সাপের স্বপ্নের ব্যাখ্যা (বিস্তারিত) | স্বপ্নে সাপ দেখার কারণ কি ইসলামিক ব্যাখ্যা | সপ্নে সাপ দেখলে কি হয়

সাপের স্বপ্নের ব্যাখ্যা (বিস্তারিত) | স্বপ্নে সাপ দেখার কারণ কি ইসলামিক ব্যাখ্যা | সপ্নে সাপ দেখলে কি হয়


 আসছালামু আলাইকুম প্রিয় পাঠক পাঠিকা সবাই কেমন আছেন। আসা করি সবাই আল্লাহর রহমতে ভালো আছেন। প্রিয় পাঠক পাঠিকা আজকে আমরা তোমাদের স্বপ্নে সাপ দেখার কারণ কি,স্বপ্নে সাপ দেখার কারণ কি ইসলামিক ব্যাখ্যা,সাপের স্বপ্নের ব্যাখ্যা,স্বপ্নে সাপে কাটলে কি হয়,স্বপ্নে ঘরে সাপ দেখলে কি হয়,গর্ভাবস্থায় স্বপ্নে সাপ দেখলে কি হয়,স্বপ্নে সাদা সাপ দেখার অর্থ,স্বপ্নে সাপ মারলে কি হয়,স্বপ্নে কাউকে সাপ মারতে দেখলে কি হয়,স্বপ্নে কালো সাপ দেখলে কি হয়,স্বপ্নে বড় সাপ দেখলে কি হয়,স্বপ্নে পানিতে সাপ দেখলে কি হয়,স্বপ্নে অজগর সাপ দেখলে কি হয় এইসব প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করবো। আসা করি তোমাদের উপকারে আসবে। 

       
       

    ইসলামের দৃষ্টিতে স্বপ্ন ও ব্যাখ্যাঃ

    স্বপ্ন ঘুমের ঘোরে দর্শিত চিন্তা-ভাবনার নাম। অন্যদিকে এই স্বপ্নই হচ্ছে মানুষের কাক্ষিত ভবিষ্যৎ। স্বপ্নকে আরবি ভাষায় ‘রুইয়া’ এবং ফার্সিতে ‘খাব’ বলা হয়। এ স্বপ্নের কোনো বাস্তবতা আছে কি না এ ব্যাপারে ধর্মীয় গবেষক এবং দার্শনিকদের মাঝে কিছু মতপার্থক্য রয়েছে। দার্শনিকদের মতে, মানুষের চিন্তা-ভাবনার একটি প্রতিচ্ছবি তার ঘুমের মাঝে ফুটে ওঠে, যা শুধু ধারণা ও চিন্তাপ্রসূত। বাস্তবতার সঙ্গে এর কোনো মিল নেই। তবে ইসলামী জ্ঞানসম্পন্ন বিদগ্ধ আলেমরা এ ব্যাপারে দ্বিমত পোষণ করেন। তাদের বক্তব্য হলো, সব স্বপ্নই মানুষের ধারণাপ্রসূত নয়। বরং অনেক স্বপ্ন রয়েছে, যা অর্থবোধক। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন স্বপ্ন তিন প্রকার।

    ১. রুইয়ায়ে সালেহাহ তথা ভালো স্বপ্ন। আল্লাহ মহানের পক্ষ থেকে কোনো সুসংবাদ হিসেবে যা বিবেচ্য।

    ২. রুইয়ায়ে শায়তানি তথা শয়তান কর্তৃক প্ররোচনামূলক প্রদর্শিত স্বপ্ন।

    ৩. রুইয়ায়ে নাফসানি তথা মানুষের চিন্তা-চেতনার কল্পচিত্র।

    এরপর রাসুল (সা.) বলেছেন, যদি কেউ অপছন্দনীয় তথা ভয় বা খারাপ কোনো স্বপ্ন দেখে তাহলে সে যেন তাড়াতাড়ি অজু করে নামাজে দাঁড়িয়ে যায় এবং দর্শিত স্বপ্নের ব্যাপারে অনভিজ্ঞ কাউকে কিছু না বলে। [আবু দাউদ]

    হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে এও বর্ণিত আছে যে, রাসুল (সা.) ফজরের নামাজের পর সাহাবিদের জিজ্ঞেস করতেন তোমাদের মধ্যে কেউ কোনো স্বপ্ন দেখেছ কি? অতঃপর রাসুল (সা.) নিজে এগুলোর ব্যাখ্যা করতেন।

    চিরসত্যের ধারক মহানবি (সা.) এর বাণীর আলোকে আমরা এ বিশ্বাস স্থাপন করি যে, কিছু ভালো স্বপ্ন আল্লাহ মহান তার প্রিয় ও নেক বান্দাদের দেখান। কিছু স্বপ্ন শয়তানের প্ররোচনায় হয়ে থাকে। কিছু স্বপ্ন মানুষের চিন্তা ও ধারণার ফল। একটি কথা উল্লেখ্য যে, সব নবি-রাসুলের স্বপ্ন অহি।

    মানুষ স্বপ্ন দেখে। ভাল স্বপ্ন দেখে, বলে সুন্দর স্বপ্ন দেখেছি। দেখে খারাপ স্বপ্ন, বলে ভয়ানক এক স্বপ্ন দেখেছি। আবার কখনো বলে একটি বাজে স্বপ্ন দেখেছি। আসলে স্বপ্ন কি? এ নিয়ে গবেষণা কম হয়নি, মানব সভ্যতার শুরু থেকে আজ পর্যন্ত। কেউ বলেছেন, এটা একটি মানসিক চাপ থেকে আসে। কেউ বলেছেন, শারীরিক বিভিন্ন ভারসাম্যের ব্যাঘাত ঘটলে এটা দেখা যায়, সে অনুযায়ী। কেউ বলেছেন, সারাদিন মনে যা কল্পনা করে তার প্রভাবে রাতে স্বপ্ন দেখে।স্বপ্ন আধুনিক মনোবিজ্ঞানেরও একটি বিষয়।

    আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে মানুষের জন্য পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা হিসাবে এসেছে ইসলাম। এই ইসলাম মানুষের স্বপ্নের ব্যাপারেও উদাসীন থাকেনি। স্বপ্ন সম্পর্কে তার একটি নিজস্ব বক্তব্য আছে। তার এ বক্তব্য কোনো দার্শনিক বা বিজ্ঞানীর বক্তব্যের সাথে মিলে যাবে, এমনটি জরুরী নয়। মিলে গেলেও কোনো দোষ নেই।

    স্বপ্ন ও তার ব্যাখ্যা বিশেষজ্ঞ ইমাম মুহাম্মাদ ইবনে সীরিন রহ. বলেছেন :

    স্বপ্ন তিন ধরনের হয়ে থাকে। মনের কল্পনা ও অভিজ্ঞতা। শয়তানের ভয় প্রদর্শন ও কুমন্ত্রণা ও আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে সুসংবাদ। (বর্ণনায় : বুখারি)

