এইচএসসি এসাইনমেন্ট ২০২১ উত্তর /সমাধান ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র (এসাইনমেন্ট ১) | ২০২১ সালের এইচএসসি ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা এসাইনমেন্ট সমাধান (১ম পত্র)


    ২০২১ সালের এইচএসসি ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা এসাইনমেন্ট সমাধান (১ম পত্র)


    উদাহরণসহ ব্যবসায়ের ধারণাঃ 

    সাধারণত মুনাফার উদ্দেশ্যে পরিচালিত , নিয়ন্ত্রিত সকল অর্থনৈতিক কর্মকান্ডকে ব্যবসায় বলে । গত কয়েকদিন আগে আমি মাঠে খেলতে গিয়ে কয়েকজন বন্ধুদের কাছ থেকে জিঞ্জেস করলাম যে , তাদের কার বাবা কি করে । অনেকেই বলল ঔষধের দোকান , মুদির দোকান , শাড়ির দোকান , কসমেটিকস এর দোকান ইত্যাদি পেশায় নিয়ােজিত থাকে । তাদের অভিভাবকদের সবগুলাে অর্থনৈতিক কাজ ব্যবসায়ের অন্তর্ভুক্ত হবে যদি তারা জীবিকা নির্বাহ ও মুনাফার আশায় উক্ত কাজগুলাে করে থাকেন । মূলত মুনাফা অর্জনের লক্ষ্যে পরিচালিত অর্থনৈতিক কর্মকান্ডকে ব্যবসায় বলে । 

    পরিবারের সদস্যদের জন্য খাদ্য উৎপাদন করা , হাস - মুরগি পালন করা , সবজি চাষ করাকে ব্যবসায় বলা যায় না । কিন্তু যখন কোনাে কৃষক মুনাফার আশায় ধান চাষ করে বা সবজি চাষ করাকে ব্যবসায় বলে গণ্য হবে । তবে মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে পরিচালিত সকল অর্থনৈতিক কর্মকান্ড ব্যবসা বলে গণ্য হবে যদি সেগুলাে দেশের আইনে বৈধ ও সঠিক উপায়ে পরিচালিত হয় । ব্যবসায়ের আরও কিছু বৈশিষ্ট্য আছে যা একে অন্য সব পেশা থেকে আলাদা করেছে । ব্যবসায়ের সাথে জড়িত পণ্য বা সেবার অবশ্যই আর্থিক মূল্য থাকতে হবে । ব্যবসায়ের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলাে এর সাথে ঝুঁকির সম্পর্ক । মূলত মুনাফা অর্জনের আশাতেই ব্যবসায়ী অর্থ বিনিয়ােগ করে । ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডর মাধ্যমে মুনাফা অর্জনের পাশাপাশি অবশ্যই সেবার পরিচালিত হয় । ব্যবসায়ের আরও কিছু বৈশিষ্ট্য আছে যা একে অন্য সব পেশা থেকে আলাদা করেছে । ব্যবসায়ের সাথে জড়িত পণ্য বা সেবার অবশ্যই আর্থিক মূল্য থাকতে হবে । ব্যবসায়ের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলাে এর সাথে ঝুঁকির সম্পর্ক । মূলত মুনাফা অর্জনের আশাতেই ব্যবসায়ী অর্থ বিনিয়ােগ করে । ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডর মাধ্যমে মুনাফা অর্জনের পাশাপাশি অবশ্যই সেবার মনােভাব থাকতে হবে ।

