বর্তমানে কোভিড ১৯ উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শিক্ষা কার্যক্রম চলমান রাখায় ই - লার্নিং এর ভূমিকা বিষয়ক ২৫০ শব্দের মধ্যে একটি প্রতিবেদন তৈরি কর । নবম-৯ম শ্রেণির ষষ্ঠ সপ্তাহের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি(ICT) এসাইনমেন্ট সমাধান ২০২১

 

নবম-৯ম শ্রেণির ষষ্ঠ সপ্তাহের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এসাইনমেন্ট সমাধান ২০২১

       
       
             

    নবম-৯ম শ্রেণির ষষ্ঠ সপ্তাহের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এসাইনমেন্ট সমাধান ২০২১

    বর্তমানে কোভিড ১৯ পরিস্থিতিতে শিক্ষা কার্যক্রম চলমান রাখার ক্ষেত্রে ই - লার্নি এর ভূমিকা বিষয়ক ২৫০ শব্দের মধ্যে একটি প্রতিবেদন তৈরি কর ।


    উওরঃ বর্তমানে কোটি ১৯ পারাখাততে শিক্ষা কার্যক্রম চলমান রাখার ক্ষেত্রে ই - লার্নি এর ভূমিকা বিষয়ক ২৫০ শব্দের মধ্যে একটি প্রতিবেদন তৈরি করে নিন্মে উপস্থাপন করা হল । 

    ভূমিকা : শিক্ষা এবং জ্ঞান হলাে মানুষের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ । এই মহামূল্যবান সম্পদ ভিন্ন কোনাে মানুষই জীবনে সম্পূর্ণতা লাভ করতে পারে না । শিক্ষা শুধুমাত্র বইযের পাতায কিংবা চার দেওয়ালের বন্ধনীতে আবদ্ধ নয় । শিক্ষার প্রকৃত রূপ হল ব্যাপক । কিন্তু সাবেকি শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে শিক্ষার এই ব্যাপক রূপের উন্মেষ ঘটতে পারে না ।

    সেই কারণেই আধুনিক যুগের সূচনা কাল থেকে বিভিন্ন শিক্ষাবিদরা শিক্ষার পাঠ্যক্রমগত এবং পদ্ধতিগত উন্নয়নের কথা বলেছেন । সেই সঙ্গে আরও জোরদার হয়েছে সমাজের সর্বস্তরে শিক্ষার ব্যাপক প্রসার এর প্রযােজনীয়তার দাবী । এমতাবস্থায় তথ্য ও যােগাযােগ প্রযুক্তির ব্যাপক প্রসারকে কাজে লাগিযে শিক্ষাব্যবস্থার রঙ্গমঞ্চে আবির্ভাব ঘটেছে ই লার্নিং পদ্ধতির । এই পদ্ধতিকে কাজে লাগিয়ে অভিনব উপাযে সৃজনশীল পদ্ধতির দ্বারা পৃথিবীর যেকোন প্রান্ত থেকে অন্য যেকোন প্রান্তে বিশ্বমানের শিক্ষার প্রচার ও প্রসার সম্ভব । এই ধরনের শিক্ষার মাধ্যমে একদিকে শিক্ষার্থীদের সৃজনমূলক প্রতিভার যেমন বিকাশ ঘটে , আবার অন্যদিকে শিক্ষার পথে সকল বাধাকে অতিক্রম করে অত্যন্ত সহজে যেকোনাে জাযগায , যে কোন সমযে , যেকোনাে মানুষের কাছে শিক্ষাকে পৌঁছে দেওয়া যায় । সেকারণে একবিংশ শতকে আধুনিকতম মাধ্যম হিসেবে সংযােজিত হয়েছে ই লার্নিং পদ্ধতি ।

    করােনাকালে স্বাভাবিক শ্রেণী কার্যক্রম চালু না রাখার যৌক্তিকতা : পৃথিবীর ইতিহাসে ২০২০ একটি চিরস্মরণীয় বছর হয়ে থাকবে । এই বছর করােনা নামক এক ভয়ঙ্কর ভাইরাসের থাবা প্রাণ কেড়ে নিয়েছে । বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ মানুষের । এই ভাইরাস এতটাই সংক্রামক যে মুহুর্তের মধ্যে মানুষ থেকে মানুষে রােগ ছড়িয়ে পড়ছে । সেজন্যেই বিশ্বব্যাপী ঘােষিত হয়্রছে অনির্দিষ্টকালের জন্য লকডাউন ।

