এইচএসসি এসাইনমেন্ট ২০২১ উত্তর /সমাধান সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র (এসাইনমেন্ট ১) | ২০২১ সালের এইচএসসি সমাজবিজ্ঞান এসাইনমেন্ট সমাধান (১ম পত্র)


    ২০২১ সালের এইচএসসি সমাজবিজ্ঞান এসাইনমেন্ট সমাধান (১ম পত্র)


    শিরোনামঃ সমাজবিজ্ঞানের উৎপত্তি ও বিকাশ

    সমাধানঃ

    সমাজবিজ্ঞান শব্দের উদ্ভব ( Origin of the Word ' Sociology ' ) 

    ফরাসী সমাজবিজ্ঞানী অগাষ্ট কোঁৎ ১৮৩৯ সালে সর্বপ্রথম Sociology শব্দটি উদ্ভাবন করেন । Sociology শব্দটি ল্যাটিন শব্দ Socius , যার অর্থ সমাজ ও গ্রীক শব্দ Logos , যার অর্থ বিজ্ঞান বা বিশেষ জ্ঞান- এই দুই শব্দ থেকে উদ্ভুত । তাহলে শব্দগত অর্থে বলা যায় সমাজ সম্পর্কিত বিশেষ জ্ঞান যে বিজ্ঞানের মূল বিবেচ্য বিষয় তাকেই বলা হয় সমাজবিজ্ঞান । Sociology- র বাংলা প্রতিশব্দ হিসেবে সমাজবিজ্ঞানকে গ্রহণ করা হয়েছে । বাংলা ভাষায় সমাজ সম্পর্কিত বিজ্ঞান ভিত্তিক আলােচনার সূত্রপাত করেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক বিনয় কুমার সরকার । অধ্যাপক সরকারও Sociology- র বাংলা প্রতিশব্দ হিসেবে সমাজবিজ্ঞান ব্যবহার করেছেন । তবে Sociqlogy -র বাংলা সমাজতত্ত্ব ’ ও ‘ সমাজবিদ্যা’ও করা হয়েছে । কিন্তু আক্ষরিক দিক থেকে বিবেচনা করলে Sociology- র বাংলা সমাজবিজ্ঞান ’ - ই অধিকার গ্রহণযােগ্য ।

    সমাজবিজ্ঞান সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা ( Preliminary Idea of Sociology ) : 

    সমাজবিজ্ঞানে প্রধানত মানুষের দলগত আচরণ ও পারস্পরিক কার্য কলাপ সংক্রান্ত বিষয়াদি সম্পর্কে পাঠ করা হয় । মানুষের সংঘবদ্ধ জীবন যাত্রার উদ্দেশ্য ও গতি - প্রকৃতি সম্বন্ধেও এক্ষেত্রে আলােচিত হয় । কিভাবে মানুষের সমাজে নানা ধরনের সংঘের ( Association ) বিকাশ ঘটেছে এবং কিভাবে এ সবের ভেতর পরিবর্তন এসেছে তাও সমাজবিজ্ঞানে আলােচিত হয় । তাহলে আমরা বুঝতে পারছি যে , সামাজিক সংগঠন সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা এবং এসবের ব্যাখ্যা করাই সমাজবিজ্ঞানের প্রধান লক্ষ্য । অবশ্য মানুষের জীবন যাত্রার উন্নতি বিধান হল সমাজবিজ্ঞানের চূড়ান্ত লক্ষ্য । সে কারণে সামাজিক সমস্যা সম্পর্কে বস্তুনিষ্ঠ জ্ঞান লাভ করার উপর সমাজবিজ্ঞানে বিশেষ গুরুত্ব আরােপ করা হয় । কেননা সামাজিক সমস্যাকে সার্থকভাবে মােকাবিলা করতে হলে সমস্যা সম্পর্কে আগে ভালভাবে জানতে হবে ।

