এইচএসসি এসাইনমেন্ট ২০২১ উত্তর /সমাধান ইসলাম শিক্ষা ১ম পত্র (এসাইনমেন্ট ১) | ২০২১ সালের এইচএসসি ইসলাম শিক্ষা এসাইনমেন্ট সমাধান (১ম পত্র)


    ২০২১ সালের এইচএসসি ইসলাম শিক্ষা এসাইনমেন্ট সমাধান (১ম পত্র)


    শিরোনামঃ ইসলামি শিক্ষা ও সংস্কৃতি 

    সমাধানঃ

    ইসলাম শিক্ষার পরিচয় ও ধারণাঃ

    ইসলাম শিক্ষার আরবি প্রতিশব্দ হলাে ইলম  এর অর্থ হলাে- জ্ঞান , জানা , অবগত হওয়া ইত্যাদি। 
    ইসলামি পরিভাষায় কুরআন ও হাদিসভিত্তিক এমন জ্ঞান অন্বেষণ করা যার মাধ্যমে ইসলামি জীবনব্যবস্থার ওপর চলা সহজ হয় । ইিলম দ্বারা বােঝায় মহান আল্লাহকে জানবার জ্ঞান এবং এ অর্থে দ্বীন বিষয়ক যেকোনাে জনকে ইসলাম শিক্ষা বলা হয় । ইসলাম শিক্ষার পরিচয় এভাবেও দেওয়া যায়— “ ইসলাম শিক্ষা এমন একটি বিষয় যার পঠন - পাঠন , অধ্যয়ন , অনুশীলন করলে আল্লাহর দেওয়া পরিপূর্ণ জীবন বিধান - দীন ইসলামের স্বরূপ সম্পর্কে জ্ঞানলাভ করা যায় এবং তদনুযায়ী স্বীয় জীবন গঠন ও পরিচালনা করে আল্লাহ প্রদত্ত খেলাফতের দায়িত্ব - কর্তব্য যথাযথভাবে পালন করার প্রয়ােজনীয়তা অনুভব করা যায় । ” এ জ্ঞান মানুষের মহামূল্যবান সম্পদ , যা মহান আল্লাহর শ্রেষ্ঠ অবদান । 

    এ সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালার ঘােষণা . “ আল্লাহ তায়ালা তােমার প্রতি কিতাব ও হিকমত অবতীর্ণ করেছেন আর তুমি যা জানতে না তা তােমাকে শিক্ষা দিয়েছেন । তােমার প্রতি আল্লাহর মহানুগ্রহ রয়েছে । " ( সূরা নিসা : ১১৩ ) 

    সর্বোপরি , যে শিক্ষা মুসলিম দার্শনিক , মুসলিম বৈজ্ঞানিক , মুসলিম অর্থনীতিবিদ , মুসলিম ঐতিহাসিক সৃষ্টি করবে - তাই ইসলামি শিক্ষা নামে অবহিত হওয়ার যােগ্য । 

    ইসলাম শিক্ষার প্রকৃত রূপঃ 

    ইসলাম শিক্ষার স্বরূপ হবে কুরআন ও হাদিসের অনুকূলে বিধিসম্মত শিক্ষা । আমাদের দৈনন্দিন জীবনে কতকগুলাে বিষয় সম্বন্ধে জ্ঞান রাখা একান্ত প্রয়ােজন । যেমন- মহান আল্লাহ , রাসুল , ফেরেশতা , কিয়ামত , পুনরুত্থান , সালাত , সাওম , হজ , যাকাত , হালাল - হারাম ইত্যাদি । এগুলাে সম্বন্ধে সম্যক জ্ঞান অর্জন করে মেনে চলা একান্ত কর্তব্য । অপরপক্ষে কেউ যদি এগুলাে পালন না করে , তাহলে সে পরিপূর্ণ মুসলমান হতে পারবে না । কেননা এগুলাে শিক্ষালাভ করা ফরযে আইন । 