    সামাজিক দূরত্ববিধি না মেনে এই ভাইরাসঘটিত রােগ থেকে রক্ষা পাওযার আপাতত আর কোন উপায় নেই । পৃথিবীজুড়ে সমস্ত প্রকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এই সময় বন্ধ হয়ে গিয়েছে । করােনা ভাইরাসের প্রকোপ খানিকটা কমলেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিকে আবার আগের মতন করে চালানাের ঝুঁকি নেওযা যায নি । কারণ এই সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলি পূর্বের মতন চালু থাকলে শারীরিক দূরত্ববিধি বজায় রাখা আদৌ সম্ভবপর হবে না । আর ছাত্র - ছাত্রীরা হল পৃথিবীর ভবিষ্যৎ এই মারণ ভাইরাসের প্রকোপকালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিয়ে পুনরায ছাত্র - ছাত্রীদের স্বাভাবিক শ্রেণী কার্যক্রম চালু রাখার ঝুঁকি নেওযার অর্থ হলাে ছাত্র - ছাত্রীদের স্বাস্থ্য তথা ভবিষ্যতকে এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দেওযা । সে কারণে এমতাবস্থায় স্বাভাবিক শ্রেণী কার্যক্রম পুনর্বহাল করার মতন ঝুঁকি নেওয়া একেবারেই যুক্তিযুক্ত হতে পারে না ।

    ই লার্নিং এর ধারণা : শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলি বন্ধ হযে স্বাভাবিক শ্রেণী কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য অস্থায়ীভাবে স্তব্ধ হয়ে গেলেও শিক্ষার প্রচার এবং প্রসারকে থেমে থাকতে দেওয়া যায় না । এইরকম সমযেই ঘরে ঘরে বিশ্বমানের শিক্ষা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে উঠে এসেছে ই - লার্নিং এর ধারণা । তবে ই লার্নিং এর এই ধারণা পুরােপুরি মহামারী পরিস্থিতি থেকে উদ্ভূত ফল নয় । এই মহামারীর বহু আগে থেকেই দূরবর্তী শিক্ষা , মুক্ত শিক্ষাব্যবস্থা , সৃজনমূলক শিক্ষা তথা শ্রেণী কার্যক্রমের সমান্তরাল কোচিং ক্লাস ইত্যাদি ক্ষেত্রে আধুনিক তথ্য ও যােগাযােগ প্রযুক্তিকে কাজে লাগিযে ই - লার্নিং এর ব্যবহার প্রচলিত ছিল । এই মহামারীর কালে ই লার্নিং এর প্রযােজনীযতার ব্যাপকতা অনুভূত হয়েছে মাত্র । যে ই লার্নিং এতদিন অত্যন্ত সামান্য কিছু ক্ষেত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল তা আজ বহুমুখী রূপ লাভ করেছে । আধুনিক তথ্য ও যােগাযােগ প্রযুক্তির যুগান্তকারী ফসল ইন্টারনেটকে ব্যবহার করে একসাথে সামাজিকভাবে সমবেত না হযেও অনলাইনের মাধ্যমে পাঠ্যক্রম চালু রাখার নামই হলাে ই লার্নিং । মহামারীর সমযে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলি বন্ধ হয়ে যাওযার পর থেকেই অধিকাংশ বিদ্যালয় এবং বিশ্ববিদ্যালযগুলি পাঠ্যক্রম চালু রাখার বিকল্প উপায় হিসেবে ই লার্নিং পদ্ধতিকে বেছে নিয়েছে ।

    ই লার্নিং এর সুবিধাসমূহ : ই - লার্নিং পদ্ধতির অসংখ্য সুবিধাগত দিক রয়েছে । সেইসব দিকগুলির কথা ইতিপূর্বে প্রচলিত থাকলেও তা অত্যন্ত সীমিত পরিসরে আবদ্ধ ছিল । বর্তমানে ই লার্নিং বা ইলেকট্রনিক লার্নিং ব্যবস্থার ব্যাপক প্রসারের ফলে সমাজের সর্বস্তরে এর সুবিধাগুলি বিশেষভাবে অনুভূত হচ্ছে । তেমনি বিশেষ কয়েকটি সুবিধার কথা নিম্নে উল্লেখ করা হলাে ।

