এসএসসি এসাইনমেন্ট ২০২১ উত্তর ব্যবসায় উদ্যোগ (২য় সপ্তাহ) | ২০২১ সালের এসএসসি ২য় সপ্তাহের ব্যবসায় উদ্যোগ এসাইনমেন্ট সমাধান/উত্তর | বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ব্যবসায় উদ্যোগের ভূমিকা নিরুপণ


    বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ব্যবসায় উদ্যোগের ভূমিকা নিরুপণ


    ২০২১ সালের এসএসসি ২য় সপ্তাহের ব্যবসায় উদ্যোগ এসাইনমেন্ট সমাধান/উত্তর


    উদ্যোগ ও ব্যবসায় উদ্যোগ : 
    সাধারণ অর্থে যে কোনাে কাজের কর্মপ্রচেষ্টাই উদ্যোগ । উদ্যোগ যে কোনাে বিষয়েই হতে পারে । যেমন উদাহরণস্বরূপ মনে করাে , তােমাদের কোনাে এক বন্ধু তােমাদেরকে প্রস্তাব করলাে একটি পিকনিক এর আয়ােজন করতে । সে আরও বললাে সে পিকনিক টি সম্পূর্ণ করার জন্য সকল প্রকার সহযােগিতা করবে । পিকনিকের আয়ােজন করা একটি কষ্টসাধ্য ব্যাপার । এক্ষেত্রে পিকনিকের জন্য স্থান নির্বাচন , সময় নির্ধারণ , চঁাদা উঠানাে , ইত্যাদি বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলাে । এই যে তােমাদের মধ্য থেকে তােমাদের যে এক বন্ধু পিকনিকের আয়ােজন করতে এগিয়ে এলাে , এটি এক ধরনের উদ্যোগ ।

    উদ্যোগ ও ব্যবসায় উদ্যোগ : 
    ভাষার আরাে একটি উদাহরণ লক্ষ করাে , মনে করাে তােমার এলাকায় খেলাধুলা করার মত তেমন একটা ভালাে জায়গা নেই । তাে রহিম সাহেব ছেলেমেয়েদের খেলাধুলার জন্য একটি মাঠ প্রস্তুত করতে এগিয়ে আসেন । তিনি ছেলে মেয়েদেরকে নিয়ে একটি পরিত্যক্ত জঙ্গল পরিষ্কার করে খেলার উপযােগী মাটি তৈরি করেন । এটি তার দৃঢ় মনােবল ও উদ্যোগ গ্রহণের ফসল । এভাবে সকল প্রকার জনহিতকর কাজ যেমন , স্কুল - কলেজ , হাসপাতাল ও খেলাধুলার ক্লাব প্রতিষ্ঠা করাও উদ্যোগের ফসল ।

    উদ্যোগ ও ব্যবসায় উদ্যোগ : 
    যে কোনাে ব্যবসায়ও কোনাে একজন ব্যক্তি বা কয়েকজনের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফসল । একটি ব্যবসায় স্থাপনের ধারণা চিহ্নিতকরণ থেকে শুরু করে ব্যবসায়টি স্থাপন ও সফলভাবে পরিচালনাই ব্যাবসায় উদ্যোগ । বিশদভাবে বলতে গেলে , ব্যবসায় উদ্যোগ বলতে বােঝায় লাভবান হওয়ার আশায় লােকসানের সম্ভাবনা জেনেও ঝুঁকি নিয়ে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠার জন্য দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যাওয়া ও সফলভাবে ব্যবসায় পরিচালনা করা ।

    ব্যবসায় উদ্যোগ এর উদাহরণ 
    আমিনুলের কাহিনী  

    জনাব আমিনুল ইসলাম ছােটবেলা থেকেই ভাবতেন নতুন কিছু করার । স্থানীয় কলেজ থেকে ডিগ্রি পাস করে তিনি তার পারিবারিক কাপড়ের ব্যবসায় মনােনিবেশ করেন । কিন্তু এ ব্যবসায়ে তিনি সন্তুষ্ট থাকতে পারলেন না । তিনি তার বাড়ির কাছে মহাসড়ক সংলগ্ন বাজারে প্রতিদিন যেতেন । একদিন তিনি উপলব্ধি করলেন যে , বাজারটি মহাসড়কের পাশে হওয়ায় এখানে প্রায়ই যানবাহনগুলাে ছােট - খাটো মেরামতের জন্য যাত্রা বিরতি করে । আমিনুল মেরামতের চাহিদা অনুধাবণ করে নিজের জমানাে অর্থ এবং কিছু অর্থ ধার করে মূলধন গঠন করে একটি ওয়ার্কশপ স্থাপন করেন ।

