এইচএসসি এসাইনমেন্ট ২০২১ উত্তর /সমাধান ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র (এসাইনমেন্ট ২) | ২০২১ সালের এইচএসসি ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা এসাইনমেন্ট সমাধান (২য় পত্র)


    ২০২১ সালের এইচএসসি ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা এসাইনমেন্ট সমাধান (২য় পত্র)


    শিরোনামঃ ব্যবস্থাপনার ধারণা

    সমাধানঃ

    ব্যবস্থাপনা বা পরিচালনার ধারণা: 

    ইংরেজী শব্দ ম্যানেজমেন্ট ( Management ) এর বাংলা অর্থ ব্যবস্থাপনা । এর আরেক বাংলা অর্থ পরিচালনা । ব্যবস্থাপনা বা পরিচালনা খুব সার্বজনীন ঘটনা । কোন প্রতিষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য যে বিষয়টি প্রথমেই বিবেচনা করা হয় তা হচ্ছে ব্যবস্থাপনা । উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য প্রতিষ্ঠানে নিয়ােজিত সকল কর্মী , অর্থনৈতিক সম্পদ , সকল উপায় - উপকরন সংগ্রহ , সুসংহত এবং পরিচালনা করাকেই ব্যবস্থাপনা বলা হয় । ব্যবস্থাপনা ছাড়া কোন প্রতিষ্ঠান বা কোন ব্যবসা চলতে পারে না ।
    Bodybuilding elbow brace : where to buy online winstrol 50 black coffee versus green tea bodybuilding . 
    ব্যবস্থাপনা হল ব্যবসায় উদ্যোগের কার্যক্রম পরিকল্পনা , সংগঠন , কর্মী পরিচালনা , সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণের প্রক্রিয়া । এটিকে নেতৃত্বের কৌশল , সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং সমন্বয় সাধনের মাধ্যম হিসাবেও বর্ণনা করা হয় । এটি একটি স্বতন্ত্র চলমান প্রক্রিয়া । এই প্রক্রিয়ার অধীনে , একটি ক্রমবর্ধমান ব্যবসায়িক পরিবেশে সংগঠনের কর্মীদের মাধ্যমে কাজ সম্পাদিত হয় । 

    ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব বা প্রয়ােজনীয়তা Importance of Management : 

    ব্যবস্থাপনা একটি নিরবচ্ছিন্ন কার্যক্রমের সমষ্টিগত প্রক্রিয়া । ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়ার কার্যসমূহ হচ্ছে পরিকল্পনা , সংগঠন , কর্মসংস্থান , নির্দেশনা ও নেতৃত্বদান , প্রেষণা , সমন্বয়সাধন ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনা এমন সব মৌলক কার্য নির্দেশিকাকে বুঝায় যা ব্যবস্থাপনার জন্য পথ - নির্দেশ হিসেবে কাজ করে এবং যে কোন সংগঠনে প্রয়ােগ করা যায় । ব্যবস্থাপকদের আদেশ - নির্দেশ দেয়ার অধিকার আছে যাতে তারা কর্মীদের দিয়ে কাজ করি । নিতে পারে । কর্মীরা যাতে স্বাধীনভাবে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারে সে ব্যবস্থা করতে হবে । কর্মীদের উদ্যোগ উৎসাহিত করা ব্যবস্থাপকের কর্তব্য । 
    নিচে ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব বর্ণনা করা হলঃ

    ১. লক্ষ্য অর্জন ও ( Achievement of Goal ) : প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানের একটা নির্দিষ্ট লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য থাকে । এই উদ্দেশ্যকে ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন কার্যাবলীর সাহায্যে বাস্তবায়িত করা হয় । সুতরাং ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য বা লক্ষ্য অর্জনে ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব অপরিসীম । 

    ২.দক্ষতা বৃদ্ধি ( Increase Efficiency ) : উদ্দেশ্য অর্জনের সংগে সংগে প্রশিক্ষণও সুষঠু পরিচালনার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের দক্ষতা বৃদ্ধি করার জন্য ব্যবস্থাপনা গুরুত্ব ভূমিকা পালন করে ।

