প্রতিবেদন - নিরক্ষরতা দূরীকরণের জন্য একটি বিশেষ এলাকার প্রতিবেদন

প্রতিবেদন - নিরক্ষরতা দূরীকরণের জন্য একটি বিশেষ এলাকার প্রতিবেদন, নিরক্ষরতা দূরীকরণের জন্য একটি বিশেষ এলাকার প্রতিবেদন রচনা, নিরক্ষরতা দূরীকরণের জন্য একটি বিশেষ এলাকার প্রতিবেদন রচনা বইয়ের

    নিরক্ষরতা দূরীকরণের জন্য একটি বিশেষ এলাকার প্রতিবেদন


    তারিখঃ
    বরাবর 
    পরিচালক গণশিক্ষা কার্যক্রম , 
    ঢাকা 

    বিষয় : নিরক্ষরতা দূরীকরণের জন্য একটি বিশেষ এলাকার প্রতিবেদন । 

    সূত্র : গ.কা. / ২০৮ / ১৩ ( ০২ )

    জনাব , 
    মাদারীপুর জেলার কালকিনি উপজেলার আলীনগর গামের নিরক্ষরতা দূরীকরণের জন্য একটি প্রতিবেদন তৈরির আদেশ পেয়ে নিচের প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করছি । একটি জাতির উন্নতির প্রধান হাতিয়ার শিক্ষা । একমাত্র শিক্ষার মাধ্যমেই পৃথিবীতে জাতি হিসেবে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা সম্ভব । তাই সকলের জন্য শিক্ষাগ্রহণ করা অপরিহার্য বিষয় । বর্তমানে সারাদেশে শিক্ষা দ্রুত প্রসার লাভ করলেও আমরা এখনাে নিরক্ষরমুক্ত হতে পারিনি । এখনাে অনেক গ্রামের সাক্ষরতার হার আশাব্যঞ্জক নয় , তার একটি আলীনগর গ্রাম । 
    এ এলাকা পরিদর্শন শেষে তথ্যানুসন্ধান পূর্বক তৈরি প্রতিবেদনটি নিম্নরূপ : 

    ১. আলীনগর প্রায় ২ বর্গকিলােমিটার আয়তনের একটি গ্রাম । গ্রামটি বেশ ঘনবসতিপূর্ণ এবং এখানে সাক্ষরতার হার মাত্র ২২ % । গ্রামটি আঁড়িয়াল খাঁ নদীর তীরে একটি চর এলাকায় এবং শহর থেকে অনেক দূরে অবস্থিত । তাই গ্রামের মানুষ আধুনিক সুযােগ - সুবিধা থেকে বঞিত । আর এর প্রধান কারণ নিরক্ষরতা । গ্রাম থেকে নিরক্ষরতা দূর করা না গেলে এখানকার মানুষের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নতি সম্ভব নয় । সেজন্য নিরক্ষরতা দূরীকরণের লক্ষ্যে একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি । 

    ২. নিরক্ষরতা দূরীকরণে গ্রামের অন্যদের শিক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে জানাতে হবে । শিক্ষার প্রয়ােজনীয়তা বুঝতে পারলেই তারা আগ্রহী হবে শিক্ষা গ্রহণে । এ ব্যাপারে গ্রামের বিত্তবান ও শিক্ষিত লােকদের এগিয়ে আসতে হবে । তারাই পারবে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করে গ্রামের নিরক্ষরতা দূর করতে ।

    ৩ , গ্রামের অশিক্ষিত লােকদের শিক্ষিত করার লক্ষ্যে গণশিক্ষা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করতে হবে । এ জন্য প্রথমে । বিত্তবান ব্যক্তিদের বাড়ি ব্যবহার করা যায় । পরবর্তীতে স্থায়ী বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে গ্রামের বয়স্ক নারী , পুরুষদের শিক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে । 