    ব্যবসায়ের আওতাঃ 

    ব্যবসায়ের আওতা বলতে ব্যবসায়ের স্বাভাবিক কার্যক্ষেত্র বা কাজের গন্ডিকেই বােঝায় । ব্যবসায়ের আওতা বা পরিধি অত্যান্ত ব্যাপক ও বিস্তৃত । মুনাফা অর্জনের লক্ষ্যে মানুষের বস্তুগত ও অবস্তুগত অভাব মিটানাের জন্য পণ্য - দ্রব্য ও সেবা উৎপাদন , সংগ্রহ ও বন্টন এবং এদের সহায়ক যাবতীয় কার্যাবলী আধুনিক ব্যবসায়ের আওতাভুক্ত । মূল্যের বিনিময়ে । ভােক্তাকে সেবা পরিবেশনও আধুনিক ব্যবসায়ের আওতাভুক্ত । ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে উৎপাদন সংক্রান্ত কাজ শিল্পের মাধ্যমে , সংগ্রহ ও বন্টন সংক্রান্ত কাজ বাণিজ্যের মাধ্যমে সম্পাদিত হয় । বন্টনের ক্ষেত্রে ক্রয় - বিক্রয় বা পণ্য বিনিময় মুখ্য কাজ হিসেবে গণ্য । অন্যান্য কাজ পণ্য বিনিময়ের সহায়ক কার্যাবলী হিসেবে বিবেচিত হয়। 
    এই আলােকে ব্যবসায়ের আওতাকে নিম্নলিখিত ৪ টি ভাগে ভাগ করে আলােচনা করা যায় 

    ১. শিল্প , 
    ২.বাণিজ্য 
    ৩. শিল্প ও বাণিজ্যের সহায়ক কাজ ও 
    ৪. প্রত্যক্ষ সেবা । 

    ১.শিল্পঃ 
    শিল্পের কাজ হলাে প্রকৃতি হতে প্রাপ্ত সম্পদসমূহ উত্তোলন , শােধন ও প্রস্তুতকরণ । শিল্পজাত সেবাও শিল্পের আওতাভুক্ত । এছাড়া পণ্যের রূপগত পরিবর্তন সাধন করে নুতন নতুন উপযােগ সৃষ্টি করাও শিল্পের কাজ । উৎপাদনের প্রক্রিয়া ও কর্মপ্রচেষ্টায় ভিন্নতার কারণে শিল্পকে প্রধানতঃ নিম্নোক্ত ভাগে

    ক . প্রজনন শিল্পঃ যে শিল্পে উৎপাদিত সামগ্রী পুনরায় সৃষ্টি বা উৎপাদনের কাজে ব্যবহৃত হয় তাকে প্রজনন শিল্প বলে । যেমন নার্সারী , হ্যাচারী , হাঁস - মুরগীর খামার , পশুপালন ইত্যাদি । 

    খ . নিষ্কাশনঃ যে প্রচেষ্টার মাধ্যমে ভূগর্ভ , পানি বা বায়ু হতে সম্পদ উত্তোলন বা আহরণ করা হয় তাকে নিষ্কাশন শিল্প বলে । খনিজ পদার্থ উত্তোলন , মৎস্য শিকার ইত্যাদি এরূপ শিল্পের আওতাভুক্ত । 

    গ . নির্মাণ শিল্পঃ যে প্রচেষ্টার মাধ্যমে রাস্তাঘাট , সেতু , বাঁধ , দালানকোঠা ইত্যাদি নির্মাণ করা হয় তাকে নির্মাণ শিল্প বলে । 

    ঘ . যান্ত্রিক বা সর্জন শিল্পঃ শ্রম ও যন্ত্রের সাহায্যে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় কাঁচামাল বা অর্ধ প্রস্তুত জিনিসকে মানুষের ব্যবহারােপযােগী চূড়ান্ত পণ্যে প্রস্তুত করার প্রচেষ্টাকে যান্ত্রিক বা সর্জন শিল্প বলে । এরূপ শিল্পকে বিশ্লেষণ , যৌগিক , ব্যবহারােপযােগী চূড়ান্ত পণ্যে প্রস্তুত করার প্রচেষ্টাকে যান্ত্রিক সর্জন শিল্প বলে । এরূপ শিল্পকে বিশ্লেষণ , যৌগিক , প্রক্রিয়াভিত্তিক , সংযােজন ইত্যাদি ভাগে ভাগ করা যায় ।  

    ঙ . সেবা পরিবেশক শিল্পঃ মানুষের জীবনযাত্রা সহজ , নির্বিঘ্ন ও আরামদায়ক করার কাজে নিয়ােজিত শিল্পকে সেবা পরিবেশক শিল্প বলে । গ্যাস সরবরাহ , বিদ্যুৎ সংযােগ , টেলিফোন , পানি সরবরাহ ইত্যাদির দায়িত্বে নিয়ােজিত প্রতিষ্ঠান এ শ্রেণীভুক্ত । 