    ৩ , ব্যবসায়ের উপকরণাদির উন্নয়ন ( Development of Business Components ) : ব্যবসায় - বাণিজ্যে ছয়টি উপকরণ রয়েছে । যথা মানুষ , কাঁচামাল , যন্ত্রপাতি , অর্থ , পদ্ধতি ও বিপনণ ( Man , Material , Machine , Money , Method & Marketing )  ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই এই উপকরণাদি সংগৃহীত , একত্রিত , পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত 

    ৪. উৎপাদনের উপকরণাদির সুষঠু ব্যবহার ( Proper Utilization of Production Factors ) : ধরুন একটি প্রতিষ্ঠানে শ্রমিক কর্মীর সংখ্যা যথেষ্ট , মূলধনেরও সমস্যা নেই , উন্নতমানের যন্ত্রপাতি এবং বিস্তৃত বাজারও রয়েছে । এখন এগুলােসঠিক ভাবে কাজে লাগাবে না যতক্ষণ পর্যন্ত না এগুলাের পেছনে দক্ষ ব্যবস্থাপনা ক্রিয়াশীল হবে । তাই উৎপাদনের উপকরণ সমূহের সঠিক ব্যবহারের জন্য দক্ষ ব্যবস্থাপনা প্রয়ােজন । 

    ৫. মানব ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন ( Human & Economic Development ) : ব্যবস্থাপনার সাহায্যে মানুষের প্রচেষ্টা সমন্বিত হয় এবং কাজের উৎসাহ পাওয়া যায় । এতে স্বতঃস্ফুর্ত কাজের পরিবেশ সৃষ্টি হয় যা অর্থনীতির অনুকূল পরিবর্তন সাধন করে ।

    ৬. অপচয় হ্রাস ( Reduction of Wastage ) : বর্তমানকালে ব্যবস্থাপনার শ্লোগান হল , কম খরচে বেশী উৎপাদন । ' এজন্যে বর্তমান ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থাপক ও শ্রমিকদের কার্যের মান ও দক্ষতা বৃদ্ধি করে , উৎপাদনে শৈল্পিক পরিবেশ নিশ্চিত করে এবং সমস্ত উপকরণ সমূহের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করে কারবার প্রতিষ্ঠানের অপচয় হ্রাস করে ।

    ৭.শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ( Establishment of Discipline ) : শৃংখলা যে কোন প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ । এজন্য দেখা যায় যে , ব্যবস্থাপক তাঁর প্রতিষ্ঠানের বা এর কোন বিভাগের সকল কর্মী ও উপকরণের মধ্যে সমন্বয় সাধন ও ভারসাম্য স্থাপন করেন এবং শৃংখলা প্রতিষ্ঠার দ্বারা এদের প্রত্যেকের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করেন । 

    ৮. সম্পর্ক উন্নয়ন ( Development of Relationship ) : ব্যবস্থাপনা মালিক ও শ্রমিক অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানের সাথে সম্পর্কিত সকল পক্ষের মধ্যে উত্তম সম্পর্ক সৃষ্টি ও উন্নয়নে সচেষ্ট থাকে । শুধু তাই নয় সঠিক ব্যবস্থাপনা ক্রেতা বা ভােক্তা এবং বিদেশী উদ্যোক্তাদের সাথে সম্পর্ক সৃষ্টি করে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে । 

    ৯. নেতৃত্ব প্রদান ( Leading ) : উত্তম ব্যবস্থাপনা হচ্ছে নেতৃত্বের গভীরতা ও প্রসারতার বহিঃপ্রকাশ । ব্যবস্থাপনা ব্যতীত কোন মতবাদ , দলীয় কার্যাবলী উৎপাদন বৃদ্ধির সহায়ক হয় না । 