    হাদিসের মাধ্যমে বলা যায় , এ ধরনের জ্ঞান অর্জনকে প্রত্যেক নরনারীর ওপর ফরয করে দেওয়া হয়েছে, অর্থ- প্রত্যেক মুসলমানের ওপর জ্ঞান অর্জন করা ফরয । ( বায়হাকি ) 

    এছাড়া আরও কতকগুলাে শিক্ষা রয়েছে । যেমন— জ্ঞান সম্প্রসারিত করার জন্য উচ্চশিক্ষা লাভ করা , প্রকৌশল , চিকিৎসা ও কারিগরি শিক্ষালাভ করা । কলা , মানবিক , বাণিজ্য , বিজ্ঞান ও জ্ঞান - বিজ্ঞানের অন্যান্য শাখায় শিক্ষালাভ করাও এ শিক্ষার অন্তর্ভুক্ত । এসমস্ত শিক্ষা জনকল্যাণমূলক শিক্ষা । তবে এখানে আল্লাহর অস্তিত্বকে পরিহার করলে চলবে না । বস্তুত আল্লাহ ও রাসুলের আদর্শ সামনে রেখে এসমস্ত শিক্ষা অর্জন করতে হবে । আল্লাহ তায়ালা এক , অদ্বিতীয় , তাঁর কোনাে শরীক নেই । হযরত মুহাম্মদ ( সা . ) তাঁর প্রেরিত রাসুল । আমরা একমাত্র আল্লাহরই ইবাদত করব । আমরা যা কিছু শিক্ষাগ্রহণ করব সবই একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে । 

    যেসব শিক্ষালাভ করলে আল্লাহ তায়ালা সন্তুষ্ট থাকেন আমরা তাই শিক্ষালাভ করব । অপরপক্ষে যেসব শিক্ষা লাভে মহান আল্লাহ অসন্তুষ্ট হন , আমরা তা বর্জন করব । অর্থাৎ আমরা পুঁথিগত বিদ্যা অর্জন করব না , বরং বস্তুগত শিক্ষালাভ করে তা কার্যে পরিণত করব এবং আল্লাহর রাস্তায় সুদৃঢ় থাকব । নৈতিক শিক্ষার সাথে বস্তুগত উ শিক্ষার সমন্বয় সাধন করব । তাহলে বিভ্রান্ত ও পথভ্রষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে না। 

    ইসলাম শিক্ষার উদ্দেশ্যঃ

    ইসলাম শিক্ষার উদ্দেশ্য হলাে— ইসলামকে সঠিকভাবে জানার ও মানার মাধ্যমে আল্লাহর খাঁটি গােলাম হিসেবে ব্যক্তি তৈরি করা এবং তার সন্তুষ্টি অর্জন করা । ফলে ইসলাম শিক্ষা মানুষের শারীরিক , মানসিক , নৈতিক ও আত্মিক বিকাশ সাধন করে মানুষকে সত্যিকারের মানুষে রূপান্তরিত করে । ইসলাম শিক্ষার মাধ্যমে ব্যক্তি ও সমাজজীবনপ মৌলিক পরিবর্তন সাধন সম্ভব হয় । এর কল্যাণে ব্যক্তি আদর্শ ও চরিত্রবান হয় , সুনাগরিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং সমাজ - রাষ্ট্র তথা বিশ্বের সম্পদে পরিণত হয় । তাই ইসলাম শিক্ষা মানুষের জন্য ইহকালে সার্বিক কল্যাণ বয়ে আনে এবং পরকালে জাহান্নামের আগুন হতে মুক্তির ব্যবস্থা করে ।

     ইসলাম শিক্ষার মূল উদ্দেশ্যকে আমরা তিনটি ভাগে বিভক্ত করতে পারি 

    ১.ধর্মীয় উদ্দেশ্য , 
    ২.নৈতিক উদ্দেশ্য ও 
    ৩.পার্থিব উদ্দেশ্য । 

    ইসলাম শিক্ষার ধর্মীয় উদ্দেশ্যঃ 
    ইসলাম শিক্ষার প্রথম উদ্দেশ্য হলাে- আল্লাহকে চেনা । মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর আনুগত্য তথা ইবাদত বন্দেগি করার জন্য মানবজাতি সৃষ্টি । যেমন আল্লাহ বলেন 