    বিভিন্ন সমাজবিজ্ঞানীর দেওয়া সংজ্ঞা 

    মূলত সমাজবিজ্ঞান হচ্ছে সমাজ এবং মানুষের সামাজিক সম্পর্কের বিজ্ঞানভিত্তিক বিশ্লেষণ ও পর্যালােচনা । বিভিন্ন সমাজবিজ্ঞানী সমাজবিজ্ঞানের সংজ্ঞা দিয়েছেন । যেমন- সমাজবিজ্ঞানী ফ্রাঙ্ক ওয়ার্ড সমাজবিজ্ঞানকে সমাজের বিজ্ঞান বলে অভিহিত করেছেন । ( Sociology is the Science of Society ) ) । সামনার সমাজবিজ্ঞানকে সামাজিক প্রপঞ্চের বিজ্ঞান বলে আখ্যায়িত করেছেন । " Sociology is the Science of social phenomena " সমাজবিজ্ঞানী ভুখীম বলেন যে , সমাজবিজ্ঞান হচ্ছে প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞান । " Sociology is the Science of institution " । সমাজবিজ্ঞানী কোভালেভস্কির মতে সমাজবিজ্ঞান হলাে সামাজিক সংগঠন এবং সমাজ পরিবর্তনের বিজ্ঞান । " Sociology is the science of social organization and social change . " . " ।

    খ ’ নং প্রশ্নের উত্তর সমাজবিজ্ঞানের প্রকৃতি : 

    কোনাে বিষয় বা বস্তুর প্রকৃতি বলতে ওই বিষয় বা বৈশিষ্ট্য বা স্বভাব বা পরিচয়কে বােঝায় । অতএব সমাজবিজ্ঞানের প্রকৃতি বলতে সমাজবিজ্ঞান বিষয়ের বৈশিষ্ট্য বা পরিচয়কে বােঝায় । সমাজবিজ্ঞানের প্রকৃতি , বৈশিষ্ট্য , স্বভাব নিচে আলােচনা করা হলাে ।

    ১. বিজ্ঞানভিত্তিক আলােচনা ও বিশ্লেষণ : সমাজবিজ্ঞানের প্রকৃতি তথা এর উদ্দেশ্য হলাে সমাজে বসবাসকারী মানুষের পারস্পরিক সম্পর্কেও বিজ্ঞানভিত্তিক আলােচনা ও বিশ্লেষণ করা । 

    ২. সমাজকে পূর্ণাঙ্গরূপে অধ্যয়ন কবে : রাষ্ট্রবিজ্ঞান বা অর্থনীতি সে ক্ষেত্রে সমাজের এক একটা দিক সম্পর্কে পাঠ করে সে ক্ষেত্রে সমাজবিজ্ঞান গােটা সমাজের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ প্রদান করে ।


    ৩. সমাজের গঠনপ্রকৃতি ও সামাজিক কাঠামাে সম্পর্কে আলােচনা করে : কিসের ভিত্তিতে এবং কিভাবে সমাজ গড়ে ওঠে এবং কিভাবেই বা সমাজ একটা কাঠামােগত রূপ নেয় তা সমাজবিজ্ঞানের আলােচ্য বিষয় । এখানে বলা প্রযােজন , সমাজের তথা তার কাঠামাের ভিত্তি হচ্ছে মান সম্পর্ক । ব্যক্তি , গােষ্ঠী এবং প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক সমাজবিজ্ঞানের আলােচ্য বিষয় ।


    ৪. সমাজবিজ্ঞান সমাজের বিজ্ঞানভিত্তিক পাঠ : সমাজবিজ্ঞান সমাজ গবেষণায় বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি এবং কৌশল অবলম্বন করে । সমাজের ব্যাখ্যা ও গবেষণায় হোলি , কল্পনা এবং আবেগের স্থান নেই । সমাজের বাস্তবতা নির্ণয় এর অন্যতম লক্ষ্য । 

    ৫. সমাজবিজ্ঞান একটি বিশ্লেষণধর্মী বিজ্ঞান : সমাজবিজ্ঞান নেহায়েত সমাজের ঘটনাবলির বর্ণনাই কেবল নয় , এটি ঘটনাসমূহের কার্যকারণ সম্পর্ক নির্ণয়ে যুক্তিভিত্তিক বিচার - বিশ্লেষণ করার প্রয়াস পায় । অর্থাৎ সমাজবিজ্ঞান কেবল সমাজের আলােচনা নয় , পর্যালােচনাও বটে ।

    ৬. নৈতিকতার প্রশ্নে সমাজবিজ্ঞান নিরপেক্ষ : সমাজের বাস্তব ভালাে কি মন্দ , সমাজ কেমন হওয়া উচিত কি অনুচিত , এসব বিষয়ে নিরপেক্ষ অবলম্বন করে অর্থাৎ এ বিষয়ে সুস্পষ্ট রায় দেওয়া থেকে সমাজবিজ্ঞান বিরত থাকে । 

