দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ব্যবসায় উদ্যোগের ভূমিকা নিরুপণ | এসএসসি এসাইনমেন্ট ২০২২ উত্তর ব্যবসায় উদ্যোগ (অষ্টম/৮ম সপ্তাহ) এসাইনমেন্ট -২ | ২০২২ সালের এসএসসি অষ্টম সপ্তাহের ব্যবসায় উদ্যোগ এসাইনমেন্ট সমাধান


       
       

    এসএসসি এসাইনমেন্ট ২০২২ উত্তর ব্যবসায় উদ্যোগ (অষ্টম/৮ম সপ্তাহ) এসাইনমেন্ট -২  


    দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ব্যবসায় উদ্যোগের ভূমিকা নিরুপণ

    ব্যবসায় উদ্যোগের গুরুত্বঃ 

    নিচে ব্যবসায় উদ্যোগের গুরুত্ব আলােচনা করা হলােঃ 

    ১. বেকারত্ব হ্রাসঃ ব্যবসায় উদ্যোগের মাধ্যমে হাজার হাজার বেকার যুবকদের কর্ম সংস্থানের ব্যবস্থা হচ্ছে । এর ফলে দেশের বেকারত্ব সমস্যা হ্রাস পাচ্ছে । যা একটি দেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ । 

    ২. জাতীয় আয় বৃদ্ধিঃ ব্যবসায় উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালাে হয় এবং দেশের জাতীয় আয় বৃদ্ধি পায় । জাতীয় আয় বৃদ্ধি একটি দেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ , যা ব্যবসায় উদ্যোগের মাধ্যমে অর্জিত হয় ।

    ৩. আত্মকর্মসংস্থানের সৃষ্টিঃ ব্যবসায় উদ্যোগের মাধ্যমে আত্মকর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয় । ফলে অনেক বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয় । সুতরাং বলা যায় , আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ব্যবসায় উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ।

    ৪. বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনঃ ব্যবসায় উদ্যোগের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয় । বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন একটি দেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ । যা দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালাে রাখে । সুতরাং বলা যায় , বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে ব্যবসায় উদ্যোগ খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ।


    ( খ ) ব্যবসায় উদ্যোগের অনুকূল পরিবেশঃ 


    ১। উন্নত অবকাঠামাে : ব্যবসায় স্থাপনা ও পরিচালনার জন্য যে সকল সুযােগ - সুবিধা যেমন : বিদ্যুৎ , গ্যাস , পানি , পরিবহণ ও যােগাযােগ ব্যবস্থা ইত্যাদি প্রয়ােজন তা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা করা । 

    ২। সরকারি পৃষ্ঠপােষকতা : একটি দেশের ব্যবসায় বান্ধব পরিবেশ গঠনে সবচেয়ে সহায়ক ভূমিকা পালন করে রাষ্ট্র তথা সরকারের পৃষ্ঠপােষকতা । কারণ সরকারের পৃষ্ঠপােষকতায় দেশের ব্যবসায় উদ্যোগের সম্প্রসারণ ও সমৃদ্ধি ঘটে থাকে । কর অবকাশ , স্বল্প বা বিনা সুদে ঋণ প্রদান , মূলধনী যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানিতে এবং উৎপাদিত পণ্য রপ্তানিতে শুল্ক সুবিধা প্রদান ইত্যাদি ব্যবসায় উদ্যোগের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে পারে । 

    ৩। আর্থ - সামাজিক স্থিতিশীলতা : যে কোনাে দেশের ব্যবসায় উদ্যোগের সমৃদ্ধি তথা অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে হলে অর্থনৈতিক , রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা জরুরি । এগুলাের অস্থিরতা ব্যবসায় উদ্যোগের উপর প্রতিকূল প্রভাব ফেলে । 

    ৪। অনুকূল আইন - শৃঙ্খলা: নিরাপত্তা দেশের সুষ্ঠু ও সাবলীলভাবে ব্যবসায় পরিচালনা ও সম্প্রসারনের জন্য অনুকূল আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রয়ােজন । এ কারণে মানুষের জান ও মালের নিরাপত্তা বিধান না করতে পারলে ব্যবসায়ের অগ্রগতি সম্ভব নয় । 

    ৫। প্রশিক্ষণের সুযােগ- সুবিধা: টেকসই ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসায় উদ্যোগের জন্য উন্নত প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই । যত বেশি প্রশিক্ষণের সুযােগ - সুবিধা নিশ্চিত করা যাবে , তত বেশি মানসম্মত পণ্য ও সেবা উৎপাদনকারী শিল্প , কল - কারখানা বিনির্মাণ সম্ভব হবে ।


