এইচএসসি এসাইনমেন্ট সমাধান/উত্তর ২০২১ সালের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি (৭ম সপ্তাহ) এসাইনমেন্ট -৫ | ২০২১ সালের এইচএসসি ৭ম সপ্তাহের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি (১ম পত্র) এসাইনমেন্ট সমাধান /উত্তর


       
       

    এইচএসসি এসাইনমেন্ট সমাধান/উত্তর ২০২১ সালের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি (৭ম সপ্তাহ) এসাইনমেন্ট -৫  


    তারিখ : ১১ সেপ্টেম্বর , ২০২১ 

    বরাবর  

    অধ্যক্ষ

    ন্যাশনাল আইডিয়াল কলেজ খিলগাঁও , ঢাকা । 

    বিষয় : মহানবি হযরত মুহাম্মদ ( স ) এর বিদায় হজের ভাষণে উদার ধর্মীয় , মানবতাবাদী চেতনা ও সমাজ সংস্কার ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে প্রতিফলনের উপায়সমূহের বর্ণনামূলক প্রতিবেদন। 

    জনাব , বিনীত নিবেদন এই যে , আপনার আদেশ নং ম.উ.বি ৯১৭-৪ তারিখ : ৯ সেপ্টেম্বর , ২০২১ অনুসারে মহানবি হযরত মুহাম্মদ ( স ) এর বিদায় হজের ভাষণে উদার ধর্মীয় , মানবতাবাদী চেতনা ও সমাজ সংস্কার ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে প্রতিফলনের উপায়সমূহ ।

    ক ) বিদায় হজের ভাষণের পটভূমি : 

    মহানবি ( স . ) - এর জীবনসমগ্রের নির্যাস হলাে বিদায় হজের অবিস্মরণীয় ভাষণ । পঙ্কিলতায় নিমজ্জিত একটি সমাজকে পুনরুদ্ধার করে ইহ পারলৌকিক কল্যাণের দিকে ধাবিত করার সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা তার বিদায় হজের ভাষণে পরিলক্ষিত হয় । ৬৩২ খ্রিষ্টাব্দের ২৩ ফেব্রুয়ারি লক্ষাধিক মুসলমান সমভিব্যাহারে মক্কায় যাত্রা করে ৭ মার্চ সেখানে হাজির হন । মক্কাতে এটিই মহানবি ( স . ) - এর শেষ গমন এবং তার জীবনের শেষ হজ হওয়ার কারণে এটি ' হুজ্জাতুল বিদা ' বা ' বিদায় হজ নামে অভিহিত হয় । যুদ্ধ উপলমন জুতাকে উদ্দেশ্য মার্চ ) আরাফাতের ময়দানে যে ভাষণ তিনি দিয়েছিলেন সেটিই ইতিহাসে ' বিদায় হজের ভাষণ ' হিসেবে খ্যাত হয়ে আছে ।মহানরি ( স . ) জাবালুর রহমতের পাদদেশে তার উট আল - কাসওয়ার উপর থেকে এ ভাষণ প্রদান করেছিলেন । এ অভিভাষণের মধ্যে মুসলিম জনগােষ্ঠীর জীবন পরিচালনার দিকনির্দেশনা অতি স্পষ্ট ও স্বচ্ছভাবে বিধৃত হয়েছে । এর মাধ্যমে অন্ধকার ও অসাম্যের চিরঅবসান ঘােষণা করে পৃথিবীর বুকে শান্তির আদর্শ এবং এক নতুন আলােকময় যুগের সূচনা করেছে। 


    খ . ধর্মীয় উপদেশাবলি 

    ১.ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করবে না । এতদ্বিষয়ে সীমা লঙ্ঘনের কারণে তােমাদের পূর্ববর্তী বহু জাতি ধ্বংস হয়ে গেছে । মনে রেখাে ! তােমাদের সবাইকেই আল্লাহর দরবারে উপস্থিত হতে হবে । তাঁর কাছে এসব কথার জবাবদিহি করতে হবে । 

    ২. তােমরা তােমাদের প্রভুর ইবাদত করবে । পাঁচ ওয়াক্ত সালাত যথারীতি আদায় করবে , রমযানে রােযা পালন করবে , স্বে " ছায় ও খুশী মনে তােমাদের সম্পদের যাকাত দেবে , তােমাদের রবের ঘর বায়াতুল্লাহর হজ্জ পালন করবে আর আমীরের ইতা'আত করলে ; তাহলে তােমরা জান্নাতে দাখিল হতে পারবে । 

    ৩.হে লােকেরা , জেনে রাখো , আমার পরে আর কোনাে নবীর আগমন হবে না । তােমাদের পর আর কোনাে উম্মাহ নেই । আমি যা বলছি মনােযােগ দিয়ে শােনাে ।  

    ৪. চারটি বিষয় বিশেষ করে স্মরণ রেখাে ! 

