ষষ্ঠ/৬ষ্ট শ্রেণির শারিরীক শিক্ষা ও স্বাস্থ্য এসাইনমেন্ট সমাধান/উত্তর ২০২১ (১০ম সপ্তাহ) | ষষ্ঠ/৬ষ্ট শ্রেণির দশম সপ্তাহের শারিরীক শিক্ষা ও স্বাস্থ্য এসাইনমেন্ট সমাধান/উত্তর ২০২১ | আমার দৈনন্দিন জীবনে অনুশীলনকৃত ব্যায়াম এবং তার উপকারিতা


    ষষ্ঠ/৬ষ্ট শ্রেণির দশম সপ্তাহের শারিরীক শিক্ষা ও স্বাস্থ্য এসাইনমেন্ট সমাধান/উত্তর ২০২১


    আমার দৈনন্দিন জীবনে অনুশীলনকৃত ব্যায়াম এবং তার উপকারিতা


    ভূমিকা : 

    সুস্থ দেহেই সুস্থ মনের বাস । আর সুস্থ - সুন্দর মনই পারে একটা উন্নত জাতির জন্ম দিতে । সুস্থ ও উন্নত জাতি দেশকে উন্নতি ও সমৃদ্ধির স্বর্ণশিখরে আরােহণ করাতে পারে । দেশকে সমৃদ্ধিশালী করার এ ধারাবাহিকতাকে ক্রমানুসারে সাজালে আমার পাই , সুস্থ দেহ- সুস্থ মন , উন্নত জাতি , উন্নত দেশ । 

    অর্থাৎ গােড়ার কথা হলাে শারীরিক সুস্থতা । এর জন্যে চাই নিয়মিত ব্যায়াম । কেননা , ব্যায়মই দৈহিক শক্তি লাভের তথা সবল স্বাস্থ্য লাভের পথ উন্মুক্ত করে দেয়। 


    ব্যায়াম : 

    দেহ ও মনের সুস্থতা ও আনন্দলাভের জন্য শারীরিক অঙ্গ সঞ্চালনকে ব্যায়াম বলে । ব্যায়াম যেকোন শারীরিক কার্যক্রম যা শারীরিক সুস্থতা রক্ষা বা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে । এর অপর একটি অর্থ হল শরীরের বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত আন্দোলন ।খেলাধুলাও ব্যায়াম এর অন্তর্ভুক্ত । 

    খেলাধুলার মাধ্যমে অঙ্গ সঞ্চালন হয় এবং আনন্দ লাভ করা যায় । বিভিন্ন চিত্ত বিনােদন মূলক খেলার মাধ্যমে অঙ্গসঞ্চালন বা ব্যায়াম করা যায় । শরীরের সামগ্রিক সুস্থতা রক্ষার্থে ব্যায়ামের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা প্রমাণিত ।


    ব্যায়ামের সাথে জীবনের সম্পর্ক : 

    ব্যায়ামের সাথে জীবনের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড় | জীবনে সফল হতে হলে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ । ব্যায়াম মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে । ব্যায়াম মানুষের মৃত্যুঝুঁকি কমায় । পরিমিত ব্যায়াম মানুষের মস্তিষ্কের কার্যকারিতা এবং স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করে । 

    মানুষের ব্যক্তিত্ব তৈরিতে ব্যায়াম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে । শরীরের রােগ প্রতিরােধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে ব্যায়াম এর গুরুত্ব অপরিসীম । নিয়মিত শরীরচর্চার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে শৃঙ্খলাবােধ ও নেতৃত্বের গুণাবলী গড়ে ওঠে । যা প্রত্যাহিক জীবনে সুশৃংখল জীবনযাপনের সাহায্য করে । সামাজিক গুণাবলী অর্জনে ব্যায়াম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে । তাই আমাদের জীবনে ব্যায়ামের অবদান


    ব্যায়ামের প্রকারভেদ : 

    ব্যায়াম দুই ধরনের । যথা : 

    ১ ) সাধারণ ব্যায়াম : শরীর গরম করার জন্য যে কোন ধরনের ব্যায়ামকে সাধারণ ব্যায়াম বলে । 

    ২ ) নিদিষ্ট ব্যায়াম : কোন নিদিষ্ট উদ্দেশ্য বা সকল অঙ্গের উন্নতির জন্য যে ব্যায়াম হয় তাকে নির্দিষ্ট ব্যায়াম বলে ।


    আমার অনুশীলনকৃত একটি ব্যায়াম এর তালিকা নিয়ে তৈরি করা হলাে :


    ব্যায়ামের উপকারিতা : 

    ব্যায়ামের মাধ্যমে যেসব উপকার পাওয়া যায় তা সংক্ষেপে নিম্নে উপস্থাপন করা হল :


    ( ১ ) অঙ্গপ্রত্যঙ্গের উন্নতি : 

    ব্যায়াম দেহ কাঠামাের সুষম উন্নতি ও বৃদ্ধি সাধন করে | দেহের উন্নতির সাথে সাথে মনকে স সতেজ করে । ফলে শরীরের শক্তি ও সহনশীলতা বাড়ে । ব্যায়ামের ফলে শরীরের রক্ত চলাচল বৃদ্ধি পায় , হৃৎপিণ্ডের কর্মক্ষমতা বাড়ে এবং হজমশক্তি ও রােগ প্রতিরােধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় ।

