এসএসসি/দশম শ্রেণির ভূগোল ও পরিবেশ এসাইনমেন্ট সমাধান ২০২১ (৩য় সপ্তাহ) |পরিবেশের উপাদানসমূহের সাথে মানুষের আন্তঃসম্পর্ক নিরূপণ

 

পরিবেশের উপাদানসমূহের সাথে মানুষের আন্তঃসম্পর্ক নিরূপণ
       
       
       

    SSC 3rd Week geography Assignment answer 2011

    এসাইনমেন্ট

    পরিবেশের উপাদানসমূহের সাথে মানুষের আন্তঃসম্পর্ক নিরূপণ

    শিখনফল বিষয়বস্তু

    • ভূগােলের ধারণা , পরিবেশের ধারণা ব্যাখ্যা করতে পারবে।
    • ভূগােলের পরিধি বর্ণনা করতে পারবে ।
    • ভূগােল ও পরিবেশ পাঠের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে পারবে । 
    • ভূগােল ও পরিবেশের উপাদানসমূহের আন্তঃসম্পর্ক বিশ্লেষণ করতে পারবে ।

    এসএসসি/দশম শ্রেণির ভূগোল ও পরিবেশ এসাইনমেন্ট সমাধান ২০২১ (৩য় সপ্তাহ)

    ভূগোলের ধারণা 

    আমরা পৃথিবীতে বাস করি। পৃথিবী আমাদের আবাসভূমি। মানুষের আবাসভূমি হিসেবে পৃথিবীর বর্ণনা হলো ভূগোল। ইংরেজী  Geograph শব্দটি থেকে ভূগোল শব্দ এসেছে। প্রাচীন গ্রিসের ভূগোলবিদ ইরাটসথেনিস প্রথম Geograph শব্দ ব্যবহার করেন। Geo ও graphy শব্দ দুটি মিলে হয়েছে Geography| Geo শব্দের অর্থ ‘ভূ’ বা পৃথিবী এবং graph শব্দের অর্থ বর্ণনা। সুতরাং Geography শব্দটির অর্থ পৃথিবীর বর্ণনা। পৃথিবী আবার মানুষের আবাসভূমি। অধ্যাপক ম্যাকনি (E. A. Macnee) মানুষের আবাসভূমি হিসেবে পৃথিবীর আলোচনা বা বর্ণনাকে বলেছেন ভূগোল। তাঁর মতে ভৌত ও সামাজিক পরিবেশে মানুষের কর্মকাণ্ড ও জীবনধারা নিয়ে যে বিষয় আলোচনা করে তাই ভূগোল। অধ্যাপক ডাডলি স্ট্যাম্পের (Professsor L.Dudley Stamp) মতে, পৃথিবী ও এর অধিবাসীদের বর্ণনাই হলো ভূগোল। কোনো কোনো ভূগোলবিদ ভূগোলকে বলেছেন পৃথিবীর বিবরণ, কেউ বলেছেন পৃথিবীর বিজ্ঞান। অধ্যাপক কার্ল রিটার (Carl Ritter) ভূগোলকে বলেছেন পৃথিবীর বিজ্ঞান।


    ভূগোল একদিকে প্রকৃতির বিজ্ঞান আবার অন্যদিকে পরিবেশ ও সমাজের বিজ্ঞান। প্রকৃতি, পরিবেশ ও সমাজ সম্পর্কে বিশেষ জ্ঞান হলো ভূগোলের আলোচ্য বিষয়। রিচার্ড হার্টশোন (Richard Hartshorne) বলেন, পৃথিবীপৃষ্ঠের পরিবর্তনশীল বৈশিষ্ট্যের যথাযথ যুক্তিসঙ্গত ও সুবিন্যসত্ম বিবরণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয় হলো ভূগোল।


    মার্কিন ভূগোলবিদ অ্যাকারমেনের (E. A. Ackerman) মতে, ভূগোল সকল মানবসম্প্রদায় ও পৃথিবীপৃষ্ঠে তাদের প্রাকৃতিক পরিবেশের সম্বনয়ে গঠিত ব্যাপক মিথস্ক্রিয়া ব্যবস্থার উপলব্ধি ছাড়া আর কিছুই নয়। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসির বিজ্ঞান একাডেমি ১৯৬৫ সালে ভূগোলের একটি সংজ্ঞা দিয়েছে। এর মতে, পৃথিবীপৃষ্ঠে প্রাকৃতিক পরিবেশের উপব্যবস্থাগুলো কীভাবে সংগঠিত এবং এসব প্রাকৃতিক বিষয় বা অবয়বের সঙ্গে মানুষ নিজেকে কীভাবে বিন্যসত্ম করে তার ব্যাখ্যা খোঁজে ভূগোল।


    আলেকজান্ডার ফন হামবোল্টের (Alexandar von Humbolt) মতে, ভূগোল হলো প্রকৃতির সঙ্গে সম্পর্কিত বিজ্ঞান, প্রকৃতিতে যেটি কিছু আছে তার বর্ণনা ও আলোচনা এর অন্তর্ভুক্ত।