    ২.বাণিজ্যঃ 
    বাণিজ্যের কাজ হলাে শিল্পে উৎপাদিত পণ্য সামগ্রী বন্টন করা এবং বন্টন কালে সৃষ্ট প্রতিবন্ধকতা সমূহ দূর করে ভােগ কারীর নিকট পণ্য পৌছে দেয়া । বাণিজ্যের মাধ্যমে ব্যক্তিগত , কালগত , ঝুঁকিগত , অর্থগত , স্থানগত প্রতিবন্ধকতা দূর করে পণ্যসামগ্রী ভােগকারীর নিকট পৌছানাে হয় । বাণিজ্যের আওতা নিম্নরূপঃ 

    ক . পণ্য বিনিময় বা ক্রয় - বিক্রয়ঃ পণ্য দ্রব্যের ক্রয় - বিক্রয়কে বিনিময় বলে । বিনিময়ের মাধ্যমে পন্যের মালিকানা হস্তারিত হয় এবং ব্যক্তিগত বা স্বত্ত্বগত প্রতিবন্ধকতা দূর হয় । পণ্য বিনিময় দু'প্রকার 

    ১. অভ্যন্তরীণ পণ্য বিনিময় দেশের ভৌগলিক সীমানার মধ্যে যে বিনিময় সংঘটিত হয় তাকে অভ্যন্তরীণ বিনিময় বলে । এটা আবার দুধরনের হয় । যথা পাইকারী , বিনিময় ও খুচরা বিনিময় । 

    ২. বৈদেশিক পণ্য বিনিময় একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের সাথে অন্য একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের পণ্য বিনিময় হলে তাকে বৈদেশিক পণ্য বিনিময় করে । উহা আবার তিন ধরনের । যথা- আমদানী,রপ্তানি, ও পুনঃরপ্তানী। 

    খ . পরিবহনঃ পরিবহনের মাধ্যমে পণ্যের স্থানগত প্রতিবন্ধকতা দূর করা হয় । যেমন - বরিশালে উৎপাদিত চাল ঢাকায় সবরাহ করা হয় । পণ্য সামগ্রী উৎপাদন এবং উৎপাদনের পর ভােক্তার কাছে পৌছানের ক্ষেত্রে যে সকল ঝুঁকির সম্মুক্ষীণ হয় , বীমার মাধ্যমে সেই ঝুঁকিগত প্রতিবন্ধকতা দূর করা হয় । 

    ঘ . গুদামজাতকরণঃ উৎপাদিত পণ্য সামগ্রী সুবিধাজনক সময়ে বিয়ের জন্য গুদাম ঘরে যথাযথ ভাবে সংরক্ষণ করতে হয় । পণ্য সামগ্রী যথাযথ ভাবে সংরক্ষণ করে সময়গত প্রতিবন্ধকতা দূর করা হয় । 

    ঙ . ব্যাংকিং ব্যবসায়ে প্রয়ােজনীয় স্থায়ী ও চলতি মূলধন সরবরাহ করে ব্যাংকসমূহ বাণিজ্যের অর্থগত প্রতিবন্ধকতা দূর করে ।

    প্রত্যক্ষ সেবাঃ মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে স্বাধীনপেশায় নিয়ােজিত ডাক্তারী ব্যবসায় যেমন ক্লিনিক ও হাসপাতাল , আইন ব্যবসায়ী যেমন এটর্নীফার্ম , ইঞ্জিনিয়ারি ফার্ম ইত্যাদি প্রত্যক্ষ সেবা বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান সঙ্গত কারণেই ব্যবসায়ের আওতায় আসে । উপরের আলােচনায় এটা স্পষ্ট যে , ব্যবসায়ের আওতা অত্যন্ত ব্যাপক ও বিস্তৃত । সভ্যতার প্রাথমিক স্তরে এর আওতা এত ব্যাপক ছিলনা । আধুনিক সভ্যতার ক্রমবিকাশের সাথে সাথে এর আওতা আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং ভবিষ্যতে এর প্রসার আরও বাড়বে , এতে কোন সন্দেহ নেই । নিম্নে চিত্রের সাহায্যে ব্যবসায়ের আওতা বা পরিধি তুলে ধরা হলঃ