    ৭. সমাজবিজ্ঞান সর্বদাই নিরপেক্ষ অবলম্বন করতে পারে না যদিও তাবিকভাবে এবং আদর্শগতভাবে সমাজবিজ্ঞান মূল্যবােধনিরপেক্ষ বিজ্ঞান , তথাপি উন্নয়নকামী সমাজে সমাজবিজ্ঞান চর্চার অন্য লক্ষ্য হচ্ছে সমাজের সমস্যাবলি চিহ্নিতকরণ এবং তার সমাধানের নির্দেশনা দেওয়া।


    ৮. পরিবর্তনশীল সমাজের দিকনির্দেশনা প্রদান : পরিবর্তনশীল সমাজের দিকনির্দেশনা প্রদানও সমাজবিজ্ঞানের অন্যতম কাজ ।

    গ ’ নং প্রশ্নের উত্তর 

    সমাজবিজ্ঞানের ৮ টি পরিধির বিবরণ নিচে ব্যাখ্যা করা হলােঃ 

    ১. সামাজিক কর্মকান্ড : সমাজবিজ্ঞানের পরিধির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল সামাজিক কর্মকান্ড । সামাজিক কর্মকান্ডের মাধ্যমে সমাস্থ মানুষের ভাল - মন্দ বিচার করা হয় । 

    ২. সামাজিক ধারণা : সামাজিক ধারণাসমূহ নিয়ে সমাজবিজ্ঞান আলােচনা করে থাকে । মরিস জিন্সবার্গের মতে , মানুষের ক্রিয়া - প্রতিক্রিয়া এবং এর ফলাফল সম্পর্কিত আলােচনাই হল।

    ৩. সামাজিক পরিবর্তন: ও সমাজ প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে । সমাজ কাঠামাের পরিবর্তনের ফলে সমাজের রূপান্তর একটি সাবলীল সত্য । মানব জাতির আচার - ব্যবহার , তি - নীতি প্রভৃতি জীবন যাত্রার সকল বিষয়ের আলােচনা করাই সমাজবিজ্ঞানের কাজ ।

    ৪. সামাজিক প্রতিষ্ঠান : সামাজিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ব্যক্তি ও দলের মধ্যে সামাজিক মূল্যবােধ নির্ধারিত হয় । কিভাবে মানুষের সমাজে নানাবিধ প্রতিষ্ঠানের বিকাশ ঘটেছে এবং কিভাবে এসবের ভেতর পরিবর্তন এসেছে এগুলাের বিচার বিশ্লেষণ সমাজবিজ্ঞানের পরিধিভুক্ত । 

    ৫. সামাজিক নিয়ন্ত্রণ : সমাজকে কতিপয় সুসংবদ্ধ ও সুশৃঙ্খল রীতি - নীতি ও আচার অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালনা করাকে সামাজিক নিয়ন্ত্রণ বলে । সমাজবিজ্ঞানীগণের মতে , সমাজবিজ্ঞানের বিষয়বস্তু কতগুলাে আচার - অনুষ্ঠান ও মূল্যবােধের দ্বারা নির্ধারিত । 

    ৬. সামাজিক সমস্যা: সমাজবিজ্ঞান নৈতিকতার প্রশ্নে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে । কাজেই সমাজবিজ্ঞান বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সামাজিক সমস্যার বিশ্লেষণ করতে চায় । 

    ৭. সামাজিক আদর্শ : সমাজবিজ্ঞানের পরিধি ও বিষয়বস্তু হিসেবে সামাজিক আদর্শের অবদান রয়েছে । সামাজিক আদর্শছাড়া কোন জাতি উন্নতির চরম শিখরে আরােহন করতে পারে না।

    ৮. সমাজের সামগ্রিক বিষয়ে আলােচনা : মানুষের কার্যকলাপ এবং মানুষের সাংগঠনিক প্রতিভা , সংস্কৃতি , মূল্যবােধ প্রভৃতি বিষয়গুলাে সমাজবিজ্ঞানের পরিধিকে অত্যন্ত ব্যাপকতর করে তুলেছে ।

    ঘ ’ নং প্রশ্নের উত্তর 

    সমাজবিজ্ঞানের উৎপত্তি ও বিকাশ ধারা এবং এই বিকাশধারা নিয়ে ৪ জন চিন্তাবিদের মতবাদ নিচে ব্যাখ্যা করা হলােঃ 

