বঙ্গবন্ধুর শিশু ভাবনা রচনা [ ১০০০,৮০০,৭০০শব্দ ] PDF | শিশুদের প্রতি বঙ্গবন্ধুর ভালোবাসা রচনা

 

বঙ্গবন্ধুর শিশু ভাবনা রচনা [ ১০০০,৮০০,৭০০শব্দ ] PDF | শিশুদের প্রতি বঙ্গবন্ধুর ভালোবাসা রচনা

   
       

    বঙ্গবন্ধুর শিশু ভাবনা রচনা

    ভূমিকাঃ 

    শিশুরা স্বপ্নের জগতে বাস করে, আর স্বপ্ন বাস করে বঙ্গবন্ধুর জীবনে। “ঘুমিয়ে আছে শিশুর পিতা, সব শিশুরই অন্তরে।” দেশকে যুগে যুগে যোগ্য নেতৃত্বের হাতে নিরাপদে রাখতে প্রতিটি শিশুকে তিনি গড়ে তুলতে চেয়েছেন আগামীর ভবিষ্যৎ হিসেবে। শিশুরা যেন সুন্দর আগামী, সোনার বাংলাদেশে বড় হতে পারেন তার জন্য তিনি আজীবন স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করে গেছেন। এমন চিন্তার অসংখ্য প্রতিফলন ঘটেছে তাঁর কন্টকাকীর্ণ দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে। দেশ গঠনে রাজনীতির কঠিন অধ্যায়ের বিকল্প যে শিশুদের জন্য কাজ করা তারও এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত তিনিই দেখিয়েছেন। শিশুদের অধিকার আদায়ে তিনি সর্বদা সচেষ্ট ছিলেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন শিশুদের প্রতি বন্ধুবৎসল।