    ব্যবসায় উদ্যোগ এর উদাহরণ 
    কিন্তু যানবাহন মেরামত করার দক্ষতা তার না থাকায় স্থানীয় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে এ বিষয়ে তিন মাসের প্রশিক্ষণ নেন । প্রথম দিকে ব্যবসায় থেকে তেমন T য় হয়নি । কিন্তু কঠোর পরিশ্রম , দক্ষ সেবা ও সততার জন্য ধীরে ধীরে তার ব্যবসায়ের সুনাম ছড়িয়ে পড়ে এবং আয়ও বাড়তে থাকে । ব্যবসায় থেকে লাভবান হয়ে এখন তিনি এ ব্যবসায়ের সাথেই একটি পেট্রোল পাম্প স্থাপনের চিন্তা ভাবনা করছেন । জনাব আমিনুল ইসলাম তার ইচ্ছা পূরণের জন্য ঝুঁকি নিয়েছেন এবং দৃঢ় মনােবল নিয়ে পরিশ্রম করেছেন।বএই কর্ম প্রচেষ্টাই তার ব্যবসায় উদ্যোগ ।

    ব্যবসায় উদ্যোগ এর উদাহরণ 
    ফলাফল অনিশ্চিত যে ব্যক্তি দৃঢ় মনােবল ও সাহসিকতার সাথে ফলাফল অনিশ্চিত জেনেও ব্যবসায় স্থাপন করেন ও সফলভাবে ব্যবসায় পরিচালনা করেন , তিনি ব্যবসায় উদ্যোক্তা বা শিল্পোদ্যোক্তা ।

    ব্যবসায় উদ্যোগ গড়ে উঠার অনুকূল পরিবেশ  

    আমরা যদি উন্নত বিশ্বের দিকে লক্ষ করি তাহলে দেখতে পাই অগ্রগতির একটি প্রধান কারণ হলাে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠা , পরিচালনা ও সম্প্রসারণের অনুকূল পরিবেশ । আমাদের দেশে মেধা , মনন ও দক্ষতার খুব বেশি ঘাটতি নেই । শুধুমাত্র অনুকূল পরিবেশের অভাবে আমাদের অগ্রযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে । ব্যবসায় উদ্যোগ গড়ে উঠার জন্য নিম্নোক্ত অনুকূল পরিবেশ থাকা উচিত ।

    ব্যবসায় উদ্যোগ গড়ে উঠার অনুকূল পরিবেশ 

    উন্নত অবকাঠামােগত উপাদানঃ 
    ব্যবসায় পরিচালনার জন্য আনুষঙ্গিক কিছু সুযােগ সুবিধা , যেমন বিদ্যুৎ , গ্যাস ও যাতায়াত ব্যবস্থা দরকার । ব্যবসায়ের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টির জন্য এই সকল উপাদান থাকা বাঞ্ছনীয় । 

    সরকারি পৃষ্ঠপোষকতাঃ
    পৃষ্ঠপােষকতার মাধ্যমে দেশের ব্যবসায় উদ্যোগের আরও সম্প্রসারণ ও সমৃদ্ধি সম্ভব । সরকারি বিভিন্ন সিদ্ধান্ত যেমন কর মওকুফ , স্বল্প বা বিনা সুদে মূলধন সরবরাহ ইত্যাদি ব্যবসায় উদ্যোগের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারবে । 

    • আর্থ - সামাজিক স্থিতিশীলতাঃ অর্থনৈতিক , রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা যেমন ব্যবসায় উদ্যোগের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করে , তেমনি অর্থনৈতিক , রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা উপর ক্লিপ প্রভাব ফেলে।  

    • অনুকূল আইন - শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আইন - শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনুকূল থাকলে ব্যাবসায় স্থাপন ও পরিচালনা সহজ হয় । অন্যদিকে অস্থিতিশীল আইন - শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ব্যবসায় স্থাপন ও পরিচালনার ক্ষেত্রে মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করে ।

    *পর্যাপ্ত পুঁজির প্রাপ্যতাঃ যে কোনাে ব্যবসায় উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়ন করার জন্য প্রয়ােজন পর্যাপ্ত পরিমাণ পুঁজি বা মূলধন । মূলধনের স্বল্পতার কারণে অধিকাংশ ব্যবসায় স্থাপন ও পরিচালনা করা সম্ভব হয় না । এজন্য দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটাতে হবে যাতে করে নতুন উদ্যোক্তারা পুঁজির যােগান পেতে পারে । 

    *প্রশিক্ষণের সুযােগঃ প্রশিক্ষণের অভাবে অনেক সময় সুযােগ থাকা সত্ত্বেও সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয় না । প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ব্যবসায়ের জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করা সম্ভব ।