    ( গ ) ব্যবসায় উদ্যোগের সাথে ঝুঁকির সম্পর্কঃ 


    ব্যবসায় উদ্যোগের সাথে ঝুঁকির সম্পর্ক সর্বদা বিদ্যমান । কোনাে ব্যবসায়ে ঝুঁকি কম , আবার কোনাে ব্যবসায়ে ঝুঁকি বেশি । যে ব্যবসায়ে ঝুঁকি বেশী তাতে লাভের সম্ভাবনাও বেশী । আবার যে ব্যবসায় ঝুঁকি কম তাতে লাভের সম্ভাবনাও কম । উদাহরণস্বরূপ বলা যায় যে , মুদি দোকানে ঝুঁকি কম তাই মুনাফাও সীমিত । অন্যদিকে শেয়ার বাজারে বিনিয়ােগের মতাে ব্যবসায়ে যেমন অনেক লাভের সম্ভাবনা আছে তেমনি অত্যধিক ঝুঁকিও আছে । ব্যবসায়ে বিভিন্ন ধরনের ঝুঁকি রয়েছে । যে কোনাে সময় উৎপাদিত পণ্যের অথবা সরবরাহকৃত সেবার চাহিদা কমে যেতে পারে । এর ফলে অর্জিত মুনাফা কমে যেতে পারে । এই সম্ভাবনাই ব্যবসায়িক ঝুঁকি । অন্যদিকে দেখা গেল ব্যবসায় থেকে বছরে উদ্যোক্তা একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ মুনাফা আশা করেছিল । কিন্তু বাস্তবে এর চেয়ে কম মুনাফা অর্জিত হয়েছে । এটিই হলাে আর্থিক ঝুঁকি । ব্যবসায় স্থাপন ও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা একটি ঝুঁকিপূর্ণ কাজ । অন্যদিকে ব্যবসায় উদ্যোগের মাধ্যমে সাফল্যজনকভাবে লাভজনক খাতে বিনিয়ােগ করে অধিক পরিমাণ আয় করাও সম্ভব । কিন্তু মনে রাখতে হবে , একজন সফল উদ্যোক্তা সর্বদা ঝুঁকি আগেই নিরূপণ করেন এবং তা হ্রাসের ব্যবস্থা নেন এবং সবসময়ই পরিমিত পরিমাণ ঝুঁকি গ্রহণ করেন । মাত্রারিক্ত ঝুঁকি এবং অতি আত্মবিশ্বাস যেকোনাে পরিকল্পনাকে ব্যর্থতায় পর্যবসিত করতে পারে ।


    ( ঘ ) আর্থ - সামাজিক উন্নয়নের ধারণা 


    জাতিসংঘ সামাজিক উন্নয়ন কমিশনের ৫৭ তম অধিবেশনে জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মােমেন বলেছেন , মানবিক উন্নয়ন সূচকে টেকসই ক্রমােন্নতিসহ আর্থ - সামাজিক উন্নয়নের সব ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উল্লেখযােগ্য অগ্রগতি হয়েছে । eran আর্থ সামাজিক বলতে অর্থনৈতিক কার্যকলাপ ও সামাজিক জীবন এর মাঝে সম্পর্ককে বুঝায় । আর্থ সামাজিক উন্নয়ন হচ্ছে জিডিপি , জীবনমান , শিক্ষার হার এবং শ্রমিকের স্তরের উন্নতি । উদাহরণস্বরূপ বলা যায় , একজন ব্যক্তি তার জীবনে বেঁচে থাকার জন্য যেসব কার্যাবলিতে লিপ্ত হয় , সেসব উপাদানই হলাে আর্থ - সামাজিক উন্নয়ন ।

    ১। সম্পদের সদ্ব্যবহার : দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ ও মানব সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করে ব্যবসায় উদ্যোগ দেশে নতুন নতুন ব্যবসায় গঠন ও শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপন করে । 

    ২। মূলধন গঠন : মূলধন ছাড়া কোনাে প্রতিষ্ঠান গঠন বা নতুন কিছু উৎপাদন সম্ভব নয় । ব্যবসায় উদ্যোগ ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ও বিচ্ছিন্ন সঞ্চয়কে একত্রিত করে মূলধন গঠনে সহায়ক ভূমিকা পালন করে । 

    ৩। জাতীয় উৎপাদন ও আয় বৃদ্ধি : ব্যবসায় উদ্যোগের মাধ্যমে দেশে মােট দেশজ উৎপাদন [ Gross Domestic Product ( GDP ) ] ও মােট জাতীয় উৎপাদন [ Gross National Product ( GNP ) ] বৃদ্ধি পায় । ফলে , মােট জাতীয় আয় ( Total National Income ) বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি মাথা পিছু আয়ও ( Income Per Capita ) বৃদ্ধি পায় । 

    ৪। কর্মসংস্থান সৃষ্টি : বর্তমান উন্মুক্ত বাজার অর্থনীতিতে সরকারের পুরােপুরি কর্মসংস্থানের দায়িত্বভার নেয়ার সুযােগ নেই । বরং রাষ্ট্র এরূপ সহায়ক ভূমিকা পালন করে যাতে দেশে বেসরকারি মালিকানায় নতুন নতুন শিল্প কল - কারখানা , ব্যবসায় উঠে এবং নিত্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযােগ সৃষ্টি হয় । আর এটা ব্যবসায় উদ্যোগ ছাড়া সম্ভব নয় ।


    ২০২২ সালের এসএসসি অষ্টম সপ্তাহের ব্যবসায় উদ্যোগ এসাইনমেন্ট সমাধান



    Tag: এসএসসি এসাইনমেন্ট ২০২২ উত্তর ব্যবসায় উদ্যোগ (অষ্টম/৮ম সপ্তাহ) এসাইনমেন্ট -২,  ২০২২ সালের এসএসসি অষ্টম সপ্তাহের ব্যবসায় উদ্যোগ এসাইনমেন্ট সমাধান, দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ব্যবসায় উদ্যোগের ভূমিকা নিরুপণ

    Previous Post Next Post

    👇 সকল ক্লাসের এসাইনমেন্ট নোটিফিকেশন আকারে সহজে পেতে ডাউনলোড করুন আমাদের এপ্লিকেশন 

    আমাদের ফেসবুক পেইজে যুক্ত হতে ক্লিক করুন