বাংলাদেশের পোশাক শিল্প রচনা - বাংলাদেশের পোশাক শিল্প | Bangladesh Poshak Shilpo Rochona

বাংলাদেশের পোশাক শিল্প রচনা - বাংলাদেশের পোশাক শিল্প,  Bangladesh Poshak Shipo Rochona, বাংলাদেশের পোশাক শিল্প গুরুত্ব, বাংলাদেশের পোশাক শিল্প অনুচ্ছেদ রচনা, রচনা- বাংলাদেশের পোশাক শিল্প

    বাংলাদেশের পোশাক শিল্প রচনা

    ভূমিকা : বাংলাদেশে দুত বিকাশমান ও সর্বোচ্চ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী যেসব শিল্পখাত রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হলাে পােশাক শিল্প । বাংলাদেশে তৈরি পােশাক শিল্পের শতকরা একশ ভাগই রপ্তানিমুখী । প্রতিবছর বাংলাদেশের মােট দেশজ প্রবৃদ্ধির সিংহভাগই আসে এ খাত থেকে । এ খাত বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রতি বছর প্রচুর পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার জোগান দিচ্ছে । 

    পােশাক শিল্পে বাংলাদেশের অবস্থান : বাংলাদেশে তৈরি পােশাক দেশে - বিদেশে একটি বিশেষ স্থান অধিকার করে নিয়েছে । পােশাক রপ্তানিতে বিশ্বে বাংলাদেশের স্থান বর্তমানে দ্বিতীয় । বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের বাজার ছড়িয়ে রয়েছে বিশ্বের প্রায় ২৩ টি দেশে । আর এর সবচেয়ে বড় ক্রেতা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র । এ ছাড়া ফ্রান্স , কানাডা , বেলজিয়াম , জার্মানি , জাপান ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলােতে বাংলাদেশ পােশাক রপ্তানি করে । অস্ট্রেলিয়া ও রাশিয়াতেও সম্প্রসারিত হচ্ছে বাংলাদেশের পােশাকের বাজার । পােশাক শিল্প কারখানাগুলাে প্রায় ৩.৬ মিলিয়ন শ্রমিকের কর্মসংস্থানের সুযােগ করে দিয়েছে । এদের মধ্যে  ৭৭ ভাগই নারী শ্রমিক । দেশের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি জনগােষ্ঠীর এক বিরাট অংশের বেকারত্ব নিরসন সম্ভব হচ্ছে এ সম্ভাবনাময় শিল্পখাতটির মাধ্যমে । কিন্তু তারপরও পােশাক শিল্পের কতিপয় অভ্যন্তরীণ সমস্যা ও মুক্ত বাজার অর্থনীতির প্রবল চাপের মুখে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ এ শিল্পখাতটির ভবিষ্যৎ অনেকটা নাজুক হয়ে উঠেছে । তাই দুত প্রয়ােজনীয় ব্যবস্থা না নিলে প্রতিযােগিতামূলক বিশ্ববাজার থেকে আমরা পিছিয়ে পড়ব । 

    বাংলাদেশের অর্থনীতিতে পােশাক শিল্পের ভূমিকা : বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বিশেষ করে রপ্তানি খাতে প্রবৃদ্ধি বাড়াতে তৈরি পােশাক শিল্পের ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযােগ্য । এ খাতের সম্ভাবনা ও অবদানের প্রধান দিকগুলাে হচ্ছে : 
    ক . জাতীয় আয় বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন : প্রতি বছর জাতীয় আয়ের এক বিরাট অংশ আসে পােশাক শিল্প থেকে । অর্জিত হয় প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা । যা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে গতিশীল রাখতে সাহায্য করে । ২০১৫ সালে এই খাত থেকে আয় হয়েছে প্রায় ২৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার । বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন ২০১৬ সালে এই আয় আরও বৃদ্ধি পাবে এবং ২০২১ সাল নাগাদ এই আয় ৫০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হবে ।
    খ , রপ্তানি বৃদ্ধি : দেশে দু হাজারেরও বেশি পােশাক তৈরির কারখানা রয়েছে । দেশের অভ্যন্তরে প্রতিযােগিতার কারণে পণ্যের গুণগত মান বাড়ছে , রপ্তানি বাড়ছে , বাড়ছে রপ্তানি আয় । গ , বেকার সমস্যা নিরসন : দেশের পােশাক শিল্প কারখানাগুলােতে প্রায় পঁচিশ লাখ শ্রমিক কাজ করে । এদের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি নারী । আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে এসব শ্রমিকরা পাচ্ছে স্বাবলম্বী জীবন ও অর্থনৈতিক মর্যাদা । 
    ঘ , শিল্পের প্রসার : পােশাক শিল্পকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে আরও অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠান । এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পােশাক তৈরির প্রয়ােজনীয় উপকরণ সরবরাহ করে থাকে । এভাবে দুত শিল্পায়ন সম্ভব হচ্ছে ।  
    ঙ, পরিবহন শিল্পের অগ্রগতি : পােশাক শিল্পসামগ্রী আমদানি ও রপ্তানির জন্যে দেশের পরিবহন খাতেও আয় বাড়ছে । নিত্য - নতুন প্রযুক্তির সাথে বাংলাদেশ সম্পৃক্ত হতে পারছে । 

