(১০০০ শব্দ) বীমা শিল্পের অগ্রযাত্রায় বঙ্গবন্ধু রচনা (PDF সহ)

You can easily download all types of PDF from our website for free.Only we share all types of updated PDF. If there is any problem to download our PDF file, you can easily contact us and solve it. So without delay download your desired PDF file immediately.


আরো দেখুন

(১০০০ শব্দ) বীমা শিল্পের অগ্রযাত্রায় বঙ্গবন্ধু রচনা (PDF সহ)


     ভূমিকা:

    বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেশের উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। এরকম একটি খাত হল বীমা শিল্প, যা তার নেতৃত্বে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখেছিল। বাংলাদেশি জনগণের মঙ্গল ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করার জন্য তার গভীর দৃষ্টিভঙ্গি এবং নিষ্ঠা বীমা খাতের অগ্রগতি ও বিবর্তনে একটি অমোঘ চিহ্ন রেখে গেছে। তার রূপান্তরমূলক উদ্যোগ এবং অটল প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে, বঙ্গবন্ধু বীমা শিল্পকে গঠন ও অগ্রসর করার পথে অগ্রসর হন, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় এবং সকল নাগরিকের জন্য অপরিহার্য আর্থিক নিরাপত্তা প্রদানে এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাকে স্বীকৃতি দিয়ে। আমরা যখন বীমা শিল্পের উপর বঙ্গবন্ধুর দৃষ্টিভঙ্গির গভীর প্রভাবের দিকে তাকাই, তখন এটা স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে তার স্থায়ী উত্তরাধিকার এই অত্যাবশ্যক খাতকে সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী করে চলেছে, নিশ্চিত করে যে তার দূরদর্শী নীতিগুলি এর বিবর্তনের দিকনির্দেশনা চালিয়ে যাচ্ছে।

    বাংলাদেশে বীমা শিল্পের প্রাথমিক বিকাশ:

    বাংলাদেশে বীমা ব্যবস্থার একটি ঘটনাবহুল ইতিহাস রয়েছে। যা প্রায় ১০০ বছরেরও আগে ভারতে ব্রিটিশ শাসনামলে কয়েকটি বীমা কোম্পানি জীবন বীমা ও সাধারণ বীমা উভয় ধরনের ব্যবসায় শুরু করেছিল। ১৯৪৭-১৯৭১ সময়কালে পূর্ব পাকিস্তানে বীমা ব্যবসা ভাল অবস্থায় ছিল। সে সময় মোট ৪৯ টি জীবন ও সাধারণ বীমা কোম্পানি ব্যবসায় পরিচালনা করত। এসব কোম্পানির শাখা ছড়ানো ছিল বিভিন্ন দেশে। এদের মধ্যে ব্রিটিশ, অস্ট্রেলীয়, ভারতীয়, পশ্চিম পাকিস্তানি ও পূর্ব পাকিস্তানি অন্যতম। ১০টি বীমা কোম্পানির সদর দপ্তর পূর্ব পাকিস্তানে, ২৭টির পশ্চিম পাকিস্তানে এবং বাকিগুলির সদর দপ্তর ছিল বিশ্বের নানা দেশে। কয়েকটি ছাড়া বেশির ভাগ কোম্পানিই ছিল সীমিত দায়ের (limited liability) এবং কাজ করত অবাধ প্রতিযোগিতামূলক অর্থনৈতিক পরিবেশে। এগুলির মধ্যে কিছু ছিল বিশেষায়িত কোম্পানি যারা নির্দিষ্ট ধরনের ব্যবসায়ের সঙ্গে জড়িত ছিল, আবার কিছু ছিল যৌথ কোম্পানি যেগুলি একাধিক ধরনের ব্যবসায় নিয়োজিত ছিল। বাংলাদেশ সরকার ১৯৭২ সালে রাষ্ট্রপতির আদেশ নম্বর ৯৫ দ্বারা বীমা শিল্পকে জাতীয়করণ করে। এই আদেশ বাংলাদেশ বীমা (জাতীয়করণ) আদেশ ১৯৭২ হিসেবে বেশি পরিচিত। এই আদেশবলে প্রতিরক্ষা, ডাক জীবন বীমা এবং বিদেশি জীবন বীমা কোম্পানিসমূহ ব্যতীত এদেশে ব্যবসারত সকল বীমা কোম্পানি ও সংস্থাকে সরকারি খাতের ৫টি কর্পোরেশনের অধীনে ন্যস্ত করা হয়। এগুলি হচ্ছে জাতীয় বীমা কর্পোরেশন, তিস্তা বীমা কর্পোরেশন, কর্ণফুলি বীমা কর্পোরেশন, রূপসা জীবন বীমা কর্পোরেশন এবং সুরমা জীবন বীমা কর্পোরেশন।