    জ্ঞানের একটি পৃথক শাখা হিসেবে আমাদের সমাজে সমাজবিজ্ঞানের পরিচয় খুব বেশী দিনের নয় । সামাজিক বিজ্ঞান সমূহের মধ্যে সমাজবিজ্ঞান সর্বকনিষ্ঠ । কেননা উনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে - এর আবির্ভাব ঘটে ।। মূলত , মানুষের বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণের প্রচেষ্টা থেকে সামাজিক বিজ্ঞানের বিকাশ ঘটে । প্রাথমিক অবস্থায় মানব জীবন সম্পূর্ণভাবে প্রকৃতির উপর নির্ভরশীল ছিল । প্রকৃতির অনকল ও প্রতিকল পরিবেশেই মানব চিন্তা বিকশিত হতে থাকে । জগৎ ও জীবন সম্পর্কে জ্ঞানের একটি পৃথক শাখা হিসেবে আমাদের সমাজে সমাজবিজ্ঞানের পরিচয় খুব বেশী দিনের নয় । সামাজিক বিজ্ঞান সমূহের মধ্যে সমাজবিজ্ঞান সর্বকনিষ্ঠ । কেননা উনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে - এর আবির্ভাব ঘটে ।। মূলত , মানুষের বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণের প্রচেষ্টা থেকে সামাজিক বিজ্ঞানের বিকাশ ঘটে । প্রাথমিক অবস্থায় মানব জীবন সম্পূর্ণভাবে প্রকৃতির উপর নির্ভরশীল ছিল । প্রকৃতির অনুকূল ও প্রতিকূল পরিবেশেই মানব চিন্তা বিকশিত হতে থাকে । জগৎ ও জীবন সম্পর্কে ভাবনা আদিকাল থেকে চলে আসছে । আদিতে সকল রকম চিন্তা চেতনা দর্শন শাস্ত্রের অন্তর্ভুক্ত ছিল । কিন্তু মানবচিন্তার ক্রমবিকাশের ধারায় দর্শনশাস্ত্রের সীমানা পেরিয়ে জ্ঞান - বিজ্ঞানের নব দিগন্ত উন্মােচিত হতে থাকে । এভাবে মানুষের বিচিত্র জ্ঞানের শাখা হিসেবে জ্যোতির্বিদ্যা , পদার্থবিদ্যা , রসায়নবিদ্যা , মনােবিদ্যা , ভূগােল ও ইতিহাস প্রভৃতির উদ্ভব ও বিকাশ ঘটে । তাই জ্ঞান চর্চার ইতিহাস ও তার উৎস খুঁজতে গিয়ে বার বার আমাদের ফিরে তাকাতে হয় সুদূর অতীতের দিকে ।


    প্রাচীন গ্রীক ও রােমান পন্ডিতদের লেখায় সমাজ ও রাষ্ট্র সম্পর্কিত আলােচনা সমৃদ্ধি লাভ করে । গ্রীক দার্শনিকদের মধ্যে প্লেটো এবং এরিষ্টটল এর নাম এ প্রসঙ্গে উল্লেখযােগ্য । মূলত , প্লেটো , এরিষ্টটল ও পিথাগােরাস প্রাকৃতিক বিজ্ঞান ও সামাজিক বিজ্ঞানকে দর্শনশাস্ত্রের আওতাভুক্ত বলে মনে করতেন । দর্শনশাস্ত্রের অঙ্গ হিসেবেই তাঁরা সামাজিক বিজ্ঞানকে পর্যালােচনা করেন । এ প্রসঙ্গে আমরা সর্বপ্রথম প্লেটোর নাম উল্লেখ করতে পারি । আমরা এখন ধারাবাহিকভাবে সমাজবিজ্ঞানের উৎপত্তি ও বিকাশ সম্পর্কে বিভিন্ন দার্শনিক ও সমাজবিজ্ঞানীর মতবাদ আলােচনা করব ।


    প্লেটো 
    প্লেটো তাঁর Republic নামক গ্রন্থে সমাজ সম্পর্কে যে সব তত্ত্বের অবতারণা করেছেন সেসব মূলত যুক্তি নির্ভর হলেও অনেক ক্ষেত্রে বাস্তবতা বর্জিত । কেননা , তিনি তাঁর গ্রন্থে একটি আদর্শ রাষ্ট্রের পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছেন , যেখানে শান্তি এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা সম্ভব হতে পারে । মূলত প্লেটোর Republic নামক গ্রন্থে সামাজিক স্তরবিন্যাস এবং বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা ও প্রশ্নের পর্যালােচনা দেখা যায় । প্লেটোর আদর্শ রাষ্ট্রকে প্রাচীন কালের সাম্যবাদ বলেও অভিহিত করা হয় ।