    পােশাক শিল্পে বিরাজমান সমস্যা : বাংলাদেশের পােশাক শিল্প সরকারের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের সহযােগিতা ও সুবিধা পেয়ে আসছে । কিন্তু তারপরও এ শিল্পখাতটিতে নানা ধরনের সমস্যা বিরাজমান । যেমন : 
    ১. রাজনৈতিক অস্থিরতা ; বিভিন্ন সময়ে দেশে বিরাজমান রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে চাহিদা অনুযায়ী পােশাক সরবরাহ ব্যাহত হয় । 
    ২. কাঁচামালের অভাব ; দেশে পর্যাপ্ত কাচামাল না পাওয়া গেলে বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয় । ফলে রপ্তানি আয়ের একটা বড় অংশ খরচ হয়ে যায় । অন্যদিকে উন্নত কাঁচামালের অভাবে তৈরি পােশাকের সুনাম নষ্ট হয় । 
    ৩. বিভিন্ন ধরনের পােশাক তৈরিতে সীমাবদ্ধতা : বিশ্ববাজারে প্রায় ১১৫ ধরনের পােশাকের চাহিদা রয়েছে । বাংলাদেশ সরবরাহ করতে পারে ৫ থেকে ১০ রকমের পােশাক । ফলে প্রতিযােগিতায় বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়ছে । 
    ৪,দক্ষ শ্রমিকের সংকট : পােশাকশিল্পে দক্ষ শ্রমিকদের সংকট একটি বড় সমস্যা । এ শিল্পের সিংহভাগই নারী । নারীদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় এ শিল্পে বাধ্য হয়েই অদক্ষ নারী শ্রমিক নিয়ােগ দিতে হয় । দক্ষ পুরুষ শ্রমিকেরও যথেষ্ঠ অভাব রয়েছে । 
    ৫ , শ্রমিকদের পেশাগত নিরাপত্তার অভাব : শ্রমিকরা প্রায়ই নানা ধরনের দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে । অগ্নিকাণ্ড , পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যুর মতাে ঘটনা ঘটছে প্রায়ই । 
    ৬ , শ্রমিকদের মজুরি বৈষম্য : অন্যান্য শিল্পের তুলনায় পােশাক শিল্পের শ্রমিকদের মজুরি অনেক কম । রয়েছে নারী শ্রমিকদের বেতন বৈষম্য । দীর্ঘ শ্রমঘণ্টা , অনিয়মিত বেতন শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করে । 
    ৭. অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ : নিরাপদ পানি , পরিবেশ ও পেশাগত ঝুঁকির কারণে অনেক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়ে । মজুরি কম হওয়ায় তাদের কোনাে সঞ্চয় থাকে না । তার ওপর কোনাে কারণে কাজে অনুপস্থিত থাকলে বেতন কেটে নেওয়া হয় । এ ছাড়াও রয়েছে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার অভাব , বিদ্যুৎ সমস্যা , আমলাতান্ত্রিক জটিলতা প্রভৃতি । 

    সমস্যা সমাধানের উপায় : যেহেতু পােশাক শিল্প অত্যন্ত লাভজনক একটি খাত , সে কারণে বিরাজমান সমস্যা সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি । এ লক্ষ্যে প্রয়ােজন : 
    ১, আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা অনুযায়ী নতুন নতুন পােশাক তৈরি করা ; 
    ২ দেশেই প্রয়ােজনীয় কাঁচামাল উৎপাদনের পদক্ষেপ নেওয়া ; 
    ৩,শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও কাজের সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করা ; 
    ৪,নিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা ; 
    ৫রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা ইত্যাদি ।

    উপসংহার : বিশ্বায়নের এ যুগে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযােগিতায় টিকে থাকতে হলে পােশাক শিল্পে বিরাজমান সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নিতে হবে । ইতােমধ্যে বাংলাদেশ সরকার শ্রমিক ও তাদের পরিবারের কল্যাণের লক্ষ্যে শ্রম আইন ও শ্রম কল্যাণ আইন ২০০৬ প্রবর্তন করেছে । ২০১৩ সালে প্রণীত শ্রম আইনে শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে । কাজের পরিবেশ ও নিরাপত্তার ব্যাপারটিও বিবেচনাধীন । এখন প্রয়ােজন সরকার , মালিকপক্ষ ও শ্রমিকদের মধ্যে সমঝােতা । তাহলেই সম্ভানাময় এ শিল্পখাতটি আরও সমৃদ্ধ হয়ে উঠবে ।

    বাংলাদেশের পোশাক শিল্প 

    Bangladesh Poshak Shipo


    Tag: বাংলাদেশের পোশাক শিল্প রচনা - বাংলাদেশের পোশাক শিল্প,  Bangladesh Poshak Shipo Rochona, বাংলাদেশের পোশাক শিল্প গুরুত্ব, বাংলাদেশের পোশাক শিল্প অনুচ্ছেদ রচনা, রচনা- বাংলাদেশের পোশাক শিল্প
    Previous Post Next Post

    👇 সকল ক্লাসের এসাইনমেন্ট নোটিফিকেশন আকারে সহজে পেতে ডাউনলোড করুন আমাদের এপ্লিকেশন 

    আমাদের ফেসবুক পেইজে যুক্ত হতে ক্লিক করুন