    ( i ) কখনাে শিরক করাে না , 

    ( ii ) অন্যায়ভাবে নরহত্যা করাে না , 

    ( iii ) অন্যের সম্পদ আত্মসাৎ করাে না , 

    ( iv ) কখনাে ব্যভিচারে লিপ্ত হয়াে না । সাবধান , কারাে অসম্মতিতে তার সামান্য সম্পদও গ্রহণ করাে না । জুলুম করাে না । জুলুম করাে না ! কোনাে মানুষের ওপর জুলুম করাে না ।

    ৫.আমি তােমাদের কাছে যা রেখে যাচ্ছি , যত দিন তােমরা সেগুলাে আঁকড়ে ধরে রাখবে , পথভ্রষ্ট হবে না । আর তা হলাে আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসুলের সুন্নাত ।  

    ৬. হে লােকেরা ! শয়তান এ ব্যাপারে নিরাশ হয়েছে , সে তােমাদের দেশে আর উপাসনা পাবে না । কিন্তু সাবধান ! অনেক এমন বিষয়কে তােমরা ক্ষুদ্র বলে জ্ঞান করাে , অথচ শয়তান তারই মাধ্যমে তােমাদের সর্বনাশ করে ছাড়ে । সে বিষয়গুলাে সম্পর্কে খুবই সাবধান থাকবে ।


    গ ) বিদায় হজের ভাষণের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে পালনীয় বিষয়াবলির পর্যালােচনা : 

    হযরত মুহাম্মদ ( সা . ) তার জীবনসায়াহ্নে হজ্জ উপলক্ষে আরাফাত ময়দানে যে অভিভাষণ প্রদান করেছিলেন , ইসলাম ও মানবতার ইতিহাসে এর । গুরুত্ব অপরিসীম । এ বাণীতেই ইসলামী রাজনীতি অর্থনীতি , সমাজনীতি ও মানব অধিকারের মূলনীতি বিঘােষিত হয়েছে । এতে মানব জীবনের আধ্যাত্মিক ও বাস্তব উভয় শিক্ষাই বর্তমান রয়েছে । এ শিক্ষা মানব জাতিকে সত্যিকারের মুক্তি ও শান্তির সন্ধান দিয়েছে । মহানবী ( সা . ) - এর ভাষণের সকল দিক বাস্তবায়িত হলে আজকের এ সংঘাতময় মানব জীবন সর্বাত্মক সার্থক ও সুন্দর হয়ে উঠবে ।

    রাসূলুল্লাহ ( সা . ) ভাষণের শুরুতে আকাশের দিকে দৃষ্টিপাত করে বিশ্ব - প্রতিপালক সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর উদ্দেশ্যে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সমবেত জনসমুদ্রের উদ্দেশ্যে বলেন : 

    ১. হে প্রিয় সাহাবীগণ ! তােমাদের সহধর্মিণীদের ওপর তােমাদের যেমন অধিকার আছে , তােমাদের ওপরও তাদের তেমন অধিকার রয়েছে । আল্লাহকে সাক্ষী রেখে তােমরা তাদের গ্রহণ করেছে এবং তারই আদেশমত তাদের জন্য বৈধ করে নিয়েছে । সুতরাং তাদের প্রতি সদয় বব্যহার করবে। 

    ২. হে আমার উম্মতগণ , যারা এখানে সমবেত হয়েছ , তারা অনুপস্থিত মুসলিমদের কাছে আমার কথা পৌছে দেবে । যারা অনুপস্থিত তাদের আমার উপদেশের কথা জানাবে । কখনাে কখনাে উপস্থিত ব্যক্তিদের চেয়ে অনুপস্থিত ব্যক্তিরা অধিক স্মরণ রাখতে সক্ষম হয় । এখান থেকে আমরা যে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারি : 

    i . নারী ও পুরুষের পারস্পরিক হক ও সম্মান অক্ষুন্ন রাখা । 

    ii . কারাে প্রতি যুলুম না করা এবং কেউ খুশীমনে না দিলে তার মাল গ্রহণ না নারী সমাজের প্রতি সহৃদয় ব্যবহার ও সম্মানজনক আচরণ , সর্বোপরি নারী পুরুষের সমানাধিকার প্রশ্নে সচেতন হওয়ার জন্য সবাইকে মহানবী ( সা . ) এ ভাষণে উপদেশ দিয়েছেন ।