    • ই লার্নিং পদ্ধতিতে যেকোনাে স্থানে বসে ইন্টারনেট সংযােগ ব্যবহার করে পাঠ গ্রহণ করা যায় । অর্থাৎ দূরত্ব শিক্ষা গ্রহণে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না । 
    • এই পদ্ধতিতে একজন দক্ষ শিক্ষক শিক্ষার্থীদের কাছে অত্যন্ত বিস্তারিতভাবে কোন বিষয়কে অডিওভিজুয়াল - এর মাধ্যমে ব্যাখ্যা করতে পারেন । 
    • একসাথে সামাজিকভাবে সমবেত হওযার প্রযােজনীযতা না থাকায় বসও শিক্ষা গ্রহণের জন্য বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না ।
    • ই লার্নিং পদ্ধতিতে শিক্ষা গ্রহণ করবার খরচ তুলনামূলক ভাবে কম হওযায সমাজের সর্বস্তরে এই পদ্ধতিকে প্রযােগ করে শিক্ষাবিস্তার সম্ভব । 
    • এই পদ্ধতিকে ব্যবহার করে সামাজিকভাবে সমবেত হওযার প্রযােজনীয়তা ফুরানাের ফলে কোভিড -১৯ এর মতন যে কোনাে সংক্রামক ব্যাধি এড়ানাে সম্ভব ।

     ই লার্নিং এর বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ সমূহ : যেকোনাে নতুন ধরনের আধুনিক ব্যবস্থা বাস্তবাযনের পথে বিভিন্ন ধরনের প্রতিকূলতা কাজ করে । ই - লার্নিং পদ্ধতিও তার ব্যাতিক্রম নয় । ইতিপূর্বে সীমিত কিছু স্তরে এই পদ্ধতি প্রচলিত থাকলেও শিক্ষার ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে এই পদ্ধতির প্রযােগ বর্তমান মহামারীর কালেই প্রথম । সুবিধাজনক এই পদ্ধতিটিকে বাস্তবে রূপদান করতে গিয়ে সমাজকে বেশকিছু চ্যালেঞ্জের মুখােমুখি দাঁড়াতে হযেছে । তেমনি কযেকটি হলাে :

    • ই লার্নিং পদ্ধতি সমাজের অধিকাংশ মানুষের কাছেই একেবারে নতুন ধরনের হবার ফলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভযকেই এই পদ্ধতির সাথে মানিয়ে নেওযার জন্য বেশ বেগ পেতে হচ্ছে । .
    •  এখনাে অবধি তৃতীয় বিশ্বের অধিকাংশ দেশে সর্বস্তরে ইন্টারনেট সংযােগ না পৌঁছনােয় প্রান্তিক অঞ্চলের সেইসব মানুষের পক্ষে ই লার্নিং এর সুবিধা গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে না । 
    • তাছাড়া বিশেষত তৃতীয় বিশ্বের বহু মানুষ আর্থিকভাবে স্বচ্ছল না হওযার কারণে অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে শিক্ষা গ্রহণ এখনাে তাদের কাছে বিলাসিতাস্বরপ ।
    • ই - লার্নিং ব্যবস্থা যথাযথভাবে শিক্ষণ - এর জন্য শিক্ষার্থী এবং শিক্ষক উভযকেই প্রযুক্তিগত ব্যাপারে দক্ষ হতে হয । ই লার্নিং পদ্ধতি বিস্তৃতভাবে প্রযােগের পর বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রযােজনীয় এই প্রযুক্তিগত দক্ষতার বিশেষ অভাব লক্ষ্য করা গেছে ।
    ই লার্নিং এর মাধ্যমে কাঙ্খিত দক্ষতা অর্জন : বর্তমানে শিক্ষার মূল লক্ষ্য হলাে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে নির্ধারিত পাঠ্যক্রমের মাধ্যমে বিশেষ দক্ষতা অর্জন করা যা একজন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ - এর পথকে প্রশস্ত ও মসৃণ করবে । ই লার্নিং পদ্ধতির প্রযােগের প্রথম দিকে মনে করা হতাে শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীর মুখােমুখি মিথস্ক্রিযা না হওযার দরুণ এই পদ্ধতির মাধ্যমে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত দক্ষতা অর্জন করা সম্ভব নয় ।