    ব্যবসায়ের কার্যাবলী সমূহ : 

    ব্যবসায়ের কার্যাবলী সমূহ নিম্নে আলােচনা করা হলাে : 

    ১. উৎপাদন : যেকোনাে ব্যবসায়ের প্রথম ও প্রধান কাজ হলাে উৎপাদন করা । আমরা জানি শিল্পকে উৎপাদনের বাহন বলা হয় অর্থাৎ শিল্পের প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পণ্যদ্রব্য উৎপাদিত হয় । প্রকৃতি হতে সম্পদ আহরণ করে তা মানুষের ব্যবহারের উপযােগ সৃষ্টি করাই হলাে উৎপাদন । 

    ২. ক্রয় : ব্যবসায়ের কার্যক্রম বা উৎপাদন প্রক্রিয়া সচল রাখতে বিভিন্ন ধরনের কাঁচামাল ও পণ্যসামগ্রী কয় করতে হয় । 

    ৩. বিক্রয় : বিক্রয় ব্যবসায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা যার মাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে পণ্যের মালিকানা হস্তান্তর করা হয় ।

    ৪. অর্থসংস্থান : ব্যবসায় গঠন ও পরিচালনার জন্য অর্থের প্রয়ােজন । নিজস্ব মূলধন বা ঋণ নিয়ে ব্যবসায়ের প্রয়ােজনীয় অর্থ সংগ্রহ করা একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ । 

    ৫. পরিবহন : ব্যবসায়ের উৎপাদিত পন্য সামগ্রী এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তর করার জন্য পরিবহন একটি বড় ভূমিকা পালন করে । তাছাড়া ব্যবসায়ের কাঁচামাল , যন্ত্রপাতি আনা নেওয়ার জন্য পরিবহনের প্রয়ােজন হয় । 

    ৬. গুদামজাতকরণ : ব্যবসায়ের উৎপাদিত পণ্যদ্রব্য সংরক্ষণের জন্য গুদামজাতকরণ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ কাজ । আমরা দেখতে পাই যে এক মৌসুমের দ্রব্য অন্য মৌসুমেও পাওয়া যায় আর তা সম্ভব হয়েছে কেবল গুদামজাতকরণের প্রক্রিয় ।

    ৭. বিজ্ঞাপন ও প্রচার : ব্যবসায়ের উৎপাদিত পণ্যদ্রব্য সম্পর্কে ক্রেতাদের অবহতি করা বা জানানাের জন্য বিজ্ঞাপন ও প্রচার কার্য করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ কাজ । আমরা টেলিভিশনে দেখতে পাই , নানান ধরনের পণ্যের সম্পর্কে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিজ্ঞাপন বা প্রচার করছে । বিজ্ঞাপন পণ্যের জ্ঞানগত উপযােগ সৃষ্টি করে । 

    ৮.বিমা : যেকোনাে ব্যবসায়ে ঝুঁকি বিদ্যমান । ব্যবসাযের ঝুঁকি হ্রাস করতে বা কমাতে বিমা গ্রহণ একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ । 

    ৯. হিসাবরক্ষণ : ব্যবসায়ের হিসাবরক্ষণ করা একটি মৌলিক কাজ । ব্যবসায়কে সঠিকভাবে পরিচালনা করার জন্য ব্যবসায়ের দৈনন্দিন ব্যবসায়িক লেনদেনসমূহ হিসাবরক্ষণ করতে হয়।

    ১০. প্রমিতকরণ ও পর্যায়িতকরণ : ব্যবসায়ের পণ্যদ্রব্যের আকার , ওজন ও গুণাগুণ অনুসারে মান নির্ধান করতে হয় এবং প্রণ্যের প্রকৃতি অনুযায়ী পণ্যকে বিভিন্ন শ্রেণীতে ভাগ করা ব্যবসায়ের খুবই গুরুত্বপূর্ণ কাজ । যেমন : বাজারে ৫০০ টাকা মূল্যের স্যম্পু পাওয়া যায় আবার ৫ টাকা মূল্যেরও স্যম্পু পাওয়া যায় । এটি করা হয় মূলত ক্রেতার ক্রয় - বিক্রয়ের সুবিধার্থে । 