    ১০ , কর্মসংস্থানের সুযােগ সৃষ্টি ( Creation of Employment Opportunity ) : দক্ষ ব্যবস্থাপনা কোন প্রতিষ্ঠানের সম্প্রসারণ ও নতুন নতুন প্রতিষ্ঠান গড়তে সহায়তা করে । তাই দেখা যায় , পৃথিবীর যে দেশ শিল্প ক্ষেত্রে যত অগ্রগতি লাভ করেছে , সে দেশে তত বেশী নতুন নতুন কর্মসংস্থানের সুযােগ সৃষ্টি হয়েছে । 

    ১১ . গবেষণা ও উন্নয়ন ( Research & Development ) : বিজ্ঞানীরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে যে জ্ঞান আবিষ্কার করে , দক্ষ ব্যবস্থাপনার কারণেই তাকে বাস্তবে রূপদান ও এর সুফল জনগণের দ্বারে পৌঁছে দেয়া সম্ভব হচ্ছে ।

    ব্যবস্থাপনার কার্যাবলি ( Functions of Management ) 

    প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য অর্জনের নিমিত্তে এর মানবীয় ও অমানবীয় ( Human & Non - human ) উপকরণের সঠিক ব্যবহার ও সুষই পরিচালনার জন্য ব্যবস্থাপকগণ যেসব কাজ সম্পাদন করেন , সেগুলােকেই ব্যবস্থাপনার কার্যাবলি বলে । ব্যবস্থাপনার কার্যাবলি সম্পর্কে বিভিন্ন লেখক বিভিন্ন রকম মতামত দিয়েছেন । তবে আধুনিক লেখকদের মতে ব্যবস্থাপনার মুখ্য কাজ চারটিঃ পরিকল্পনা , সংগঠন , নেতৃত্বদান ও নিয়ন্ত্রণ । এগুলাের ভেতরে আরও প্রাসঙ্গিক কাজ রয়েছে যেমন কর্মসংস্থান , প্রেষণা ও সমন্বয়সাধন ইত্যাদি । ব্যবস্থাপনার কার্যসমূহ ধারাবাহিকভাবে সম্পাদিত হয় বিধায় এগুলােকে ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়াও বলা হয় ।

    ১. পূর্বানুমান ও পরিকল্পনা ( Forecasting and Planning ): ও লক্ষ্য অর্জনের জন্য পরিকল্পনা প্রণয়নের পূর্বে অতীত ও বর্তমানের উপাত্ত বিশ্লেষণ করে একটি পূর্বাভাস প্রণয়ন করতে হয় । কার্যকর ও নিপুণ পূর্বানুমানের উপর পরিকল্পনার সফল প্রয়ােগ নির্ভর করে । আর ভবিষ্যতে কোন্ কাজ কোথায় , কখন , কিভাবে , কার দ্বারা সম্পাদন করা হবে তার পূর্বনির্ধারিত সিদ্ধান্তই পরিকল্পনা । ধরুন , আপনাদের কয়েকজন শিক্ষার্থীদেরকে একটি শিল্প প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা সফরে পাঠানাে হচ্ছে । এক্ষেত্রে কোন শিল্প প্রতিষ্ঠানে যাওয়া হবে , কখন , কিভাবে এবং কত সময়ের জন্য যাওয়া হবে তা পূর্বেই নির্ধারণ করতে হবে । আর এটাই হচ্ছে পরিকল্পনা । এই পরিকল্পনা হচ্ছে ব্যবস্থাপনার প্রথম ও প্রধান কাজ । মূলত প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য ভবিষ্যতে কে , কখন , কোথায় , কিভাবে এবং কত সময়ের মধ্যে কোন কাজ সম্পন্ন করবে তা পূর্বেই নির্ধারণ করার নামই পরিকল্পনা । প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য ও নীতি নির্ধারণ , প্রকল্প গ্রহণ , কৌশল , পলিসি ও কর্মসূচী নির্ধারণ , বাজেট প্রণয়ন প্রভৃতি পরিকল্পনার আওতাভুক্ত । পরিকল্পনা গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান তার অতীত অভিজ্ঞতা , বর্তমান পারিপার্শ্বিক অবস্থা এবং এর সামর্থ ও দুর্বলতার উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন বিকল্পসমূহ হতে সর্বোত্তমটি বেছে নেয় ।

