জাহান্নামীদের বৈশিষ্ট্য | জাহান্নাম ও জাহান্নামীদের বৈশিষ্ট্য | কুরআন হাদিসের আলোকে জাহান্নামীর বৈশিষ্ট্য


    জাহান্নামীদের বৈশিষ্ট্য  

    আসসালামুআলাইকুম সবাইকে Educationblog.Com এ স্বাগতম। 

    আশা করি আল্লাহুর অশেষ রহমতে আপনারা সবাই ভালো আছেন। আলহামদুলিল্লাহ আমরাও আল্লাহর অশেষ রহমতে ভালো আছি। 

    বন্ধুরা আজকে আপনাদের মাঝে Educationblog.Com নিয়ে আসলো  জাহান্নামীদের বৈশিষ্ট্য,  জাহান্নাম ও জাহান্নামীদের বৈশিষ্ট্য,  কুরআন হাদিসের আলোকে জাহান্নামীর বৈশিষ্ট্য, জাহান্নামী ব্যক্তিদের বৈশিষ্ট্যগুলো এই সম্পর্কে পোস্টে পাবেন সবকিছু। 


    জাহান্নাম ও জাহান্নামীদের বৈশিষ্ট্য  

    প্রিয় পাঠক -পাঠিকা বন্ধু আপনারা যারা প্রতি নিয়ত ইন্টারনেটের সাহায্যে জাহান্নামীদের বৈশিষ্ট্য বা যারা বলতেছেন জানতে চাই জাহান্নাম ও জাহান্নামীদের বৈশিষ্ট্য কিংবা যারা কুরআন হাদিসের আলোকে জাহান্নামীর বৈশিষ্ট্য এভাবেও লিখে সার্চ করতেছেন এবং ইন্টারনেটের মাধ্যমে জানতে চাইতেছেন জাহান্নামী ব্যক্তিদের বৈশিষ্ট্যগুলো তাদের জন্য বলবাে, এই পােষ্টটি আজ তাদের জন্য করা হয়েছে। পুরো পোস্ট টা পড়লে আশা করি আপনাদের উপকার হবে পুরো তথ্যটা জানার জন্য।


    কুরআন হাদিসের আলোকে জাহান্নামীর বৈশিষ্ট্য 

    ★ রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন; 

    لَيْسَ الْمُؤْمِنُ بِالطَّعَّانِ وَلاَ اللَّعَّانِ وَلاَ الْفَاحِشِ وَلاَ الْبَذِيءِ

    মুমিন কখনো দোষারোপকারী হয় না, অভিসম্পাত করে না, অশ্লীল কাজ করে না এবং কটুভাষীও হয় না। (তিরমিজী ১৯৭৭; সহীহাহ ৩২০; সহীহ)

    ★ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন,

    الْمُؤْمِنُ غِرٌّ كَرِيمٌ، وَالْفَاجِرُ خِبٌّ لَئِيمٌ

    মুমিন হয় সরল ও ভদ্র, পক্ষান্তরে পাপীষ্ঠ হয় ধূর্ত ও দুশ্চরিত্রের। (আবূ দাঊদ ৪৭৯০, সনদ হাসান)

    ★রাসূল (ﷺ) বলেছেন,

    أَلاَ أُخْبِرُكُمْ بِأَهْلِ النَّارِ كُلُّ عُتُلٍّ جَوَّاظٍ مُسْتَكْبِرٍ

    আমি কি তোমাদের জাহান্নামীদের সম্পর্কে অবহিত করবো না? তারা হলো রুঢ় স্বভাবের, কঠিন হৃদয়ের ও অহংকারী। (সহীহুল বুখারী: ৬০৭১, ৪৯১৮; সহিহ মুসলিম: ৭০৭৯)।

    ★অন্য বর্ণনায় রাসূল (ﷺ) বলেছেন,

    أَلاَ أُخْبِرُكُمْ بِأَهْلِ النَّارِ كُلُّ جَوَّاظٍ زَنِيمٍ مُتَكَبِّرٍ

    আমি কি তোমাদেরকে জাহান্নামীদের সম্পর্কে অবহিত করবো না? তারা হলো বদমেজাজী, কুখ্যাত এবং অহংকারী। (সহিহ মুসলিম: ৭০৮১)। 

    ★ রাসূল (ﷺ) বলেছেন,

    وَأَهْلِ النَّارِ كُلُّ جَوَّاظٍ عُتُلٍّ مُسْتَكْبِرٍ

    জাহান্নামীরা হলো অবাধ্য, বদমেজাজী ও অহংকারী। (সহীহুল বুখারী: ৬৬৫৭)। 

    ★ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন;

    تَحَاجَّتِ الْجَنَّةُ وَالنَّارُ فَقَالَتِ النَّارُ أُوثِرْتُ بِالْمُتَكَبِّرِينَ وَالْمُتَجَبِّرِينَ‏ 

    জান্নাত ও জাহান্নাম পরস্পর বিতর্কে লিপ্ত হলে, জাহান্নাম বলল; প্রতাবশালী ও দাম্ভিকদের দ্বারা আমাকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। (সহীহুল বুখারী: ৪৮৫০; সহিহ মুসলিম: ৭০৬৫, ৭০৬৭)।