    ১১. পণ্যের মােড়কীকরণ : পণ্যের মােড়কীকরণ করা হয় মূলত পাশ্যকে সুরক্ষিত রাখতে এবং ক্রেতার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে । তাছাড়া , পণ্য মােড়কীকরণ ভিতরে পণ্য রক্ষা করার জন্য কাজ করে । যেকোনাে পণ্য তৈরির মূল লক্ষ্য হল গ্রাহকদের আকর্ষণ করা এবং তাদের আপনার পণ্যটি কিনতে উৎসাহিত করা । যেহেতু ক্রেতাদের প্রথম নজর পণ্যের মােড়কীকরণের উপর পড়ে তাই পণ্যের মােড়কীকরণের কাজ খুবই আকর্ষণীয় এবং উন্নতমানের হওয়া প্রয়ােজন ।

    ১২.বাজার গবেষণা ও পণ্য উন্নয়ন : বর্তমানে ব্যবসায় খুবই প্রতিযােগিতামূলক হয়ে উঠেছে অর্থাৎ যে প্রতিষ্ঠান ভালাে মানের পণ্য উৎপাদন করে গ্রাহকরা সেই পণ্য ক্রয়ে বেশি আগ্রহ প্রকাশ করে । তাই পণ্য উৎপাদনের পূর্বে বাজার গবেষণা করে পণ্যের মান উন্নয়ন করতে হবে ।

    অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ব্যবসায়ের ভূমিকাঃ 

    বর্তমান বিশ্বের প্রতিটি দেশে , প্রতিটি সমাজে , প্রতিটি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নিকট ব্যবসায়ের গুরুত্ব এত বেশী যে , এ সম্বন্ধে কিছু বলার চেষ্টা করা হবে বাহুল্যতা । বিশ্বের রাজনীতি , রাষ্ট্রনীতি , সমাজনীতি , অর্থনীতি সব কিছুই ব্যবসায় দ্বারা বিশেষভাবে প্রভাবিত । চলমান বিশ্বের সব কিছুই থেমে যাবে যদি ব্যবসায় থেমে যায় । বিশ্বের প্রতিটি মানুষই প্রত্যক্ষ ও পরােক্ষ ভাবে ব্যবসায় দ্বারা উপকৃত হচ্ছে । অন্যদিকে , জীবিকা অর্জনের সবচেয়ে স্বাধীন , সহজতম ও সম্মান জনক উপায় হলাে ব্যবসায় । ব্যবসায়ের মাধ্যমে ধন সম্পদ অর্জন করে নিজের , সমাজের তথা দেশের অগ্রগতি সাধন করা সম্ভব ।

    অপর দিকে , আমরা যদি উন্নত বিশ্বের দিকে তাকাই তাহলে দেখবাে সে সব দেশের উন্নতির মূলে রয়েছে ব্যবসায় তথা শিল্প ও বাণিজ্যে উন্নতি । ব্যবসায় করেই ইংরেজরা দুশ বছর আমাদের শাসন ও শােষণ করেছে । বর্তমান বিশ্বে যে সব দেশে পৃথিবীতে আদিপত্য ও প্রভাব বিস্তার করছে তাদেরও মূল শক্তি হচ্ছে ব্যবসায় - বাণিজ্য । বর্তমান বিশ্বে সাম্রাজ্যবাদ না থাকলেও ব্যবসায়িক তথা অর্থনৈতিক সাম্রাজ্যাদি চলছে । গুরুত্ব পাচ্ছে দেশে দেশে অর্থনৈতিক কুটনীতি বা Economic Diplomacy . ব্যবসায় বাণিজ্যের মাধ্যমেই চলছে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনের প্রচেষ্টা । কাজেই জাতীয় ও আন্তর্জাতিক কল্যাণে ব্যবসায়ের গুরুত্ব বলে শেষ করা যাবে না । তবুও বিভিন্ন দিক থেকে ব্যবসায়ের গুরুত্ব তুলে ধরার চেষ্টা করা হল : 

    ১. দেশের ছড়ানাে ছিটানাে সম্পদের উপযুক্ত ব্যবহার সম্ভব কেবল ব্যবসায়ের মাধ্যমেই । 