    বীমা খাতের জন্য বঙ্গবন্ধুর মিশন:

    বীমা শিল্পের উন্নয়নে বঙ্গবন্ধুর সুস্পষ্ট দৃষ্টি ছিল। তিনি সমাজের সকল স্তরের কাছে পৌঁছানোর জন্য বীমা পরিষেবাগুলির আধুনিকীকরণ, নিয়ন্ত্রণ এবং সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন। তার দৃষ্টিভঙ্গি শুধুমাত্র অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির উপর নয় বরং সামাজিক কল্যাণের দিকেও মনোযোগী ছিল, যার লক্ষ্য ছিল প্রয়োজনের সময়ে নাগরিকদের জন্য একটি নিরাপত্তা বেষ্টনী প্রদান করা।


    বঙ্গবন্ধুর হাতেই দেশের বীমা শিল্পের অগ্রযাত্রা:

    একটি দেশের বীমা খাত যতো শক্তিশালী সে দেশের অর্থনীতি ততো শক্তিশালী -এটা প্রথম বুঝতে পেরেছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আর তাই তিনি দেশ স্বাধীন হওয়ার পরপরই বীমা খাতের উন্নয়নে সংস্কারে আর সুশাসনে হাত দেন। দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে বীমা খাতের অবদান রয়েছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বীমা পেশার আড়ালে স্বাধীনতা সংগ্রামের কাজ করে গেছেন। দেশ স্বাধীনের পর বঙ্গবন্ধুই প্রথম বীমা খাতের সংস্কারে হাত দেন। তারই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার বীমা খাতের উন্নয়নে যুগান্তকারি উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর বীমা খাতের উন্নয়নে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী উদ্যোগ গ্রহণ করেন। বর্তমান সরকার বীমা আইন পাস করেছে, বীমা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা গঠন করেছে। এছাড়াও বীমা খাতের উন্নয়নে নানাবিধ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার পর দেশ গঠনে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক মুক্তির অন্যান্য কর্মকাণ্ডের সাথে সাথে বীমা খাতের সাথে ওতোপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন! তিনি বীমা পেশার মাধ্যমে তার সংগ্রামী কর্মকাণ্ড চালিয়েছেন। তাই দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে বীমা খাতের বিশেষ অবদান রয়েছে। বঙ্গবন্ধু প্রথম উপলব্ধি করেন, দেশের উন্নয়ন করতে হলে বীমার উন্নয়ন করতে হবে। তাই তিনি খুব অল্প সময়ের মধ্যেই জীবন বীমা করপোরেশন ও সাধারণ বীমা করপোরেশন নামে সরকারি ২টি প্রতিষ্ঠান করেন।

    যে ঐতিহাসিক মাসে দেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয়েছে। সেই মাসের ১ম দিনটি আমরা বীমা দিবস হিসেবে পেয়েছি। এটা আমাদের সকলের জন্য গর্বের। কেননা এই দিনে তিনি রাজনীতির পাশাপাশি বীমা শিল্পে পেশাজীবনে জড়িত হয়েছিলেন। সুতরাং সংশ্লিষ্টরা বীমা খাতের সুশাসনের জন্য এই বিশাল ইমোশন বা সেন্টিমেন্টকে কাজে লাগিয়ে সামনে এগুতে পারে সহজেই। জাতির শোকের মাস আগস্ট মাস। এই মাসে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহদাতের মাস। জাতি কৃতজ্ঞচিত্তে দুঃখভরা মন নিয়ে স্মরণ করছে এই মাসটি, যে মাসে ঘাতকের বুলেটে জাতি হারিয়েছিল তার জাতির পিতাকে, হারিয়ে ছিল জাতির পিতার পরিবারের সদস্যদের যাদের প্রত্যেকের অবদান অনস্বীকার্য এই দেশটির স্বাধীনতা আর মুক্তি সংগ্রামের জন্য। তবে শোককে শক্তিতে পরিণত করে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে সম্মুখপানে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে। এই হোক আজকের দিনে আমাদের বাঙ্গালী জাতির অঙ্গীকার। তবেই কিছুটা হলেও শোধ হবে বঙ্গবন্ধুর রক্তের ঋণ।