    মানুষ পৃথিবীতে বাস করে এবং এই পৃথিবীতেই তার জীবনযাত্রা নির্বাহ করে। পৃথিবীর প্রাকৃতিক পরিবেশ তার জীবনযাত্রাকে প্রভাবিত করে। পৃথিবীর জলবায়ু, ভূপ্রকৃতি, উদ্ভিদ, প্রাণী, নদ-নদী, সাগর, খনিজ সম্পদ তার জীবনযাত্রাকে বিভিন্নভাবে প্রভাবিত করে। তার ক্রিয়াকলাপ তার পরিবেশে ঘটায় নানান রকম পরিবর্তন। ঘর-বাড়ি, অফিস-আদালত, রাস্তা-ঘাট, শহর-বন্দর নির্মাণ প্রকৃতি ও পরিবেশকে বিভিন্নভাবে পরিবর্তিত করে। বনভূমি কেটে তৈরি হয় গ্রাম বা শহরের মতো লোকালয়। খাল, বিল, পুকুর ভরাট হয়। মানুষ ও পরিবেশের মধ্যে এই মিথস্ক্রিয়ার একটি সম্বন্ধ আছে। এই সম্বন্ধের মূলে আছে কার্যকারণের খেলা। ভূগোলের প্রধান কাজ হলো এই কার্যকারণ উদঘাটন করা। পৃথিবীর পরিবেশের সীমার মধ্যে থেকে মানুষের বেঁচে থাকার যে সংগ্রাম চলছে সে সম্পর্কে যুক্তিপূর্ণ আলোচনাই ভূগোল।


    পরিবেশের ধারণা


    মানুষ যেখানেই বাস করুক তাকে ঘিরে একটি পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিরাজমান। প্রকৃতির সকল দান মিলেমিশে তৈরি হয় পরিবেশ। নদী, নালা, সাগর, মহাসাগর, পাহাড়, পর্বত, বন, জঙ্গল, ঘর, বাড়ি, রাস্তা-ঘাট, উদ্ভিদ, প্রাণী, পানি, মাটি ও বায়ু নিয়ে গড়ে ওঠে পরিবেশ। কোনো জীবের চারপাশের সকল জীব ও জড় উপাদানের সর্বসমেত প্রভাব ও সংঘটিত ঘটনা হলো ঐ জীবের পরিবেশ। পরিবেশ বিজ্ঞানী আর্মসের (Arms) মতে, জীবসম্প্রদায়ের পারিপার্শ্বিক জৈব ও প্রাকৃতিক অবস্থাকে পরিবেশ বলে।
    (৩)
    পার্ক (C. C. Park) বলেছেন,পরিবেশ বলতে স্থান ও কালের কোনো নির্দিষ্ট বিন্দুতে মানুষকে ঘিরে থাকা সকল অবস্থার যোগফল বোঝায়।স্থান ও কালের পরিবর্তনের সঙ্গে পরিবেশও পরিবর্তিত হয়। যেমন- শুরুতে মাটি, পানি, বায়ু,উদ্ভিদ,প্রাণী নিয়ে ছিল মানুষের পরিবেশ।পরবর্তীতে এর সঙ্গে যোগ হয়েছে মানুষের সামাজিক,অর্থনৈতিক,সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক কার্যাবলি।ফলে সৃষ্টি হয়েছে এক নতুন ধরনের পরিবেশ।

    পরিবেশের উপাদান দুই প্রকার যেমন জড় উপাদান ও জীব উপাদান। যাদের জীবন আছে, যারা খাবার খায়,যাদের বৃদ্ধি আছে,জন্ম আছে, মৃত্যু আছে তাদের বলে জীব। গাছ-পালা, পশু-পাখি,কীট-পতঙ্গ, মানুষ ও অন্যান্য প্রাণী হলো জীব। এরা পরিবেশের জীব উপাদান। জীবদের নিয়ে গড়া পরিবেশ হলো জীব পরিবেশ।মাটি, পানি,বায়ু,পাহাড়,পর্বত,নদী,সাগর,আলো,উষ্ণতা,আর্দ্রতা হলো পরিবেশের জড় উপাদান।এই জড় উপাদান নিয়ে গড়া পরিবেশ হলো জড় পরিবেশ।

    ভূগোলের পরিধি

    বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিকাশ,নতুন নতুন আবিষ্কার,উদ্ভাবন,চিন্তা-ধারণার বিকাশ,সমাজের মূল্যবোধের পরিবর্তন ভূগোলের পরিধিকে অনেক বিস্তৃত করেছে।এখন নানান রকম বিষয় যেমন ভূমিরূপবিদ্যা, আবহাওয়াবিদ্যা,সমুদ্রবিদ্যা,মৃত্তিকাবিদ্যা,প্রাণিবিদ্যা,সমাজবিদ্যা,অর্থনীতি,রাজনীতি ইত্যাদি ভূগোল বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