    ২.ব্যবসায়ের জন্য প্রয়ােজন বিনিয়ােগ , আর বিনিয়ােগ আসে সঞ্চয় থেকে । কাজেই ব্যবসায় জন্যই সঞ্চয়ে উৎসাহ আসে । 

    ৩. ব্যবসায়ের মাধ্যমে ব্যক্তিগত আয় ও সুখ স্বাচ্ছন্দ্য বৃদ্ধি পায় , ফলে জাতীয় আয়ও বৃদ্ধি পায় । 

    ৪. ব্যবসায় প্রয়ােজনে কাঁচামাল ও পণ্য আনা নেওয়ার জন্য সরকারী বেসরকারী উদ্যোগে পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটে । বৃটিশরা পদ্মা নদীর উপর হার্ডিঞ্জ ব্রিজ তৈরী করে রেল ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটিয়েছিল ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যেই । 

    ৫. ব্যবসায়ের ফলে ব্যক্তির কার্যদক্ষতা , উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পায় এবং অর্থনৈতিক উন্নতি সহজ হয় ।

    ৬. ব্যবসায়ের প্রয়ােজনে বিভিন্ন প্রচেষ্টা ও গবেষণার ফলে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন সাধিত হয় । ফলশ্রুতিতে মানুষ পায় কম দামে উন্নতমানের নিত্যনুন পণ্য । 

    ৭. ব্যবসায় - বাণিজ্যের প্রসার ঘটলে সরকারের রাজস্ব আদায় প্রচুর বৃদ্ধি পায় । ফলে সরকারের অর্থনৈতিক সামর্থ্য বৃদ্ধি পায় এবং ভদনগণ এর সুফল ভােগ করে । 

    ৮. ব্যবসায় - বাণিজ্যের বদৌলতে পৃথিবীর যে কোন দেশের যে কোন স্থানে উৎপাদিত যে কোন পণ্য আমরা ঘরে বসেই পাচ্ছি । এতে আমাদের জীবন হয়েছে সহজ , আরামদায়ক ও উন্নত । 

    ৯. নিজের ও অন্যদের কর্মসংস্থানের সবচেয়ে সহজ ও উত্তম উপায় হলাে ব্যবসায় - বাণিজ্য । আমাদের মত দেশের মারাত্মক বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তির একমাত্র উপায় হল ব্যবসায় - বাণিজ্যের প্রসার ঘটানাে ।

    ১০.ব্যবসায়ের সাহচর্যে ও প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা লাভের কারণে দেশে দক্ষ উদ্যোক্তা শ্রেণী ও ব্যবসায়ী সম্প্রদায় গড়ে উঠে । যাদের ভূমিকার কারণে দেশের অর্থনীতি ও সমাজ উপকৃত হয় । বলা হয় " একশত ইঞ্জিনিয়ারের চেয়ে একজন উদ্যোক্তা অধিক গুরুত্বপূর্ণ । " 

    ১১. ব্যবসায়ের প্রত্যক্ষ ও পরােক্ষ প্রভাবে দেশে শিক্ষা ও সংস্কৃতির মান উন্নত হয় । 

    ১২. আন্তর্জাতিক ব্যবসায় - বাণিজ্যের কারণে বিভিন্ন দেশের মধ্যে ও বিভিন্ন দেশের মানুষের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়েউঠে । এতে করে অজ্ঞানার্জন ও পারস্পরিক সাহায্য ও সহযােগিতার ক্ষেত্র প্রসারিত হয় ।



    এইচএসসি এসাইনমেন্ট ২০২১ উত্তর /সমাধান ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র (এসাইনমেন্ট ১)



    Tag: এইচএসসি এসাইনমেন্ট ২০২১ উত্তর /সমাধান ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র (এসাইনমেন্ট ১),  ২০২১ সালের এইচএসসি ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা এসাইনমেন্ট সমাধান (১ম পত্র)
    Previous Post Next Post

    👇 সকল ক্লাসের এসাইনমেন্ট নোটিফিকেশন আকারে সহজে পেতে ডাউনলোড করুন আমাদের এপ্লিকেশন 

    আমাদের ফেসবুক পেইজে যুক্ত হতে ক্লিক করুন