , মতামত , অনুভূতিগুলাে প্রকাশ করুন অন্যের অধিকার , মতামত এবং অনুভূতিগুলােকে অবজ্ঞা , অশ্রদ্ধা না করে । ‘ না ’ বলার দরকার হলে অন্যকে আঘাত না করে ‘ না ’ বলুন । পাশাপাশি অন্যের মতামত , অনুভূতি এবং আবেগকে মূল্য দিতে গিয়ে নিজেকে কষ্ট দেবেন না । তুমিও ঠিক , আমিও ঠিক ' - এরকম চিন্তা - ভাবনা ধারণ করুন । তিতা 

    ১১. নিজের সম্পর্কে নিজের নেতিবাচক চিন্তা বা ধারণাগুলাে লিপিবদ্ধ করুন । এরপর সেগুলােকে চ্যালেঞ্জ করুন । আপনার সেই ধারণার পক্ষে বেশিরভাগ সময়ই কোনাে প্রমাণ পাবেন না । তাই নিজের সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা ত্যাগ করুন ।

    ১২. ইতিবাচক আন্তঃব্যক্তিক সম্পর্কের উন্নয়ন করুন । সম্পর্কের মধ্যে যথাযথ সীমানা নির্ধারণ করুন । সম্পর্কের মধ্যে ব্যক্তিগত সীমানা অতিক্রম করবেন না । আপনার আশেপাশে যারা আপনাকে খারাপ অনুভব করতে বাধ্য করে , তাদের পরিত্যাগ করুন । যাদের সান্নিধ্যে আপনি আত্মবিশ্বাস অনুভব করেন , তাদের সাথে বেশি সময় কাটান । নীতিবান এবং আদর্শবান রােল মডেলদের অনুকরণ করুন ।

    ১৩. নিজের জীবনের অতীত ভুলগুলাের জন্য নিজেকে ক্ষমা করে দিন । অন্যরা কী মনে করবে ? ' এমন চিন্তা বন্ধ করুন । যদি তা - ই করেন , তাহলে আপনি নিশ্চিন্তে কোনাে কাজ করতে পারবেন না । নিজের কাছে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হােন যে , অন্য মানুষ যা - ই চিন্তা করুক ; সেটি নিয়ে আপনি দুশ্চিন্তা করবেন না । আপনি কী করতে চাচ্ছেন , সেটাই করুন । অন্যরা কী চিন্তা করবে , সেটা না । 


    সবশেষে বলব , নিজে যেমনই হােন না কেন , ছােট মনে করবেন না , নিচে নামাবেন না । প্রতিটি মানুষের আলাদা কিছু বৈশিষ্ট্য আছে । নিজেকে অন্য কারাে সাথে অহেতুক তুলনা করবেন না । আপনার তুলনা শুধুই আপনি ।


    ২০২১ সালের ৭ম/সপ্তম শ্রেণির ১২শ/দ্বাদশ সপ্তাহের কর্ম ও জীবনমুখী শিক্ষা এসাইনমেন্ট সমাধান/উত্তর



    Tag: ৭ম/সপ্তম শ্রেণির ১২শ/দ্বাদশ সপ্তাহের এসাইনমেন্ট ২০২১ উত্তর/সমাধান কর্ম ও জীবনমুখী শিক্ষা (এসাইনমেন্ট-২),  ২০২১ সালের ৭ম/সপ্তম শ্রেণির ১২শ/দ্বাদশ সপ্তাহের কর্ম ও জীবনমুখী শিক্ষা এসাইনমেন্ট সমাধান/উত্তর

    Previous Post Next Post