    ভূগোলের শাখা (Branch of Geography)—->

    1. প্রাকৃতিক ভূগোল মানব ভূগোল
    2. প্রাকৃতিক ভূগোল জীবভূগোল
    3. জলবায়ুবিদ্যা
    4. ভূমিরূপবিদ্যা
    5. মৃত্তিকা ভূগোল
    6. সমুদ্রবিদ্যা
    7. প্রাণী ভূগোল
    8. মানব ভূগোল অর্থনৈতিক ভূগোল
    9. জনসংখ্যা ভূগোল
    10. রাজনৈতিক ভূগোল
    11. আঞ্চলিক ভূগোল
    12. সামাজিক ভূগোল
    13. দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা
    14. সংখ্যাতাত্ত্বিক ভূগোল
    15. পরিবহন ভূগোল
    16. নগর ভূগোল
    17. চিকিৎসা ভূগোল
    18. ভৌগোলিক তথ্য ব্যবস্থা

    ভূগোল ও পরিবেশ পাঠের গুরুত্ব

    ভূগোল ও পরিবেশ এটি অধ্যায়নের মাধ্যমে জানা যায়-

    পৃথিবীর কোন স্থনের প্রকৃতি ও পরিবেশ।পাহাড়, পর্বত, নদী, সাগর, মালভূমি ও মরুভূমি, এদের গঠনের কারণ ও বৈশিষ্ট।

    পৃথিবীর জন্মলগ্ন থেকে কীভাবে জীবজগতের উদ্ভব হয়েছে সে বিষয়ে বিজ্ঞানসম্মত ধারনা অর্জন।
    পৃথিবীর বিভিন্ন পরিবেশের উদ্ভিদ ও প্রাণী এবং এদের আচার-আচরন,খাদ্যাভ্যাস ও জীবনধারনের বৈচিএ্য।
    কৃষি,শিল্প, ব্যবসা, বাণিজ্য,পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির ফলে মানুষের সামাজিক পরিবেশের কী পরিবর্তন হয়েছে।
    প্রাকৃতিক দুর্যোগ সৃষ্টির কারন, ক্ষয়ক্ষতি ও নিয়ন্ত্রন,ভূপ্রকৃতির অবস্থান, জলবায়ুর ধরন,যোগাযোগ ব্যবস্থার ধরন অনুযায়ী ভূমি ব্যবস্থাপনা।
    পৃথিবীর উষ্ণতা বৃদ্ধি, গ্রীণহাউজ প্রতিক্রিয়া ও প্রভাব।
    প্রাকৃতিক সম্পদকে কাজে লাগিয়ে মানুষের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন।
    সমুদ্র ও সামুদ্রিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা।

    ভূগােল ও পরিবেশের আন্তঃসম্পর্কঃ 

    ভূগােল হলাে পৃথিবীর বিজ্ঞান । পৃথিবীপৃষ্ঠে সংঘটিত ব্যবস্থাগুলাে কিভাবে কাজ করছে এবং প্রকৃতিক বিষয়গুলাের সাথে মানুষ কিভাবে নিজেকে মানিয়ে নেয় তার ব্যাখ্যা খোঁজে ভূগােল । অন্যদিকে মানুষ যেখানেই বাস করুক কেন তাকে ঘিরে একটি পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিরাজ করে । আর সেগুলাের সমন্বয়ই হল পরিবেশ । তাই ভূগােল ও পরিবেশের মধ্যকার গভীর সম্পর্ক বিদ্যমান । কেননা পরিবশ যে সব উপাদান দিয়ে গঠিত হয় তার যথােপযুক্ত ব্যাখ্যা এবং আলােচনা করে ভূগােল । ফলে ভূগােল ও পরিবেশ একই সূত্রে গাঁথা । আর আমরা যদি ভূগােলে বর্ণনা ও গবেষণাকে কাজে লাগিয়ে একট সুন্দর কাঠামাে । তৈরি করতে পারি তাহলে পৃথিবী হয়ে উঠবে শান্তিময় ।

    এস এস সি ভূগোল ও পরিবেশ এসাইনমেন্ট সমাধান ২০২২

    নিচে আরো একটি নমুনা উত্তর ভূগোল ও পরিবেশ এসাইনমেন্ট সমাধান ২০২১ দেওয়া হলো যেটা পছন্দ হয় লিখতে পারেন।









    আরো দেখুন 

    Tag:এসএসসি/দশম শ্রেণির ভূগোল ও পরিবেশ এসাইনমেন্ট সমাধান ২০২১ (৩য় সপ্তাহ),পরিবেশের উপাদানসমূহের সাথে মানুষের আন্তঃসম্পর্ক নিরূপণ

    Previous Post Next Post

    👇 সকল ক্লাসের এসাইনমেন্ট নোটিফিকেশন আকারে সহজে পেতে ডাউনলোড করুন আমাদের এপ্লিকেশন 

    আমাদের ফেসবুক পেইজে যুক্ত হতে ক্লিক করুন