    ব্যবসায় উদ্যোগ এর বৈশিষ্ট্য 

    ব্যবসায় উদ্যোগের ধারণা বিশ্লেষণ করলে যে সকল বৈশিষ্ট্য ও কার্যাবলি লক্ষ করা যায় তা হলাে : 
    ১। এটি ব্যবসায় স্থাপনের কর্ম উদ্যোগ । ব্যবসায় স্থাপন সংক্রান্ত সকল কর্মকাণ্ড সফলভাবে পরিচালনা করতে ব্যবসায় উদ্যোগ সহায়তা করে । 
    ২। ঝুঁকি আছে জেনেও লাভের আশায় ব্যবসায় পরিচালনা । ব্যবসায় উদ্যোগ সঠিকভাবে ঝুঁকি পরিমাপ করতে এবং পরিমিত ঝুঁকি নিতে সহায়তা করে । 
    ৩। ব্যবসায় উদ্যোগের ফলাফল হলাে একটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান । এর মানে হলাে ব্যবসায় উদ্যোগ সম্পর্কে ধারণা কোনাে চিন্তা - ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে সহায়তা করে ।
    ৪। ব্যবসায় উদ্যোগের অন্য একটি ফলাফল হলাে একটি পণ্য বা সেবা । 
    ৫। ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানটি সফলভাবে পরিচালনা করা  
    ৬। নিজের জন্য কর্মসংস্থানের সুযােগ সৃষ্টি করা । ব্যবসায় উদ্যোগের মাধ্যমে একজন উদ্যোক্তা নিজের উপার্জনের ব্যবস্থা করতে পারেন ।

    ৭। অন্যদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা । ব্যবসায় উদ্যোগ মালিকের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি অন্যদের জন্যও কর্মসংস্থানের সুযােগ সৃষ্টি করেন । উদ্যোগ 
    ৮। নতুন সম্পদ সৃষ্টি করা । ব্যবসায় উদ্যোগের মাধ্যমে যেমন মানবসম্পদ উন্নয়ন হয় তেমনি মূলধনও গঠন হয় । 
    ৯। সার্বিকভাবে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখা । ব্যবসায় উদ্যোগ দেশের আয় বৃদ্ধি ও বেকার সমস্যার সমাধানসহ অন্যান্য ক্ষেত্রেও অবদান রাখতে পারে ।

    দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে ব্যবসায় উদ্যোগ এর গুরুত্ব 

    বাংলাদেশ একটি উন্নয়শীল দেশ । বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা -২০১০ অনুযায়ী আমাদের মােট জাতীয় উৎপাদনের প্রায় ৫০ ভাগ আসে সেবা খাত থেকে , প্রায় ২০ ভাগ আসে কৃষি খাত থেকে আর বাকি ৩০ ভাগ আসে শিল্প খাত থেকে । যে কোনাে দেশের উন্নয়নে শিল্পখাত মুখ্য ভূমিকা পালন করে । ব্যবসায় উদ্যোগের মাধ্যমে শিল্পখাতসহ সকল খাতেরই উন্নয়ন সম্ভব । ব্যবসায় উদ্যোগ নিম্নোক্তভাবে আমাদের দেশের আর্থ সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে। 

    দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে ব্যবসায় উদ্যোগ এর গুরুত্ব 
    ১ ) সম্পদের সঠিক ব্যবহারঃ ব্যবসায় উদ্যোগ আমাদের দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ ও মানব সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করে । তাছাড়া নতুন নতুন শিল্প স্থাপনের মাধ্যমে বিনিয়ােগ বৃদ্ধি এবং সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব ।

    ২ ) জাতীয় উৎপাদন ও আয় বৃদ্ধিঃ ব্যবসায় উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের জাতীয় আয় বৃদ্ধি পায় । ফলে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত জাতীয় আয় বৃদ্ধির লক্ষমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হয়  

    ৩ ) নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিঃ সরকারের পাশাপাশি উদ্যোক্তাদের মাধ্যমেও দেশে শিল্প কারখানা স্থাপন , পরিচালনা ও সম্প্রসারণ হয়ে থাকে । এর মাধ্যমে নিত্যনতুন কর্মসংস্থানের সুযােগ সৃষ্টি হয় যা বেকার সমস্যা দূর করতে উল্লেখযােগ্য ভূমিকা রাখে ।

    ৪ ) দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টিঃ বাংলাদেশ একটি জনবহুল দেশ । আমাদের এই বিশাল জনসংখ্যাই আমাদের সম্পদ হতে পারে কারণ ব্যবসায় উদ্যোক্তা দেশের অদক্ষ জনগােষ্ঠীকে উৎপাদনশীল কাজে নিয়ােজিত করে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর তে পারে।মাজিক 
    ৫ ) পরনির্ভরশীলতা দূরীকরণঃ ব্যবসায় উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা আমাদের পরনির্ভরশীলতা অনেকাংশে হ্রাস করতে পারি । ব্যবসায় উদ্যোগের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা একদিন অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারব ।


    এসএসসি এসাইনমেন্ট ২০২১ উত্তর ব্যবসায় উদ্যোগ (২য় সপ্তাহ)



    Tag: এসএসসি এসাইনমেন্ট ২০২১ উত্তর ব্যবসায় উদ্যোগ (২য় সপ্তাহ),  ২০২১ সালের এসএসসি ২য় সপ্তাহের ব্যবসায় উদ্যোগ এসাইনমেন্ট সমাধান/উত্তর, বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ব্যবসায় উদ্যোগের ভূমিকা নিরুপণ
    Previous Post Next Post

    👇 সকল ক্লাসের এসাইনমেন্ট নোটিফিকেশন আকারে সহজে পেতে ডাউনলোড করুন আমাদের এপ্লিকেশন 

    আমাদের ফেসবুক পেইজে যুক্ত হতে ক্লিক করুন