    শিশুদের প্রিয় বঙ্গবন্ধুঃ

     ছোটদের বঙ্গবন্ধু খুব ভালোবাসতেন। স্নেহ করতেন। শিশুদের সঙ্গে সময় কাটাতে পছন্দ করতেন। ১৯৬৩ সালে তিনি শিশুদের টানে ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাব চত্বরে কচি-কাঁচার মেলা আয়োজিত শিশু আনন্দ মেলায় এসেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর ভাষায়, 'এই পবিত্র শিশুদের সঙ্গে মিশি মনটাকে একটু হালকা করার জন্য।' ছোট্ট এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শিশুদের প্রতি তার আন্তরিক ভালোবাসা চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে। ১৯৭২ সালে এক দিন কচি-কাঁচার মেলার কয়েকজন ক্ষুদে বন্ধু তাদের আঁকা মুক্তিযুদ্ধের ছবি নিয়ে যায় প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমানের বাসভবন গণভবনে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ নিজের চোখে দেখে শিশুরা প্রায় ৩০০ ছবি আঁকে। এর মধ্যে বাছাই করা ৭০টি ছবি রোকনুজ্জামান খান দাদা ভাই দেখান বঙ্গবন্ধুকে। ছবিগুলো বঙ্গবন্ধু রাশিয়া সফরের সময় সে দেশের শিশুদের জন্য নিয়ে যাবেন শুভেচ্ছা উপহার হিসেবে। বঙ্গবন্ধু খুব খুশি হলেন ক্ষুদে শিল্পীবন্ধুদের কাছে পেয়ে। তিনি তাদের হাসি মুখে আদর করলেন। তিনি আগ্রহ ভরে বাচ্চাদের আঁকা ছবিগুলো দেখছিলেন আর মন খুলে ছবি ও ছবির আঁকিয়েদের প্রশংসা করছিলেন। তিনি মুগ্ধ হয়ে বললেন, ‘আমার দেশের শিশুরা এমন নিখুঁত ছবি আঁকতে পারে, এসব না দেখলে তা বিশ্বাস করা যায় না।' বঙ্গবন্ধ বিভিন্ন সময়ে কচি-কাঁচার মেলা, খেলাঘরসহ অন্যান্য সংগঠনের শিশুবন্ধুদের অনুষ্ঠান ও সমাবেশে গিয়েছেন। তাদের মার্চপাস্ট, লাঠিখেলা, নাটক প্রভৃতি পরিবেশনা উপভোগ করেছেন। শিশুদের এমন উপস্থাপনা দেখে অভিভূত হয়েছেন। প্রশংসা করেছেন। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু শিশুদের শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অনেক গুরুত্ব দেন। উনি যখন দ্বিতীয় বিপ্লবের জন্য বাকশাল করলেন, তখন কচিকাঁচার মেলা ও খেলাঘরকে একত্রিত করে দুটিকে সরকারি শিশু প্রতিষ্ঠান করা হয়। শিশুদের দিকে কতটা নজর ছিল যে, দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচি বা বাকশাল ঘোষণার সময় এই দুটি প্রতিষ্ঠান যেহেতু প্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক তাদের দিয়ে তিনি জাতীয় শিশু সংগঠন গড়ে দিয়েছেন। এসব পদক্ষেপের বাইরেও বঙ্গবন্ধুর শিশুদের প্রতি টান ছিল অনন্য। ১৯৭২ সালের একদিন সকালে বঙ্গবন্ধু হাঁটতে বেরিয়েছেন, সঙ্গে বড় ছেলে শেখ কামাল। হঠাৎ বঙ্গবন্ধু দেখলেন কাঁধে বইয়ের ব্যাগ ঝুলানো একটি ছোট ছেলে খুঁড়িয়ে হাঁটছে। বঙ্গবন্ধু ছেলেটিকে কাছে ডেকে জানতে চাইলেন খুঁড়িয়ে হাঁটার কারণ। ছেলেটি জানাল তার পায়ে কী যেন ফুটছে, ব্যথা করছে। বঙ্গবন্ধু ছেলেটির পায়ের জুতা খুলে দেখেন জুতার ভেতর লোহার সুঁচালো মাথা বের হয়ে আছে। যার খোঁচায় পা দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। বঙ্গবন্ধু ছেলেটির চিকিৎসার জন্য তার দেহরক্ষীকে নির্দেশ দিলেন। হাতে কিছু টাকা দিয়ে পরম মমতায় ছেলেটিকে বিদায় দিলেন। তিনি এত সহজে, এত আন্তরিকভাবে শিশুদের সঙ্গে মিশে যেতেন যে, শিশুরাও তাকে খুব কম সময়ের মধ্যেই আপন করে নিত।

    বঙ্গবন্ধুর শিশু ভাবনাঃ 

    শিশুরাই আগামী প্রজন্ম। তারা গড়ে উঠুক কল্যাণকামী ও সৌন্দৰ্যমূলক জীবনবাদী দৃষ্টিভঙ্গির মধ্য দিয়ে। এই স্বপ্ন আমাদের চেতনায় জাগিয়ে দিয়েছেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধুর কাছে তাঁর শিশুপুত্র রাসেল ছিল বাংলাদেশের সব শিশুদের প্রতীক। তিনি অনুধাবন করেছেন শিশুর কাছে জাত-পাত, ধনী-গরিবের ভেদাভেদ নেই। স্বাধীন বাংলাদেশকে গড়তে হলে শিশুদেরও গড়তে হবে। ওদের ভেতরে দেশপ্রেম জাগাতে হবে। এ লক্ষ্যে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে শিশুসহ সকল নাগরিকের মৌলিক অধিকার দেয়া হয়েছে। সংবিধানের তৃতীয় অধ্যায়ে সকল নাগরিকের মৌলিক মানবাধিকারের নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়েছে। সংবিধানের ২৮(৪) অনুচ্ছেদে শিশুদের অগ্রগতির বিশেষ বিধান প্রণয়নের ওপর গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে এবং রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে শিশুদের জন্য অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষাসহ মৌলিক প্রয়োজনের ব্যবস্থা, সুযোগের সমতা, অধিকার ও কর্তব্য এবং জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতা বিষয়ের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। এই লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু শিশু উন্নয়নে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্ৰহণ করেন। প্রাথমিক শিক্ষাকে করেন বাধ্যতামূলক। ১৯৭৩ সালে ৩৭ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়কে করা হয় জাতীয়করণ। শিশুদের সার্বিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৯৭৪-এর ২২ জুন শিশু আইন প্রণয়ন করেন। বঙ্গবন্ধু সব শিশুর অধিকার নিশ্চিতে কাজ করতেন। এজন্য স্বাধীনতা পরবর্তী তিনি দেশে যেসব যুদ্ধশিশু জন্ম নিয়েছিল তাদেরসহ বীরাঙ্গনাদের পুনর্বাসনে বঙ্গবন্ধু গঠন করেন বাংলাদেশ পুনর্বাসন বোর্ড। ঢাকার ধানমন্ডিতে যে পুনর্বাসন কেন্দ্রটি ছিল তা পরিচালনা করতেন বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব। ১৯৭২ সাল জুড়ে অনেক যুদ্ধ শিশুর জন্ম হয়। বঙ্গবন্ধু সরকার এ সময় বিশ্বের নানা দেশে যুদ্ধ শিশুদের দত্তকের ব্যবস্থা করেন। এর জন্য ১৯৭২ সালে তিনি একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেন। বঙ্গবন্ধু বলতেন, 'শিশু হও। শিশুর মতো হও। শিশুর মতো হাসতে শেখো। দুনিয়ার ভালোবাসা পাবে।'