    [ আমি জিন ও মানুষকে আমার ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছি ।] ( সূরা যারিয়াত : ৫৬ ) 

    ইবাদত করতে হলে প্রথমে আল্লাহর সঠিক পরিচয় , ও বন্দেগির ধরন এবং তা আদায় করার নিয়ম পদ্ধতি অবগত হওয়া একান্ত অপরিহার্য । আর শিক্ষা ব্যতীত এগুলাে অবগত হওয়া যায় না । প্রকৃত জ্ঞানীরাই আল্লাহর স্বরূপ বােঝে তাঁর যথাযথ ইবাদত করতে পারেন । 

    [এ মর্মে আল্লাহ বলেন , “ নিশ্চয়ই আল্লাহর বান্দাহগণের মধ্যে কেবল বিদ্বানগণই আল্লাহকে ভয় করে । ”] ( সূরা ফাতির : ২৮ )

    ইসলাম শিক্ষার অন্যতম উদ্দেশ্য হচ্ছে- পরকালকে জানা এবং পরকালের চিরস্থায়ী জীবনের মুক্তি , শান্তি ও সাফল্য লাভ । এ শিক্ষায় পার্থিব জীবন ক্ষণস্থায়ী এবং পারলৌকিক জীবন চিরস্থায়ী । কাজেই আসল ও প্রকৃত সাফল্য হচ্ছে আখিরাতের সাফল্য । আর ইসলাম শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য এ পারলৌকিক স্থায়ী জীবনের চূড়ান্ত ও পরম সাফল্য লাভ । ইসলাম শিক্ষার আরেকটি উদ্দেশ্য হচ্ছে-- মানব সমাজকে সুবিচারের ওপর প্রতিষ্ঠিত করবার যােগ্যতা অর্জন । অর্থাৎ সমাজজীবনে আল্লাহর দ্বীনকে সঞ্জীবিত করা ও প্রতিষ্ঠিত করা । বিশ্বনবি ( সা . ) তিরোধানের মাধ্যমেই নবুয়তের সিলসিলার পরিসমাপ্তি ঘটে । তার পরে আর কোনাে নবির আগমন ঘটবে না । নবির উম্মাহর ওপর দ্বীনের হিফাজত ও প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব বর্তিয়েছে । কাজেই ইলমে দ্বীন শিক্ষা করে একে সঞ্জীবিত রাখা ও প্রতিষ্ঠা করা এ জমানার উম্মতের আলেমদের প্রধান কর্তব্য । এজন্য মুসলিম উম্মাহর উলামায়ে কিরামকে নবিদের উত্তরসূরী বলা হয়েছে ।  

    [ “ আলেমগণ নবিদের ওয়ারিস । ”] ( তিরমিযি


    ইসলাম শিক্ষার নৈতিক উদ্দেশ্য ঃ
    নৈতিকতা হলাে ব্যক্তির মৌলিক মানবীয় গুণ এবং জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্পদ , যা অর্জন করলে তার জীবন সুন ! উন্নত হয় । এর মাধ্যমে সে অর্জন করে সম্মান ও মর্যাদা । ইসলাম শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলাে মানবতা । নৈতিকতার বিকাশ সাধন । মানব প্রকৃতির প্রতিভাকে শিক্ষার মাধ্যমে জাগরিত ও বিকশিত করা । মানুষের মেক মননশীলতা , কর্মকুশলতা ও দক্ষতা শিক্ষার মাধ্যমে বিকশিত হয় । ইসলাম শিক্ষার মাধ্যমে আতার উন্নতি হয় দয়া , মায়া , স্নেহ - মমতা ইত্যাদি মানবীয় গুণাবলি উৎকর্ষিত ও বিকশিত হয় । মানবীয় গুণাবলি বিবর্জিত মন পশুর চেয়েও অধম । 