    ৪. গণশিক্ষায় শিক্ষকের দায়িত্ব হিসেবে দেওয়া যায় স্কুল - কলেজ পড়ুয়া ছাত্রছাত্রীদের । এ ছাড়া গ্রামের শিক্ষিত ব্যক্তিদের ওপরও এ দায়িত্ব দেওয়া যায় । সন্ধ্যার পর এর কার্যক্রম রাখলে সবার সুবিধা হয় । সারাদিন কাজের পর তারা পাঠ নিতে পারে । তবে শিক্ষকদের কাজটি হতে হবে স্বেচ্ছামূলক । গণশিক্ষার জন্য । প্রয়ােজনীয় উপকরণ বিতরণ করতে হবে বিনা মূল্যে । তাহলে তাদের মধ্যে শিক্ষা গ্রহণে আগ্রহ জন্মাবে । 

    ৫. শিক্ষার পাশাপাশি জনগণকে অন্যান্য বৃত্তিমূলক শিক্ষার সুযােগ দিতে হবে । তাদের পড়ালেখার পাশাপাশি অন্যান্য বিষয়েও পরামর্শ দিতে হবে । গ্রামের জনগণকে কৃষি , স্বাস্থ্য , পুষ্টি ও আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে জ্ঞানদান করতে হবে । তাদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে । জনসংখ্যা সমস্যার ভয়াবহতার কথা উল্লেখ করে এদেরকে পরিবার পরিকল্পনা সম্পর্কে সম্পূর্ণ ধারণা দেওয়াও অত্যাবশ্যকীয় । এ ছাড়া সমসাময়িক রাজনীতি ও অর্থনীতি সম্পর্কে ধারণা দিয়ে তাদেরকে গড়ে তুলতে হবে যথাযথ নাগরিক হিসেবে । সরকারি বিভিন্ন সুযােগ - সুবিধা প্রদান করে তাদের মাধ্যমে গ্রামীণ অবকাঠামােগত উন্নয়ন ঘটিয়ে সর্বোপরি দেশের উন্নয়ন সম্ভব । 

    ৬. শিক্ষাই পারে একটি জাতিকে উন্নতির চরম শিখরে পৌছাতে । গ্রামীণ উন্নয়নে তথা দেশের উন্নয়নে শিক্ষার কোনাে বিকল্প নেই । তাই গ্রামের লােকদের শিক্ষার গুরুত্ব বুঝিয়ে তাদের গণশিক্ষা কেন্দ্রে আসার আগ্রহ তৈরি করতে হবে । তাদের জীবনের অনগ্রসরতা দূর করার জন্যও প্রয়ােজন শিক্ষার । শিক্ষার আলাে সবার কাছে পৌছানাের যে কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে তার সুফল এ গ্রামেও ছড়িয়ে তাদের শিক্ষিত করে তুলতে হবে । 

    ওপরের উল্লিখিত পদ্ধতিগুলাে অবলম্বন করার মাধ্যমে আলীনগর গ্রামের নিরক্ষরতা দূর করা সম্ভব ।  

    নিবেদক 
    আতিকুর রহমান মাঠকর্মী , 
    গণশিক্ষা কেন্দ্র মাদারীপুর জেলা শাখা


    Tag: প্রতিবেদন - নিরক্ষরতা দূরীকরণের জন্য একটি বিশেষ এলাকার প্রতিবেদন, নিরক্ষরতা দূরীকরণের জন্য একটি বিশেষ এলাকার প্রতিবেদন রচনা, নিরক্ষরতা দূরীকরণের জন্য একটি বিশেষ এলাকার প্রতিবেদন রচনা বইয়ের
    Previous Post Next Post

    👇 সকল ক্লাসের এসাইনমেন্ট নোটিফিকেশন আকারে সহজে পেতে ডাউনলোড করুন আমাদের এপ্লিকেশন 

    আমাদের ফেসবুক পেইজে যুক্ত হতে ক্লিক করুন