তোমার নামে সন্ধ্যা নামে pdf Download | তোমার নামে সন্ধ্যা নামে -সাদাত হোসাইন pdf

তোমার নামে সন্ধ্যা নামে pdf Download | তোমার নামে সন্ধ্যা নামে -সাদাত হোসাইন pdf


তোমার নামে সন্ধ্যা নামে -সাদাত হোসাইন pdf Download 

তোমার নামে সন্ধ্যা নামে -সাদাত হোসাইন:-ঘন কুয়াশার দিন। সেই কুয়াশার ভেতর থেকে হঠাৎ উঁকি দিলো হলুদ ফুলের মাঠ। মাঠের ওপাশে নদী। নদীর ওপাশে কী? নদী জানে না। তার কেবল ওই নদীর ধারে নদীর মতোই শান্ত, চুপচাপ বসে থাকতে ইচ্ছে হলো। সজলের সাথে সেই প্রথম তার দূরে কোথাও যাওয়া। তারা সেই মাঠ পেরিয়ে নদীর ধারে এলো। একটা শিমুল গাছ রিক্ত ডাল ছড়িয়ে দাঁড়িয়ে আছে একা। কী শূন্য আর বিশাল! নদীর হঠাৎ মনে হলো, যে যত বড়, সে তত বেশি শূন্য। আকাশের মতো। বুকজুড়ে কেবল অথৈ শূন্যতা।

সেখানে নদীর ধারে বাঁশের মাঁচার মতো একটা বসার জায়গা। সেখানে চুপচাপ বসে রইলো তারা। একটা ফিঙে উড়ে গেলো। একটা মাছরাঙা। হলুদ কাঠঠোকরা। একটা মন কেমন করা হাওয়া। সজল সেই প্রথম অন্য রকম স্পর্শে আলতো করে তার হাত ছুঁয়ে দিলো। রোজ রোজ কত কত পুরুষ হাতের স্পর্শে অভ্যস্ত নদীর হাতটা সজলের ওইটুকু স্পর্শে কেন অমন কেঁপে উঠেছিলো কে জানে! 

রোদ ওঠার চেষ্টায় ঘন কুয়াশা তখন ক্রমশই মিহি কুয়াশার আস্তরণ হয়ে চোখের সামনে সম্মোহন ছড়াতে লাগলো। দিগন্ত বিস্তৃত হলুদ সর্ষেক্ষেত। তার ওপর সারি সারি বক উড়ে যাচ্ছে দূরে। সর্ষে ক্ষেতের ভেতর ছোটাছুটি করছে লাল নীল চাদর পরা শিশুরা। 

তারা প্রায় বিকেল অবধি বসে রইলো সেখানে। নিঃশব্দ অথচ বাঙময়। পরস্পর পরস্পরের সাথে শব্দের প্রাচুর্যে কোনো কথা না বললেও অনুভূতির প্রগাঢ়তায় যেন অবিরাম কথা বলে যেতে লাগলো। নদীর কেবল মনে হচ্ছিলো, এই সময়টা কখনো না ফুরাক। হয়ে যাক অন্তহীন অনুভবের অন্দরমহল।

বিকেল হঠাৎ হাড় কাঁপানো হাওয়া দিতে থাকলো। নদীর পরনে অফ হোয়াইট শাড়ি। গাঢ় কাজল চোখে। কপালে ছোট্ট একটা টিপ। তাকে দেখতে লাগছিলো শুভ্র ফুলের মতো। কিন্তু বিকেলের ওই হিম হাওয়ায় খুব জড়সড় হয়ে গেলো সে। সজল হঠাৎ বললো, ‘আমি যদি কিছু দিতে চাই, নেবেন?’

নদী তাকালো। তার কাজল কালো গভীর চোখে তখন ভেসে উঠেছে অসীম এক আকাশ। সে সেই আকাশে ঝলমলে রোদ মেখে বললো, ‘উহু।’

‘কেন?’

‘যদি তাতে ঋণ শোধ হয়ে যায়?’

‘সব ঋণ কি শোধ হয়?’

‘নয় তো কী?’

সজল হাসলো, ‘কিছু ঋণ কেবল বাড়তেই থাকে। শোধ করতে গেলে আরো বাড়ে।’

কথাটা কী যে ভালো লাগলো নদীর! সে অস্ফুটে বললো, ‘কী?’

‘কবিতা।’

‘কবিতা?’ ভারি অবাক হলো নদী।

‘হুম।’

‘কই, দেখি?’

নদী হাত বাড়ালো। সজল তার হাতে একটা চাদর তুলে দিলো। তারপর বললো, ‘অনেক ঠান্ডা, তাই না?’

নদী জবাব দিলো না। সে চাদরটা খুললো। তারপর তাকিয়ে রইলো অপলক। চাদরটার এক রঙা শরীরে নিজ হাতে কারুকাজ করেছে সজল। সেই কারুকাজের ভেতর লেখা-

‘আমায় দিয়ো একটুখানি ছুঁয়ে, আমায় দিয়ো একটুখানি মন,

এই জনমের জন্ম মৃত্যু জানে, তুমি মানেই আমার সমর্পণ!’

লাইনটা পড়ে গা শিউরে উঠলো নদীর। কী অদ্ভুত এক শিহরণ! সে মনে মনে আওড়াতে লাগলো কথাগুলো। ‘...এই জনমের জন্ম মৃত্যু জানে, তুমি মানেই আমার সমর্পণ!’

দীর্ঘ সময় কথা বললো না নদী। চাদরটা শরীরে জড়িয়ে চুপচাপ বসে রইলো। তার চোখ বন্ধ। যেন শরীরে জড়ানো ওই চাদরে লেখা শব্দগুলো সে তার শরীরে মেখে নিতে লাগলো। 

শুষে নিতে লাগলো অনুভব। 

~ 'তোমার নামে সন্ধ্যা নামে'। বইমেলার উপন্যাস। তবে আসছে ডিসেম্বরেই।

তোমার নামে সন্ধ্যা নামে pdf Download | তোমার নামে সন্ধ্যা নামে -সাদাত হোসাইন pdf

বইঃ তোমার নামে সন্ধ্যা নামে

লেখকঃ সাদাত হোসাইন

প্রকাশনাঃ অন্য প্রকাশ

Public Date:- December 2020

তোমার নামে সন্ধ্যা নামে pdf Download

Coming Soon

Tag:তোমার নামে সন্ধ্যা নামে pdf Download, তোমার নামে সন্ধ্যা নামে -সাদাত হোসাইন pdf,তোমার নামে সন্ধ্যা নামে বই ডাউনলোড,সাদাত হোসাইন বই তোমার নামে সন্ধ্যা নামে pdf Download 

0/Post a Comment/Comments

Previous Post Next Post