    রেগুলেটরি ফ্রেমওয়ার্ক প্রতিষ্ঠা:

    তার দৃষ্টিভঙ্গি বাস্তবায়নের জন্য, বঙ্গবন্ধুর সরকার বীমা শিল্পের জন্য একটি নিয়ন্ত্রক কাঠামো প্রতিষ্ঠার জন্য উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ গ্রহণ করে। ১৯৭৩ সালের বীমা কর্পোরেশন আইন একটি যুগান্তকারী আইন যা বীমা কোম্পানিগুলিকে নিয়ন্ত্রণ ও তত্ত্বাবধানের ভিত্তি স্থাপন করেছিল। এই আইনটি বীমা খাতের মধ্যে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং ভোক্তা সুরক্ষা নিশ্চিত করে।

    জনসচেতনতা প্রচার:

    বঙ্গবন্ধু বীমা সম্পর্কে জনসচেতনতা ও শিক্ষার গুরুত্বও স্বীকার করেছেন। তার সরকার নাগরিকদের বীমার সুবিধা এবং উপলব্ধ বিভিন্ন ধরনের কভারেজ সম্পর্কে অবহিত করার জন্য প্রচারণা শুরু করেছে। সচেতনতা প্রচারের মাধ্যমে, বঙ্গবন্ধু বীমার অনুপ্রবেশ বৃদ্ধি করতে চেয়েছিলেন এবং আরও বেশি লোক যাতে বীমা পণ্যগুলির দ্বারা প্রদত্ত সুরক্ষামূলক সুবিধাগুলি গ্রহণ করতে পারে তা নিশ্চিত করতে চেয়েছিলেন।

    উদ্ভাবন এবং বৃদ্ধির উতসাহ:

    বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বীমা শিল্পের মধ্যে উদ্ভাবন ও প্রবৃদ্ধিকে উৎসাহিত করার প্রচেষ্টা চালানো হয়। বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য বীমার সম্ভাবনাকে তিনি স্বীকৃতি দিয়েছেন। ফলস্বরূপ, বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বীমা পরিষেবার সম্প্রসারণকে সমর্থন করার জন্য নীতি প্রণয়ন করা হয়, যার ফলে অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি পায়।

    উত্তরাধিকার এবং প্রভাব:

    বঙ্গবন্ধুর উদ্যোগ ও দৃষ্টিভঙ্গি বাংলাদেশের বীমা শিল্পে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলেছে। নিয়ন্ত্রণ, জনসচেতনতা এবং সম্প্রসারণের উপর তার জোর একটি আরও স্থিতিস্থাপক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক বীমা খাতের ভিত্তি স্থাপন করেছে। আজ, বাংলাদেশে একটি সমৃদ্ধশালী বীমা শিল্প রয়েছে যা বঙ্গবন্ধুর যুগে নির্ধারিত নীতির প্রতি সত্য থাকার পাশাপাশি বিকশিত হচ্ছে।

    উপসংহার:

    বাংলাদেশে বীমা শিল্পের অগ্রগতিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদান উল্লেখযোগ্য এবং স্থায়ী। তার দূরদর্শী নেতৃত্ব, নিয়ন্ত্রক কাঠামো এবং জনসচেতনতার প্রচার বীমা খাত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তার উদ্যোগের উত্তরাধিকার জাতিকে উপকৃত করে চলেছে, নিশ্চিত করে যে নাগরিকদের বীমা পরিষেবার মাধ্যমে আর্থিক সুরক্ষার গুরুত্ব রয়েছে।


    বীমা শিল্পের অগ্রযাত্রায় বঙ্গবন্ধু রচনা PDF 

    বীমা শিল্পের অগ্রযাত্রায় বঙ্গবন্ধু রচনা (PDF সহ)



    Click Here To Download 


    রচনা সংগ্রহ & Credit : ABC IDEAL SCHOOL

    Tag:(১০০০ শব্দ) বীমা শিল্পের অগ্রযাত্রায় বঙ্গবন্ধু রচনা (PDF সহ)



                                   
    Previous Post Next Post


    Any business enquiry contact us

    Email:- Educationblog24.com@gmail.com

     



    Any business enquiry contact us

    Email:- Educationblog24.com@gmail.com

    (সবচেয়ে আগে সকল তথ্য,গুরুত্বপূর্ণ সকল পিডিএফ, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, Facebook এবং Telegram পেজ)