    ২. সংগঠিতকরণ ( Organising )ঃ সংগঠন হচ্ছে গৃহীত পরিকল্পনাকে বাস্তবায়িত করার কৌশল । তাই বলা যায় কোন প্রতিষ্ঠানের পূর্ব নির্ধারিত উদ্দেশাবলী বাস্তবায়নের জন্য প্রয়ােজনীয় কার্য নির্দিষ্ট করে বিভিন্ন প্রকৃতির কার্যাবলীকে বিভিন্ন বিভাগে ভাগ করা , অতঃপর কার্য সম্পাদনে বিভাগের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের দায়িত্ব কি হবে , তাদেরকে কতটুকু কর্তৃত্ব ও ক্ষমতা দিতে হবে তা নির্ধারণ করা , অবশেষে যে সব ব্যক্তি , বিভাগ অথবা উপবিভাগ থাকবে তাদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক কি হবে তা নির্ধারণ করাই হচ্ছে সংগঠন । এ সমস্ত কার্যকে যখন কোন কাঠামাে বা রূপরেখায় প্রকাশ করা হয় তখন তাকে সংগঠন কাঠামাে বলে । 

    ৩. কর্মীসংস্থান ( Staffing )ঃ সংগঠিতকরণের পরের কাজটি হলাে প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রয়ােজনীয় কর্মী সংগ্রহ করা । ব্যবস্থাপনাকে সাংগঠনিক কাঠামাে অনুযায়ী প্রয়ােজনীয় শ্রমিক - কর্মীর সংখ্যা নির্ধারণ , উপযুক্ত কর্মী নির্বাচন , নিয়ােগদান , প্রশিক্ষণ , পদোন্নতি ইত্যাদি কাজগুলাে সম্পন্ন করতে হয় । 

    ৪. নির্দেশনা ও নেতৃত্বদান ( Directing and Leading ) ও প্রতিষ্ঠানের পরিকল্পনা অনুযায়ী কার্যসম্পাদনের জন্য কর্মীদেরকে নির্দেশ প্রদান করতে হয় । কর্মীরা কোন্ কাজ কখন করবে , কিভাবে করবে এ সম্পর্কিত আদেশ প্রদানকেই সাধারণভাবে নির্দেশনা বলে । নেতা হিসেবে ব্যবস্থাপক কর্মীদের নির্দেশনা প্রদান করেন , প্রয়ােজনীয় উপদেশ ও পরামর্শ প্রদান করেন , তত্ত্বাবধান করেন , সর্বোপরি তাদের সাথে সার্বক্ষণিক যােগাযােগ রক্ষা করেন । তাই নির্দেশনা হলাে ব্যবস্থাপনার সঞ্জীবনী শক্তি ।

    ৫. প্রেষণা ( Motivation ) ও কর্মীদের মধ্যে আগ্রহ জাগ্রত করার প্রক্রিয়াকে প্রেষণা বলে । কর্মীদের সুবিধা - অসুবিধা , আবেগ - অনুভূতি , সুখ - দুঃখ , অভাব - অভিযােগ ইত্যাদি সঠিক বিবেচনায় রেখে বিভিন্ন আর্থিক ও কল্যাণমূলক কর্মসূচি গ্রহণ করে কর্মীদেরকে কার্যে প্রেষণা দেওয়া হয় । প্রেষণার মাধ্যমে কর্মী পূর্ণ উদ্যমে দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করে । 