    উপসংহারঃ শিশুদের নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছিল অবারিত দুয়ার। শিশু কিশোর,তরুণতরুণী,যুবক, বৃদ্ধ সবার কাছেই বঙ্গবন্ধু ছিলেন মুজিব ভাই। বঙ্গবন্ধু চেয়েছিলেন এ দেশের শিশুরা শিল্প-সংস্কৃতি নিয়ে বাঁচুক। পড়াশুনার সাথে সাথে তারা শিল্প-সংস্কৃতির চর্চা করতে করতে বড় হোক। উনি এতটাই সংস্কৃতিমনা ছিলেন যে, উনি চাইতেন শিশুরা হাসবে, গাইবে, ছবি আঁকবে, গল্প লিখবে। শিশুরা হেসে-খেলে বড় হবে। এবং এজন্য উনি শিশুদের জন্য নির্দেশনাও দিতেন স্কুল বা সংগঠনগুলোতে, কচিকাঁচার মেলা বা তার সময়ে যেসব সংগঠন ছিল, সেগুলোতে। উনি বলতেন, এগুলোর খুব ভালো কাজ হতে হবে। কারণ সংস্কৃতি চর্চা না করলে সত্যিকার অর্থে ছেলে-মেয়েরা বড় হয়ে উঠতে পারবে না। ১৯৫৮ সালে শেখ মুজিবসহ বহু নেতাকর্মী গ্রেপ্তার হওয়ার আগ মুহূর্তে শেখ মুজিবুর রহমান তরুণদের এক যুগান্তকারী নির্দেশ দিয়ে গেলেন। বললেন, 'এই পাঁচ বছর তোমরা শিশু সংগঠন কচি-কাঁচার মেলার মাধ্যমে কাজ করো। নিজেদের সচল রাখো।' বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে ১৯৫৬ সালের ৫ অক্টোবর দেশের ঐতিহ্যবাহী শিশু সংগঠন 'কচি-কাঁচার মেলা' প্রতিষ্ঠিত হয়। এই শিশুদের সার্বিক মুক্তির লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু শিশু আইন প্রণয়ন, বাংলাদেশ শিশু একাডেমি, শিশু হাসপাতাল ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন করেন। বঙ্গবন্ধু আজীবন শিশুদের সাথে শিশুতোষ মন নিয়ে মেশার পাশাপাশি তাদের জন্য এনে দিয়ে ছেন স্বাধীন বাংলাদেশ যেখানে তারা শিরদাড়া উঁচু করে জীবনযাপন করবে।

                                   
    Previous Post Next Post
    আমাদের ফেসবুক পেইজে যুক্ত হতে ক্লিক করুন  

     


    (সবচেয়ে আগে সকল তথ্য,গুরুত্বপূর্ণ সকল পিডিএফ, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, Facebook এবং Telegram পেজ)