    [আল্লাহ তায়ালা বলেন অর্থ : তারা পশুর মতাে ; বরং তার চেয়েও অধম । ” ( সূরা আরাফ : ১৭৯ ) ] 
    এ শিক্ষা ব্যক্তি চরিত্রের উৎকর্ষ সাধন , পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও কর্তব্যবােধ জাগ্রতকরণের মাধ্যমে ব্যক্তি , পরিবার ? সমাজজীবনকে সুন্দর , সুশৃঙ্খল ও শান্তিময় করে তুলতে সহায়তা করে । একটি ন্যায় ভিত্তিক আদর্শ পরিবার , সমাজ , রাষ্ট্র ও বিশ্ব গঠনে ইসলাম শিক্ষা সহায়তা করতে পারে । কেন ইসলাম শিক্ষার মাধ্যমেই মানুষকে অসম্প্রদায়িক , সাম্য , উদার মানবতাবােধ ও ন্যায়নীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল কয়ে গড়ে তােলা যায় । তাই বলা যায় যে , নৈতিক শিক্ষা ইসলাম শিক্ষার অবিচ্ছেদ্য অংশ । 

    ইসলাম শিক্ষার পার্থিব উদ্দেশ্য - : 
    জীবনকে সঠিকভাবে পরিচালনা করার যােগ্যতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যেই শিক্ষা ব্যবস্থার প্রয়ােজন । হালাল জী উপার্জনে উৎসাহিত করা ও আত্মকর্মসংস্থানে সক্ষম করে গড়ে তােলা ইসলাম শিক্ষার অন্যতম বড় উদশ আল্লাহ তায়ালা যেমন বান্দাহকে সালাত , সাওম ও অন্যান্য ইবাদত করার আদেশ দিয়েছেন । তেমনি কি জীবিকা উপার্জনেরও নির্দেশ দিয়েছেন । 
    [তিনি ঘােষণা করেন  অর্থ “ সালাত সমাপ্ত করে তােমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড় এবং আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধান কর । ”] 

    তােমরা ফজরের সালাত আদায় করার পর তোমাদের জীবিকার সন্ধান না করে ঘুমিয়ে যেওনা ।  
    [মহানবি ( সা . ) আরও ইরশাদ করেছেন অর্থাৎ মহানবি ( সা . ) হালাল জীবিকা উপার্জনকে ফরয় বলে ঘোষণা করেছেন ।] 

    মহানবি ( সা ) এমের এক - তাগিদ দিয়েছেন । তিনি ঘােষণা করেছেন সূল সুর করেছেন । আমি অমন মানুষ সে সকল আৰয়ার ও আহরণ করে করে । জন অন ব্যতীত অন্ত ও সমৃদ্ধি অৱন করা ব নয় । আবার মানবজাতির জন্য নিখিল বিশ্বের অফুরন্ত সম্পদ সৃষ্টি করেছেন।

    ইসলাম শিক্ষার গুরুত্বঃ








    এইচএসসি এসাইনমেন্ট ২০২১ উত্তর /সমাধান ইসলাম শিক্ষা ১ম পত্র (এসাইনমেন্ট ১) 



    Tag: এইচএসসি এসাইনমেন্ট ২০২১ উত্তর /সমাধান ইসলাম শিক্ষা ১ম পত্র (এসাইনমেন্ট ১),  ২০২১ সালের এইচএসসি ইসলাম শিক্ষা এসাইনমেন্ট সমাধান (১ম পত্র)
    Previous Post Next Post

    👇 সকল ক্লাসের এসাইনমেন্ট নোটিফিকেশন আকারে সহজে পেতে ডাউনলোড করুন আমাদের এপ্লিকেশন 

    আমাদের ফেসবুক পেইজে যুক্ত হতে ক্লিক করুন