পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজের নিয়ম-ঈদুল ফিতরের নামাজের নিয়ত আরবি বাংলা উচ্চারণ অর্থসহ

পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজের নিয়ম-ঈদুল ফিতরের নামাজের নিয়ত আরবি বাংলা উচ্চারণ অর্থসহ


আসছালামু আলাইকুম প্রিয় পাঠক সবাই কেমন আছেন। আসা করি সবাই ভালো আছেন। বন্ধুরা এই পোস্টে আমরা তোমাদের পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজের নিয়ম,ঈদুল ফিতরের নামাজের নিয়ত বিস্তারিত আলোচনা করবো। আসা করি তোমাদের উপকারে আসবে।

ঈদুল ফিতরঃ- ঈদ অর্থ খুশি এবং ফিতর এসেছে ফিতরা থেকে। সুতরাং ঈদুল ফিতরের অর্থ দাড়ায় দানখয়রাতের মাধ্যমে পবিত্র ঈদের উৎসবকে আনন্দে উদ্ভাসিত করে তোলা। পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ ২ রাকাত অতিরিক্ত ৬ তাকবিরের সঙ্গে আদায় করতে হয়

       
       
             

    পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজের নিয়ম

    ঈদের নামাজে অতিরিক্ত ছয় কিংবা বারো তাক্ববির রয়েছে।

    ছয় তাকবিরের ক্ষেত্রে প্রথম রাক্বাতের শুরুতে অতিরিক্ত তিন তাক্ববির এবং দ্বিতীয় রাক্বাতে অতিরিক্ত তিন তাক্ববির দিতে হয়। প্রথম রাক্বাতে সানা পাঠের পর কানের লতি পর্যন্ত হাত তুলে পর পর তিন তাক্ববির বলতে হয়।

    দ্বিতীয় রাক্বাতে সুরা পাঠান্তে রুকুতে যাওয়ার আগে অতিরিক্ত তিন তাক্ববির বলতে হয়। অতিরিক্ত তাক্ববির বলার পর কানের লতি থেকে হাত নামিয়ে আনতে হয়।
    চতুর্থবার ‘আল্লাহু আকবার’ বলে হাত না বেঁধে রুকুতে চলে যাবেন। এরপর সেজদা এবং আখেরি বৈঠক করে যথারীতি সালাম ফিরায়ে নামাজ শেষ করবেন।

    বারো তাকবিরের ক্ষেত্রে প্রথম রাক্বাতের শুরুতে অতিরিক্ত সাত তাকবির এবং দ্বিতীয় রাক্বাতের শুরুতে অতিরিক্ত পাঁচ তাক্ববির দিতে হয়। প্রথম রাকাতে সানা পাঠের পর কানের লতি পর্যন্ত হাত তুলে পর পর সাতবার তাক্ববির বলতে হয়। দ্বিতীয় রাকাতে সুরা পাঠা শুরুর পূর্বে অতিরিক্ত পাঁচ তাকবির বলতে হয়।

    ঈদুল ফিতরের নামাজের নিয়ত

    নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহে তায়ালা রাকায়াতাই সালাতে ঈদিল ফিতর মাআ সিত্তাতে তাকবীরাতি অয়াজিবুল্লাহে তায়ালা ইক্‌তাদাইতু বি-হাযাল্‌ ইমামে মোতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কাবাতিশ শরিফাতে আল্লাহু আকবর।

    ঈদুল ফিতরের নামাজের নিয়ত বাংলা

    'আমি অতিরিক্ত ছয় তাকবিরসহ এই ইমামের পেছনে ঈদুল ফিতরের দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ আদায় করছি।

    ঈদের নামাজ কি ওয়াজিব না সুন্নত

    উত্তরঃ-ঈদের নামাজ ওয়াজিব

    ঈদুল ফিতরের মাসয়ালা

    সদকাতুল ফিতর একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত।  যা রমজান মাসের শেষে ঈদুল ফিতরের দিন আদায় করতে হয়। এখানে সদকাতুল ফিতরের প্রয়োজনীয় মাসয়ালা উল্লেখ করা হলো-

    সদকাতুল ফিতরের নেসাব

    মাসয়ালা: সদকাতুল ফিতরের নেসাব জাকাতের নেসাবের সমপরিমাণ, অর্থাৎ ঋণ বাদ দিয়ে সাড়ে সাত ভরি সোনা বা সাড়ে বয়ান্ন ভরি রূপা বা তার সমমূল্যের নগদ অর্থ বা ব্যবহারের অতিরিক্ত জিনিষ-পত্র অথবা খোরপোশের প্রয়োজনাতিরিক্ত জমি ঈদুল ফিতরের দিন তার নিকট থাকলে তার উপর সদকাতুল ফিতর ওয়াজিব হবে। তবে এতে জাকাতের ন্যায় বর্ষ অতিক্রম হওয়া শর্ত নয়। -ফাতহুল কাদির: ২/২৮১, ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া: ১৯১, আদ্দুররুল মুখতার: ১/১৪৩

    মাসয়ালা: মৌলিক নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ বাদ দিয়ে প্রত্যেকে নেসাব পরিমাণ অর্থ বা সম্পদের মালিক হওয়া সদকায়ে ফিতর ওয়াজিব হওয়ার পূর্বশর্ত। যৌথ সম্পদ বা যৌথ উপার্জন ধর্তব্য নয়। -মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা: ১০/৪৯৪, মাবসুতে সারাখসি: ২/১৮৫