    ( ২ ) পাঠের একঘেয়েমি দূর করে : 

    শ্রেণিকক্ষে একটানা লেখাপড়া করলে ক্লান্তি ও একঘেয়েমি আসে । লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা করলে পাঠের একঘেয়েমি ও মানসিক ক্লান্তি দূর হয় , মনে সজীবতা আসে ও পড়াশােনায় মন বসে ।

    ( ৩ ) স্নায়ু ও মাংসপেশির সমন্বিত উন্নয়ন :

    শৈশবে শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দ্রুত বেড়ে ওঠে । শরীর বৃদ্ধি পেলেও অনেক সময় তার সাথে সামঞ্জস্য রেখে মানসিক বিকাশ হয় না । এর সমন্বয় ঘটানাের জন্য সঠিক নিয়মে অঙ্গসঞ্চালন প্রয়ােজন । হাত , পা ও ব্যায়াম একসাথে করতে হবে । শুধু হাতের ব্যায়াম করলে হাতের শক্তি বাড়বে আবার পায়ের ব্যায়াম করলে পায়ের মাংসপেশি বৃদ্ধি পাবে । সেজন্য শরীরের সব অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ব্যায়ামের মধ্যে সামঞ্জস্য রেখে অনুশীলন করতে হয় ।

    ( ৪ ) সুশৃঙ্খল জীবনযাপন : 

    নিয়মিত শরীরচর্চার মাধ্যমে শিক্ষার্থীর মধ্যে শৃংখলাবােধ ও নেতৃত্বের গুণাবলি গড়ে উঠবে । ফলে শিক্ষার্থী প্রাত্যহিক জীবনে সুশৃংখল জীবনযাপনে অভ্যস্থ হবে ।

    ( ৫ ) সামাজিক গুণাবলি অর্জন : 

    দলগত খেলাধুলা বা ব্যায়াম করলে শিক্ষক বা দলনেতার আদেশ মেনে শৃঙ্খলার সাথে খেলতে হয় | খেলায় হেরে গেলেও মেজাজ ও আবেগ নিয়ন্ত্রণে রেখে কাজ করতে হয় । আদেশ মেনে চলা , শৃঙ্খলা বজায় রাখা , মেজাজ ও আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা , সহযােগিতা করা- এই সামাজিক গুণগুলাে ব্যায়ামের মাধ্যমে অর্জন করা যায় । নিয়মিত ব্যায়াম খুবই প্রযােজন শারীরিক ফিটনেস ও ভালাে স্বাস্থ্যের জন্য।  এটা বড় বড় রােগ যেমন হৃদরােগ , ক্যান্সার , উচ্চ রক্তচাপ , ডায়াবেটিকস ও অন্যান্য রােগ হওয়ার ঝুঁকি কমায় । তাই সুস্থ থাকতে ব্যায়ামের কোন বিকল্প নেই ।


    সিদ্ধান্ত : 

    সভ্যতার সূচনালগ্ন থেকে দৈহিক শক্তি বৃদ্ধির জন্য শরীরচর্চার সূত্রপাত হয় । কেননা যেকোনাে সৃষ্টির পেছনে যে অক্লান্ত পরিশ্রম দরকার তার জন্য শারীরিক দক্ষতা সর্বাগ্রে বিবেচ্য । তাই সভ্যতার গােড়াপত্তনের সাথে সাথেই শরীরচর্চার প্রয়ােজনীয়তা উপলব্ধি উপলব্ধি হয় । 

    আমাদের দেশ দারিদ্র্যনির্ভর দেশ । দারিদ্র্য থেকে মুক্ত করতে হলে প্রযােজন উৎপাদনমুখী ব্যাপক পরিকল্পনা । আর এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্যে প্রযােজন দক্ষ ও কর্মক্ষম জনশক্তি | আর শরীরচর্চার মাধ্যমেই গড়ে উঠবে সেই জনশক্তি তাই জীবনকে সুন্দর ও সার্থক করে তুলতে হলে নিয়মিত এবং পরিমিত শরীরচর্চার প্রতি মনােযােগী হতে হবে।



    ষষ্ঠ/৬ষ্ট শ্রেণির শারিরীক শিক্ষা ও স্বাস্থ্য এসাইনমেন্ট সমাধান/উত্তর ২০২১ (১০ম সপ্তাহ)



    Tag: ষষ্ঠ/৬ষ্ট শ্রেণির শারিরীক শিক্ষা ও স্বাস্থ্য এসাইনমেন্ট সমাধান/উত্তর ২০২১ (১০ম সপ্তাহ),  ষষ্ঠ/৬ষ্ট শ্রেণির দশম সপ্তাহের শারিরীক শিক্ষা ও স্বাস্থ্য এসাইনমেন্ট সমাধান/উত্তর ২০২১,  আমার দৈনন্দিন জীবনে অনুশীলনকৃত ব্যায়াম এবং তার উপকারিতা
    Previous Post Next Post

    👇 সকল ক্লাসের এসাইনমেন্ট নোটিফিকেশন আকারে সহজে পেতে ডাউনলোড করুন আমাদের এপ্লিকেশন 

    আমাদের ফেসবুক পেইজে যুক্ত হতে ক্লিক করুন