    ঘ . বিদায় হজের ভাষনের আর্থ সামাজিক উপদেশগুলাে জীবনে প্রতিফলনের উপায় 

    ৯ জিলহজ , ১০ হিজরি । জুমাবার । আরাফার দিন । আরাফার মরুপ্রান্তরে প্রায় সােয়া লাখ জনতার সমাবেশে দ্বিপ্রহরের খানিক পরে সিক্ত ভক্তদের উদ্দীপ্ত প্রেরণা ও ধীর আগ্রহের প্রহর শেষে হজরত মুহাম্মদ ( সা . ) যে ভাষণ দেন , ইসলামের ইতিহাসে তা - ই ' হাজ্জাতুল বিদা ' বা ' বিদায় হজ নামে পরিচিত।বিদায় হজের ভাষনের আর্থ সামাজিক উপদেশগুলাে জীবনের প্রতিফলনের উপায়। 

    ১.হে আল্লাহর বান্দারা ! আমি তােমাদের আল্লাহর ইবাদত ও তাঁর বন্দেগির ওসিয়ত করছি এবং এর নির্দেশ দিচ্ছি । 

    ২.যদি কোনাে নাক - কান কাটা হাবশি দাসকেও তােমাদের আমির বানিয়ে দেওয়া হয় , তবে সে যত দিন আল্লাহর কিতাব অনুসারে তােমাদের পরিচালিত করবে , তত দিন অবশ্যই তার কথা মানবে , তার প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করবে । 

    ৩.কারাে সম্পত্তি সে যদি স্বেচ্ছায় না দেয় , তবে তা অপর কারাে জন্য হালাল নয় । সুতরাং তােমরা একজন অপরজনের ওপর জুলুম করবে না । এমনিভাবে কোনাে স্ত্রীর জন্য তার স্বামীর সম্পত্তির কোনাে কিছু তার সম্মতি ব্যক্তিরেকে কাউকে দেওয়া হালাল নয় । 

    ৪.ঋণ অবশ্যই ফেরত দিতে হবে । প্রত্যেক আমানত তার হকদারের কাছে অবশ্যই আদায় করে দিতে হবে ।

    ৫.যে ব্যক্তি নিজের পিতার স্থলে অপরকে পিতা বলে পরিচয় দেয় , নিজের মাওলা বা অভিভাবককে ছেড়ে দিয়ে অন্য কাউকে মাওলা বা অভিভাবক বলে পরিচয় দেয় , তার ওপর আল্লাহর লা'নত । 

    ৬.আমি তােমাদের কাছে দুটো জিনিস রেখে যাচ্ছি । যত দিন তােমরা এ দু'টোকে আঁকড়ে থাকবে , তত দিন তােমরা গুমরাহ হবে না । সে দু'টো হলাে আল্লাহর কিতাব ও রাসূলের সুন্নাত । 

    ৭.তােমরা দীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি থেকে বিরত থাকবে । কেননা তােমাদের পূর্ববর্তীরা দীনের ব্যাপারে এই বাড়াবাড়ির দরুন ধ্বংস হয়েছে ।


    এই ধর্মের মর্মবাণীগুলাে বিশেষত বিদায় হজের ভাষণের বার্তা বিশ্ব মানবতার কাছে পৌছে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে । এরই পরিপ্রেক্ষিতে লাখ লাখ সাহাবি আপন বাসস্থান ত্যাগ করে ছড়িয়ে পড়েছিলেন পৃথিবীর আনাচে - কানাচে । ঘরে ঘরে আজ পৌছে গেছে ইসলামের শান্তির বাণী । রাসুল ( সা . ) বলেন , ' তােমরা যারা আজ এখানে উপস্থিত আছ , তােমাদের দায়িত্ব হচ্ছে যারা আজ উপস্থিত নেই তাদের কাছে আমার এই আদেশ - উপদেশগুলাে পেঁৗছে দেওয়া । ' সমস্যায় জর্জরিত ও ঝাবিক্ষুব্ধ অশান্ত পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ফিরে যেতে হবে সেই চৌদ্দ শত বছর আগে । জীবনকে ঢেলে সাজাতে হবে বিদায় হজের ভাষণের সুমহান আদর্শে ।


    ২০২১ সালের এইচএসসি ৭ম সপ্তাহের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি  (১ম পত্র) এসাইনমেন্ট সমাধান /উত্তর 



    Tag: এইচএসসি এসাইনমেন্ট সমাধান/উত্তর ২০২১ সালের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি (৭ম সপ্তাহ) এসাইনমেন্ট -৫,  ২০২১ সালের এইচএসসি ৭ম সপ্তাহের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি  (১ম পত্র) এসাইনমেন্ট সমাধান /উত্তর 

    Previous Post Next Post

    👇 সকল ক্লাসের এসাইনমেন্ট নোটিফিকেশন আকারে সহজে পেতে ডাউনলোড করুন আমাদের এপ্লিকেশন 

    আমাদের ফেসবুক পেইজে যুক্ত হতে ক্লিক করুন