    ৬. সমন্বয়সাধন ( Coordination )ঃ সমন্বয়সাধন হলাে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন বিভাগে কর্মরত ব্যক্তিদের কাজের মধ্যে যােগসূত্র স্থাপনের প্রক্রিয়া । পারস্পরিক যােগাযােগের মাধ্যমে কাজের ব্যাপারে ঐক্যমত প্রতিষ্ঠা করা হয় । এতে কাজে ভারসাম্য আসে , শৃঙ্খলার সৃষ্টি হয় এবং উন্নত সেবা নিশ্চিত করে দ্রুত লক্ষ্য অর্জন করা যায় । সমন্বয়সাধন হলাে এমন একটি প্রক্রিয়া যা সংগঠনের সকল বিভাগের কাজের মধ্যে মিলন ঘটায় । 

    ৭. নিয়ন্ত্রণ ( Controlling)  ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়ার শেষ ধাপ হল নিয়ন্ত্রণ । পরিকল্পনা অনুযায়ী কার্যক্রম ঠিকমত সম্পাদন করা হচ্ছে কিনা কিংবা ব্যবস্থাপকগণের নির্দেশ মােতাবেক কার্য সম্পাদিত হচ্ছে কি - না তা দেখা এবং কোনরূপ বিচ্যুতি হলে তার সংশােধনকরাকেই নিয়ন্ত্রণ বলে । নিয়ন্ত্রণ মূলত : Verification of Performance , 

    প্রতিষ্ঠান সার্বিক সাফল্যের জন্য ব্যবস্থাপনার কার্যাবলী যে ভাবে

    ১. কার্যবিভাগ ( Division of Work ) : হেনরী ফেয়ল এ নীতিকে প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় ব্যবস্থাপকীয় ও কারিগরী সংক্রান্ত কার্যাবলীর ক্ষেত্রে প্রয়ােগ করার কথা বলেছেন । এ নীতি অনুযায়ী প্রত্যেক কর্মীর কাজের আওতা নির্দিষ্ট হওয়া বাঞ্ছনীয় বা জরুরী যাতে দক্ষতা সহকারে শ্রম ব্যবহার করা যায় । এ নীতির ফলে প্রত্যেক কর্মী ও নির্বাহী তাদের নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে বিশেষায়িত জ্ঞান অর্জন করতে পারে । 

    ২. কর্তৃত্ব ও দায়িত্ব ( Authority and Responsibility ) : এই নীতিতে বলা হয়েছে যে , কর্তৃত্ব ও দায়িত্ব পরস্পর নিবিড় ভাবে সম্পর্কিত । কোন কর্মীকে কার্য সম্পাদন করার জন্য কর্তৃত্ব অর্পন করার সাথে সাথে প্রয়ােজনীয় দায়িত্ব ও প্রদান করতে হবে । আবার এরূপ কর্তৃত্ব ও দায়িত্বের মধ্যে ভারসাম্য থাকা উচিত , অন্যথায় কার্যক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দেয় । 

    ৩. শৃঙ্খলা বা নিয়মানুবর্তিতা ( Discipline ) : ফেয়লের ভাষায় শৃঙ্খলা হচ্ছে মান্যতা , প্রয়ােগ , শক্তি ও শ্রদ্ধার সংমিশ্রণ । প্রতিষ্ঠানের প্রত্যেক ক্ষেত্রেই শৃঙ্খলা অপরিহার্য । সংক্ষেপে শৃঙ্খলা হচ্ছে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তার অধীনস্থ কর্মচারীদের হতে কি প্রত্যাশা করেন তা সংশ্লিষ্ট সকলকে অবগত করানাে কার্য সম্পাদনের জন্য উপযুক্ত তদারকির ব্যবস্থা করা এবং ঐসব কাজ সম্পাদিত না হলে প্রয়ােজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া । 

    8 . আদেশের ঐক্য ( Unity of Command ) : এ নীতির মূল কথা হল , প্রতিষ্ঠানের প্রত্যেক কর্মী শুধুমাত্র একজন উপরওয়ালা বা বস এর অধীনে থাকবে এবং তার আদেশ গ্রহণ করবে । কারণ দুইজন বসের অধীনে একজন কর্মী সুষ্ঠুভাবে কাজ করতে পারে না । এক্ষেত্রে বিশৃঙ্খলা এবং সমস্যা দেখা দেয় ।