    ★রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন,

    لا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ الجَّوَّاظَ وَلاَ الْجَعْظَرِىُّ 

    ‘দুশ্চরিত্র ও রূঢ় স্বভাবের মানুষ জান্নাতে প্রবেশ করবে না’। (আবূ দাঊদ ৪৮০১, সনদ ছহীহ)।

    ★ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, 

    لايَدْخُلُ الجَّنَّةَ قَتَّاتٌ 

    ‘চোগলখোর জান্নাতে প্রবেশ করবে না’। (সহীহুল বুখারী: ৬০৫৬, সহিহ মুসলিম: ১৯২,১৯৩)।

    ★ রাসূল (ﷺ) বলেছেন,

    لاَ يَدْخُلُ الْجَنَّةَ قَاطِعُ رَحِمٍ

    ‘আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না।’ (সহীহ মুসলিম: ৬৪১৫)।

    ★রাসূল (ﷺ) বলেছেন,

    لاَ يَدْخُلُ الْجَنَّةَ مَنْ لاَ يَأْمَنُ جَارُهُ بَوَائِقَهُ

    যার অনিষ্ট থেকে তার প্রতিবেশী নিরাপদ থাকে না, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না (সহীহ মুসলিম, ৭৬)।

    ★রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন,

    ‏لاَ يَدْخُلُ الْجَنَّةَ مَنْ كَانَ فِي قَلْبِهِ مِثْقَالُ ذَرَّةٍ مِنْ كِبْرٍ

    যার অন্তরে অণু পরিমাণ অহংকার থাকবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না। (সহীহ মুসলিম: ১৬৬)।

    ★ রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন;

    ثَلاَثَةٌ لاَ يُكَلِّمُهُمُ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَلاَ يُزَكِّيهِمْ - وَلاَ يَنْظُرُ إِلَيْهِمْ - وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ شَيْخٌ زَانٍ وَمَلِكٌ كَذَّابٌ وَعَائِلٌ مُسْتَكْبِرٌ ‏

    তিন ব্যক্তির সাথে কিয়ামতের দিন আল্লাহ তায়াআলা কথা বলবেন না, তাদের (গুনাহ থেকে) পবিত্র করবেন না, তাদের প্রতি তাকাবেনও না আর তাদের জন্য রয়েছে কঠোর শাস্তি। বৃদ্ধ যিনাকারী , মিথ্যাবাদী বাদশাহ ও অহংকারী দরিদ্র ব্যক্তি। (সহিহ মুসলিম; ১৯৬)।

    ★ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন,

    وَإِنَّ أَبْغَضَكُمْ إِلَىَّ وَأَبْعَدَكُمْ مِنِّي مَجْلِسًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ الثَّرْثَارُونَ وَالْمُتَشَدِّقُونَ وَالْمُتَفَيْهِقُونَ ‏"‏ ‏.‏ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ قَدْ عَلِمْنَا الثَّرْثَارُونَ وَالْمُتَشَدِّقُونَ فَمَا الْمُتَفَيْهِقُونَ قَالَ ‏"‏الْمُتَكَبِّرُونَ ‏"‏

    তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিরা আমার নিকট ঘৃণ্য ও ক্বিয়ামতের দিন আমার নিকট থেকে দূরে অবস্থান করবে যারা বাচাল, নির্লজ্জ ও মুতাফাইহিকুন। ছাহাবীগণ বললেন, বাচাল ও নির্লজ্জ তো বুঝলাম। কিন্তু মুতাফাইহিকুন কারা, হে আল্লাহর রাসূল? তিনি বলেন, অহংকারীরা। (তিরমিযী ২০১৮, সনদ ছহীহ)।

    ★ রাসূল (ﷺ) বলেছেন,

    إِنَّ شَرَّ النَّاسِ مَنْزِلَةً عِنْدَ اللَّهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مَنْ وَدَعَهُ أَوْ تَرَكَهُ النَّاسُ اتِّقَاءَ فُحْشِهِ

    কিয়ামতের দিনে আল্লাহর কাছে ঐ ব্যক্তি নিকৃষ্ট স্তরের বলে গণ্য হবে, যাকে লোকজন তার দুর্ব্যবহারের জন্য পরিত্যাগ করে। (মুসলিম: ৬৪৯০; বুখারী: ৬০৩২; আবূ দাউদ; ৪৭৯১)।

    ★ রাসূল (ﷺ) বলেছেন,

    إِنَّ شَرَّ النَّاسِ مَنْ تَرَكَهُ النَّاسُ ـ أَوْ وَدَعَهُ النَّاسُ ـ اتِّقَاءَ فُحْشِهِ

    নিশ্চয় সবচেয়ে নিকৃষ্ট লোক সে-ই যার অশালীনতা থেকে বেঁচে থাকার জন্য মানুষ তার সংশ্রব ত্যাগ করে। (বুখারী: ৬০৫৪)।


    জাহান্নামী ব্যক্তিদের বৈশিষ্ট্যগুলো



    Tag: জাহান্নামীদের বৈশিষ্ট্য,  জাহান্নাম ও জাহান্নামীদের বৈশিষ্ট্য,  কুরআন হাদিসের আলোকে জাহান্নামীর বৈশিষ্ট্য, জাহান্নামী ব্যক্তিদের বৈশিষ্ট্যগুলো

    Previous Post Next Post