    এরিস্টটল 
    প্লেটোর প্রিয় ছাত্র এরিস্টটল সামাজিক সমস্যা বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে বাস্তববাদী দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় দিয়েছেন । রাষ্ট্রের গড়ন , শ্ৰেণী - নির্ভর সমাজের দাস - মনিব সম্পর্ক এবং সামাজিক বিপ্লবের কারণ অনুসন্ধানে তাঁর মতবাদ অনেকটা সমাজতাত্ত্বিক ও সমাজ - মনস্তাত্ত্বিক রূপ পরিগ্রহ করেছে । প্লেটোর চেয়ে এরিস্টটল বস্তুনিষ্ঠতার পরিচয় দিলেও তিনি মূলত যুক্তিতর্কের মাধ্যমেই একটি আদর্শ সামাজিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় ব্রতী হয়েছিলেন । উল্লেখ্য , তাঁরা কেউই প্রাচীন গ্রীসের সমাজে দাসপ্রথার বিলােপের কথা বলেননি । বরং তাঁদের মতে উক্ত সমাজের অস্তিত্বের জন্য দাসপ্রথা ছিল অপরিহার্য ।

    ইবনে খালদুন 
    তিউনিসিয়ার অধিবাসী মধ্যযুগের বিখ্যাত মুসলিম চিন্তাবিদ ইবনে খালদুন ( ১৩৩২-১৪০৬ ) সমাজচিন্তার বিকাশের ক্ষেত্রে অনন্য অবদান রেখেছেন । ' % এবং সমাজ জীবনে বাহ্যিক ও । তিনি ঐতিহাসিক দর্শনের দৃষ্টিকোণ থেকে তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ‘ মুকাদ্দিমায় ’ সমাজের আধ্যাত্মিক শক্তিসমূহের প্রভাব পর্যালােচনা করেছেন । ইবনে খালদুন সমাজ জীবনের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে বস্তুনিষ্ঠ ব্যাখ্যা দিয়েছেন । যেমন , সংস্কৃতি , রাষ্ট্র , সামাজিক সংহতি সম্পর্কে তিনি বিজ্ঞানসম্মত আলােচনা করেছেন । তিনি বলেছেন সংস্কৃতিকে টিকিয়ে রাখার জন্য Social Solidarity বা সামাজিক সংহতির গুরুত্ব রয়েছে । মধ্যযুগে জন্মগ্রহণকারী এই মনীষী তাঁর চিন্তা - চেতনা এবং জ্ঞান সাধনার মধ্য দিয়ে মানব সভ্যতার অগ্রগতিকে ত্বরান্বিত করে গেছেন । তিনি সামাজিক সংহতিকে ‘ আসাবিহা ’ বলে অভিহিত করেছেন । অনেক বস্তুবাদী লেখক খালদুনকে জার্মান সমাজচিন্তাবিদ কার্ল মার্কসের পূর্বসূরি বলে গণ্য করেছেন ।


    ভিকো 
    ইটালীয় মনীষী ভিকো সমাজবিজ্ঞানের বিকাশের ক্ষেত্রে গুরুত্বপুর্ণ অবদান রেখেছেন । ভিকো তাঁর The New Science নামক গ্রন্থে উল্লেখ করেন যে , সমাজ একটি নির্দিষ্ট নিয়মে বির্বতিত হয় । ভিকো সমাজ বিবর্তনের ধারায় তিনটি যুগ লক্ষ করেন । এগুলাে হচ্ছে : 
    ১। দেবতাদের যুগ ( Age of Gods ) ; 
    ২। বীর যােদ্ধাদের যুগ ( Age of Heros ) ; এবং 
    ৩। মানুষের যুগ ( Age of men ) ।


    এইচএসসি এসাইনমেন্ট ২০২১ উত্তর /সমাধান সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র (এসাইনমেন্ট ১)



    Tag: এইচএসসি এসাইনমেন্ট ২০২১ উত্তর /সমাধান সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র (এসাইনমেন্ট ১),  ২০২১ সালের এইচএসসি সমাজবিজ্ঞান এসাইনমেন্ট সমাধান (১ম পত্র)
    Previous Post Next Post