অষ্টম/৮ম শ্রেণির ১৪তম সপ্তাহের এসাইনমেন্ট ২০২১ উত্তর/সমাধান হিন্দুধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা (এসাইনমেন্ট-৩) | ২০২১ সালের ৮ম/অষ্টম শ্রেণির (১৪তম) সপ্তাহের হিন্দুধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা এসাইনমেন্ট সমাধান/উত্তর


       
       

    অষ্টম/৮ম শ্রেণির ১৪তম সপ্তাহের এসাইনমেন্ট ২০২১ উত্তর/সমাধান হিন্দুধর্ম  ও নৈতিক শিক্ষা (এসাইনমেন্ট-৩)  


    হিন্দুধর্মের ক্রমবিকাশ 

    ভারতবর্ষে মানব সভ্যতার ক্রমবিকাশের সঙ্গে - সঙ্গে সনাতন তথা হিন্দুধর্মের বিকাশ শুরু হয়েছে । চিন্তাশীল মুনি - ঋষিগণ মানুষের কল্যাণ চিন্তায় , ধর্মীয় আচার - আচরণে এমনকি পারমার্থিক চিন্তায় নতুন - নতুন ধর্মীয় ভাব প্রবর্তন করেছেন । বৈদিক যুগে ধর্ম - কর্ম পালিত হতাে যজ্ঞকর্মরূপে । যজ্ঞক্রিয়ার মধ্য দিয়ে তখন দেবতাদের আরাধনা করা হতাে । যজ্ঞকর্মের ফলে স্বর্গপ্রাপ্তি হতে , কিন্তু মানুষের মুক্তিলাভ হতাে না । তাই বেদের পরে উপনিষদের যুগে মুক্তির চিন্তা প্রাধান্য পায় । মানুষ মুক্তিলাভের জন্য এক ব্রহ্মের আরাধনা করতে থাকে । এ সময় সমাজ - সংসার ত্যাগ করে সন্ন্যাস গ্রহণের প্রবণতা দেখা দেয় । কালক্রমে এ চিন্তার মধ্যেও মানুষ যেন সন্তুষ্ট হতে পারল না । এ অবস্থায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব ঘটে ।তখন ছিল দ্বাপর যুগ । সমাজ - জীবনে সন্ন্যাসের পরিবর্তে কর্মের দিকে মােড় ফেরানাে হলাে । তিনি ব্যাখ্যা করে বললেন - কর্মত্যাগ নয় , কর্ম করতে হবে ভােগের আকাঙ্ক্ষা বাদ দিয়ে । মনে করতে হবে সমস্ত জগৎ ভগবানের কর্মক্ষেত্র । এখানে মানুষ ভগবানেরই কর্ম করে যাচ্ছে এবং কর্মের ফলও ভগবানেরই প্রাপ্য। 

    শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় এই নিষ্কাম কর্মযােগের বিষয়টি বলিষ্ঠভাবে তুলে ধরা হয়েছে । কর্মযােগ অনুশীলন করে মানুষ মুক্তিলাভ করতে পারে । এরপর আসে ভক্তিবাদের কথা । মানুষ ভক্তিভরে ঈশ্বরকে সাকারে উপাসনা করতে থাকে । বহু দেব - দেবীর পূজা - পার্বণ হিন্দু সমাজে প্রচলিত হয় । এর ফলে অবশ্য ভিন্ন - ভিন্ন দেব - দেবীর উপাসকগণ ভিন্ন - ভিন্ন শ্রেণিতে বিভক্ত হয়ে পড়েন , যেমন- শাক্ত , শৈব , বৈষ্ণব ইত্যাদি । এই সম্প্রদায়গুলাের মধ্যে অসহিষ্ণু ভাব দেখা দেয় । এরূপ অবস্থায় শ্রীচৈতন্যদেবের আবির্ভাব ঘটে । তিনি প্রেমভক্তিমূলক বৈষ্ণবধর্ম প্রচার করেন । এ ধর্মের প্রধান লক্ষ্য ভক্তির মাধ্যমে ভগবানের আরাধনা করা , সমাজে বর্ণভেদ দূর করা ও শান্তি স্থাপন করা ।

    উনবিংশ শতকে হিন্দুধর্মের অনেক আচার - আচরণে সংস্কার সাধন করা হয় । মূর্তিপূজার পরিবর্তে আসে এক ব্ৰহ্মচিন্তা । স্থাপিত হয় ব্রাহ্মসমাজ । অপরদিকে মূর্তিপূজার মাধ্যমেও যে মানুষ ঈশ্বরলাভ করতে পারে , এ ধারণাটি শ্রীরামকৃষ্ণের সাধনায় সুপ্রতিষ্ঠিত হয় । শ্রীরামকৃষ্ণ ও তাঁর শিষ্য স্বামী বিবেকানন্দের প্রচেষ্টায় হিন্দুধর্মে পুরাতন ও নতুন চিন্তাধারার সমন্বয় ঘটে । সংক্ষেপে বলা যায় – হিন্দুধর্মের বিকাশ ঘটেছে বৈদিক যুগে যজ্ঞকর্মে , বেদান্তের ব্রহ্মসাধনায় , পৌরাণিক যুগে দেব - দেবীর উপাসনায় , দ্বাপর যুগে শ্রীকৃষ্ণের কর্মযােগে , মধ্যযুগে শ্রীচৈতন্যের ভক্তিভাবনায় , আর আধুনিক কালে শ্রীরামকৃষ্ণের সর্বধর্ম সমন্বয়ের মধ্য দিয়ে ।

    ঈশ্বর সর্বশক্তিমান । তাঁর ভাব অনন্ত । তাকে পাওয়ার পথও বিচিত্র । সাধনপথে যে - কোনাে প্রচলিত পদ্ধতি অনুসরণ করা যেতে পারে । মনে রাখতে হবে , মানবের কল্যাণের জন্যই ধর্ম এসেছে । ধর্মাচরণে মানব কল্যাণকে অবশ্যই প্রাধান্য দিতে হবে । মানুষের মধ্যেই ঈশ্বর রয়েছেন , তাই মানবসেবাই ঈশ্বরসেবা । এই ধর্মবােধে বিশ্বাসী হয়ে আমরা জীবনে সেবাধর্মের অনুশীলন করব এবং মানবতাবােধ জাগ্রত করতে যত্নবান হব ।



    ২০২১ সালের ৮ম/অষ্টম শ্রেণির (১৪তম) সপ্তাহের হিন্দুধর্ম  ও নৈতিক শিক্ষা এসাইনমেন্ট সমাধান/উত্তর



    Tag: অষ্টম/৮ম শ্রেণির ১৪তম সপ্তাহের এসাইনমেন্ট ২০২১ উত্তর/সমাধান হিন্দুধর্ম  ও নৈতিক শিক্ষা (এসাইনমেন্ট-৩),  ২০২১ সালের ৮ম/অষ্টম শ্রেণির (১৪তম) সপ্তাহের হিন্দুধর্ম  ও নৈতিক শিক্ষা এসাইনমেন্ট সমাধান/উত্তর

    Previous Post Next Post

    👇 সকল ক্লাসের এসাইনমেন্ট নোটিফিকেশন আকারে সহজে পেতে ডাউনলোড করুন আমাদের এপ্লিকেশন 

    আমাদের ফেসবুক পেইজে যুক্ত হতে ক্লিক করুন