    ৫. নির্দেশনার ঐক্য ( Unity of Direction ) : এ নীতির মূল অর্থ হচ্ছে , সংগঠনের প্রতিটি উদ্দেশ্যের জন্য শুধুমাত্র  একজন প্রধান ও একটি মাত্র পরিকল্পনা থাকবে । অর্থাৎ একই উদ্দেশ্য বিশিষ্ট কার্যাবলীর জন্য একটিমাত্র পরিকল্পনা থাকবে এবং ঐ সকল কার্য সম্পাদনের নির্দেশ ও প্রদান করবেন একজন কর্মকর্তা । প্রতিটি বিভাগ ও উপ বিভাগের কর্মকর্তারা মূল উদ্দেশ্যের সাথে সামঞ্জস্য রেখে নিজ নিজ বিভাগের কার্যসম্পাদনের জন্য নির্দেশ প্রদান করবেন । 

    ৬. সাধারণ স্বার্থের জন্য নিজের স্বার্থ ত্যাগ ( Subordination of Individual to General Interest ) : প্রাতিষ্ঠানিক বৃহৎ স্বার্থকে ব্যক্তিস্বার্থের উর্ধ্বে স্থান দিতে হবে । অধিকন্তু সাংগঠনিক উদ্দেশ্য ও ব্যক্তির উদ্দেশ্যের মধ্যে যাতে কোন অসংগতি বা সংঘাত না থাকে তা নিশ্চিত করতে হবে ।

    ৭. পারিশ্রমিক ( Remuneration ) : সুষ্ঠু ও ন্যায্য বেতন এবং মজুরী কাঠামাের প্রবর্তন করে শ্রমিক - কর্মীদেরকে সর্বাধিক সন্তুষ্টি প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে । ফেয়ল বলেন যে , পারিশ্রমিক ন্যায্য হতে হবে এবং এটা প্রদান করার যুক্তিসংগত বা সঠিক পন্থা থাকতে হবে । 

    ৮. কেন্দ্রীকরণ ( Centralisation ) : প্রতিষ্ঠানের কোন ধরনের সিদ্ধান্ত এর কোন পর্যায়ের ব্যবস্থাপকগণ নিবে সেটা নির্ধারণ করাই হচ্ছে কেন্দ্রীকরণের উদ্দেশ্য । সাধারণত প্রতিষ্ঠানে উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত থাকে এবং নিম্নস্তরের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বিকেন্দ্রিভূত থাকে । ফেয়ল বলেন , কর্তৃত্বের কেন্দ্রীকরণ ও বিকেন্দ্রীকরণের পরিমাণ প্রতিষ্ঠানের প্রয়ােজনে বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণের দ্বারা নিরুপিত হওয়া উচিত । 

    ৯. জোড়া - মই - শিকল ( Scalar Chain ) : প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ স্তর থেকে সর্বনিম্ন স্তর পর্যন্ত কর্তৃত্ব প্রবাহের একটি শিকল বা চেইন থাকবে । এই শিকল কর্তৃত্বের প্রবাহ ও যােগাযােগের উর্ধ্বগতি বা নিম্নগতি নির্দেশ করে । তবে জরুরী কাজে সংগঠনের নীচ স্তরের মধ্যে সরাসরি যােগাযােগের ব্যবস্থা থাকবে ।


    এইচএসসি এসাইনমেন্ট ২০২১ উত্তর /সমাধান ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র (এসাইনমেন্ট ২) 



    Tag: এইচএসসি এসাইনমেন্ট ২০২১ উত্তর /সমাধান ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র (এসাইনমেন্ট ২),  ২০২১ সালের এইচএসসি ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা এসাইনমেন্ট সমাধান (২য় পত্র)

    Previous Post Next Post