    তবে এই ব্যবস্থা যত প্রসারিত হয়েছে ততই ই লার্নিং সম্বন্ধে ভুল ধারণা মানুষের মন থেকে অপসারিত হয়েছে । বর্তমানে প্রমাণ হয়ে গেছে মুখােমুখি মিথস্ক্রিযার না হওয়া সত্ত্বেও ই লার্নিং পদ্ধতিতে অডিও ভিজুয়াল প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে প্রথাগত শিক্ষা পদ্ধতির থেকে আরাে ভালাে ভাবে কোন বিষয়কে উপস্থাপন করা যায় । ফলে ই লার্নিং পদ্ধতি সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কোনাে ব্যক্তির কাঙ্খিত দক্ষতা অর্জনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না । বরং সুবিধা অনুযায়ী রেকর্ডেড ক্লাস , শিক্ষাগত উপাদান - এর সহজলভ্যতা , শিক্ষার বহুমুখী রূপের প্রসার ইত্যাদির দ্বারা এই পদ্ধতিতে মানুষের ব্যক্তিগত দক্ষতায পর্বের তুলনায় আরও বেশি বুদ্ধি ঘটানাে যায় ।

    স্বাভাবিক সময়ে শিক্ষা সহায়তা হিসেবে ই - লার্নিং এর সম্ভাবনা : ই লার্নিং পদ্ধতিকে এই করােনা মহামারী কালে বিশেষভাবে ব্যবহার করা হলেও এই পদ্ধতি স্বাভাবিক সমযেও শিক্ষার প্রসারে এবং কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে বিশেষ ভাবে ফলপ্রসূ হতে পারে । এই পদ্ধতিকে ব্যবহার করে তৃতীয় বিশ্বের দেশ গুলি স্বল্প খরচে দেশের প্রান্তিক অঞ্চলেও শিক্ষার বিকাশ ঘটাতে পারে । তাছাড়া এই পদ্ধতি অবলম্বন করে শিক্ষাগত বিষয়বস্তুর আকর্ষণীয উপস্থাপনা শিক্ষার্থীদের কাছেও কোন কঠিন বিষয়কে সহজভাবে উপস্থাপিত করতে সাহায্য করছে । এছাড়া উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালযগুলি ই - লার্নিং পদ্ধতিকে প্রযােগ করে দুরবর্তী স্থানে বিশ্বমানের শিক্ষা প্রদান করতে পারে । বর্তমানকালে বিশ্বব্যাপী ইন্টারনেট সংযােগের ব্যাপক প্রসার ভবিষ্যতে ই লার্নিং পদ্ধতির সম্ভাবনাময বিস্তারের ইঙ্গিতই বহন করে ।

     উপসংহার : ই - লার্নিং বা ইলেকট্রনিক লার্নিং পদ্ধতি হলাে ভবিষ্যতের জন্য অনন্ত সম্ভাবনাময় একটি শিক্ষা ব্যবস্থা । একথা সত্য যে এই ব্যবস্থাকে বাস্তবায়নের পথে অসংখ্য বাধা এবং বিপত্তি রয়েছে এবং আরাে উদ্ভূত হবে । কিন্তু সেই বাধা - বিপত্তিগুলিকে দূর করে ই - লার্নিং - এর চূড়ান্ত সুবিধাগত দিকগুলি সকলের মধ্যে প্রসারিত হলে তবেই সমাজ শিক্ষা বিস্তারের সার্থক আলােয় আলােকিত হবে ।

    Tag:বর্তমানে কোভিড ১৯ পরিস্থিতিতে শিক্ষা কার্যক্রম চলমান রাখার ক্ষেত্রে ই - লার্নি এর ভূমিকা বিষয়ক ২৫০ শব্দের মধ্যে একটি প্রতিবেদন তৈরি কর,  নবম-৯ম শ্রেণির ষষ্ঠ সপ্তাহের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এসাইনমেন্ট সমাধান ২০২১,

    Previous Post Next Post

    👇 সকল ক্লাসের এসাইনমেন্ট নোটিফিকেশন আকারে সহজে পেতে ডাউনলোড করুন আমাদের এপ্লিকেশন 

    আমাদের ফেসবুক পেইজে যুক্ত হতে ক্লিক করুন