    মাসয়ালা: নাবালেগ বাচ্চাদের বাবা যদি ওই পরিমাণ সম্পদের মালিক হয় তাহলে পিতার ওপর তাদের পক্ষ থেকেও সদকাতুল ফিতর আদায় করা ওয়াজিব। -বাদায়েউস সানায়ে: ২/৭০

    ফিতরা যাদের দেওয়া যাবে


    মাসয়ালা: যাদের জাকাত দেওয়া যায় তাদেরকে ফিতরাও দেওয়া যায়। যাদেরকে জাকাত দেওয়া যায় না তাদেরকে ফিতরাও দেওয়া যায় না। নিজের ঊর্ধ্বতন যথা বাবা-মা, দাদা-দাদি, নানা-নানি ও তাদের বরাবর উপরে এবং অধঃস্তন যথা ছেলে-মেয়ে, নাতি-নাতনি ও তাদের বরাবর নীচে কাউকে ফিতরা দেওয়া যাবে না। স্বামী-স্ত্রী একে-অপরকে দিতে পারবে না। -বাদায়েউস সানায়ে: ২/৪৯, ফাতহুল কাদির: ২/২০৮
      
    মাসয়ালা: ভাই-বোন, চাচা, মামা, ফুফু, খালা ও তাদের সন্তানদেরকে ফিতরা দিতে পারবে। -ফাতহুল কাদির: ২/২০৯, রদ্দুল মুহতার: ২/৩৪২

    মাসয়ালা: যার ওপর সদকায়ে ফিতর ওয়াজিব নয়- এমন ব্যক্তি ধনী অথবা পিতা-মাতা, ছেলেকে সদকায়ে ফিতরের নামে টাকা দিলে তা শরিয়তের দৃষ্টিতে হাদিয়া বা নফল দান হিসেবে গণ্য হবে, ফিতরা হিসেবে নয়। সুতরাং তাদের জন্য নেওয়া বৈধ হবে। -কিফায়াতুল মুফতি: ৪/৩২২

    মাসয়ালা: সদকায়ে ফিতর ও জাকাত দ্বারা কারো হক আদায় করা যায় না। বেতন যেহেতু চাকুরিজীবির প্রাপ্য তাই ফিতরা দ্বারা বেতন আদায়ের দায়িত্ব থেকে উদ্ধার পাওয়ার ব্যবস্থা করা বৈধ হয় না। কোনো চাকুরিজীবি ও কর্মচারী জাকাত-ফিতরা খাওয়ার উপযোগী হলে তাকে ফিতরার টাকা দেওয়া যাবে, কিন্তু এ টাকা বেতন হিসেবে ধরা যাবে না। পক্ষান্তরে জাকাত খেতে পারে- এমন না হলে ফিতরার টাকা দেওয়া-নেওয়া কোনো অবস্থাতেই জায়েয হবে না। -আদ্দুররুল মুখতার: ২/৩৬৮

    মাসয়ালা: ঈদের নামাজের পূর্বেই ফিতরা আদায় করে দেওয়া উত্তম, তবে পরে দিলেও আদায় হয়ে যাবে। হজরত ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) ঈদগাহে যাওয়ার পূর্বে সদকাতুল ফিতর আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন। -মুসলিম শরিফ, হাদিস: ১৬৩৬, সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১৬০৯

    ঈদুল ফিতরের তাকবীর

    আল্লাহু আকবর, আল্লাহু আকবর লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াল্লাহু আকবর। আল্লাহু আকবর। ওয়া লিল্লাহিল হামদ্‌।

    অর্থঃ
    আল্লাহ্‌ মহান, আল্লাহ্‌ মহান, আল্লাহ্‌ ছাড়া অন্য কোন মাবুদ নাই, আল্লাহ্‌ মহান। আল্লাহ্‌ মহান। সকল প্রশংসা তাঁর জন্য।

    ঈদুল ফিতরের সুন্নত আমল

    •  খুব ভোরে ঘুম থেকে ওঠা
    • মিসওয়াক করা
    • গোসল করা
    • সামর্থ্য অনুযায়ী উত্তম পোশাক পরিধান করা
    • সুগন্ধি ব্যবহার করা
    • নামাজের আগে ফিতরা আদায় করা
    • নামাজের আগেই মিষ্টান্নজাতীয় খাবার খাওয়া
    • বেজোড়সংখ্যক খেজুর-খুরমা খাওয়া
    • ঈদগাহে হেঁটে যাওয়া
    • এক রাস্তা দিয়ে যাওয়া এবং অন্য রাস্তা দিয়ে ফিরে আসা
    • সকাল সকাল ঈদের নামাজ পড়ার জন্য বের হওয়া
    •  ঈদের নামাজ ঈদগাহে গিয়ে পড়া; সম্ভব না হলে পাড়া বা মহল্লার মসজিদে গিয়ে পড়া
    •  ঈদুল ফিতরে নিচু আওয়াজে তাকবির পড়তে পড়তে ঈদগাহে যাওয়া [ তাকবির হলো_ 'আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হামদ।'।

    Tag:পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজের নিয়ম,ঈদুল ফিতরের নামাজের নিয়ত,ঈদুল ফিতরের নামাজের নিয়ত বাংলা,ঈদের নামাজ কি ওয়াজিব না সুন্নত,ঈদুল ফিতরের তাকবীর,ঈদুল ফিতরের সুন্নত আমল

    0/Post a Comment/Comments

    Previous Post Next Post