    ইসলামে স্বপ্নের একটি গুরুত্ব আছে। নি:সন্দেহে এটা ইসলামী জ্ঞান-বিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এক চোখা বস্তুবাদীরা বলে থাকে, ‍‍‍‍‍‍মানুষ যখন ঘুমায়, তখন তার মস্তিস্ক তার স্মৃতিগুলো নাড়াচাড়া করে। যাচাই-বাছাই করে, কিছু পুনর্বিন্যাস করে। তারপর স্মৃতির ফাইলে যত্ন করে রেখে দেয়। এই কাজটা সে করে মানুষ যখন ঘুমিয়ে থাকে তখন। মস্তিস্কের এই কাজ-কর্মই আমাদের কাছে ধরা দেয় স্বপ্ন হিসেবে।‌‌” কথাটা শুনতে মন্দ নয়। তবে এটি স্বপ্নের একটি প্রকার মাত্র। বাকী দু প্রকার কি আপনাদের মস্তিস্কে ধরা পড়ে? ইসলাম তো বলে স্বপ্ন তিন প্রকার। আল-কোরানে নবি ইবরাহীম আলাইহিস সালামের স্বপ্ন, ইউসুফ আলাইহিস সালামের স্বপ্নের কথা উল্লেখ আছে। ইউসূফ আলাইহিস সালামের সময়ে মিশরের বাদশার স্বপ্ন, তাঁর জেলখানার সঙ্গীদের স্বপ্ন ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের স্বপ্ন নিয়ে তো আল কোরআনে বিস্তর আলোচনা হয়েছে। স্বপ্ন দ্রষ্টার অবস্থা ভেদে একই স্বপ্নের ব্যাখ্যা বিভিন্ন রকম হতে পারে।

    যেহেতু স্বপ্ন তিন প্রকার তাই স্বপ্নের অর্থের প্রকারভেদও তিন প্রকার:

    এক. মনে মনে যা সারাদিন কল্পনা করে তার প্রভাবে ঘুমের মধ্যে ভাল-মন্দ কিছু দেখা। এগুলো আরবীতে আদগাছু আহলাম বা অলীক স্বপ্ন বলে।

    দুই. শয়তানের কুমন্ত্রণা ও প্রভাবে স্বপ্ন দেখা। সাধারণত এ সকল স্বপ্ন ভীতিকর হয়ে থাকে।

    তিন. আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে ইশারা, ইঙ্গিত হিসাবে স্বপ্ন দেখা।

    বিষয়টি উপরে বর্ণিত হাদিসেও উল্লেখ হয়েছে।

    স্বপ্ন সম্পর্কে কিছু কথা হাদিসে এসেছে আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, নবুওয়তে আর কিছু অবশিষ্ট নেই, বাকী আছে কেবল মুবাশশিরাত (সুসংবাদ)। সাহাবীগণ প্রশ্ন করলেন, মুবাশশিরাত কী? তিনি বললেন: ভাল স্বপ্ন। (বর্ণনায় : সহীহ বুখারি)

    হাদিসে এসেছে - আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, দিন যত যেতে থাকবে, কিয়ামত নিকটে হবে, মুমিনদের স্বপ্নগুলো তত মিথ্যা হতে দূরে থাকবে। ঈমানদারের স্বপ্ন হল নবুওয়তের ছিচল্লিশ ভাগের একভাগ। (বর্ণনায় : বুখারি ও মুসলিম) অন্য একটি বর্ণনায় এসেছে, তোমাদের মধ্যে যে লোক যত বেশী সত্যবাদি হবে তার স্বপ্ন তত বেশী সত্যে পরিণত হবে।

    এ হাদিস থেকে আমরা জানতে পারলাম : এক. মুমিনের জীবনে স্বপ্ন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কেয়ামত যত নিকটে আসবে ঈমানদারের স্বপ্ন তত বেশী সত্য হতে থাকবে। দুই. ঈমানদারের জীবনে স্বপ্ন এত গুরুত্ব রাখে যে, তাকে নবুওয়তের ছিচল্লিশ ভাগের এক ভাগ বলা হয়েছে। তিন. মানুষ যত বেশী সততা ও সত্যবাদিতার চর্চা করবে সে ততবেশী সত্য স্বপ্ন দেখতে পাবে। চার. যদি কেউ চায় সে সত্য স্বপ্ন দেখেব, সে যেন সৎ, সততা ও সত্যবাদিতার সাথে জীবন যাপন করে।

    হাদিসে এসেছে - আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: যে নিদ্রার মধ্যে আমাকে দেখে সে যেন বাস্তবেই আমাকে দেখেছে। কারণ, শয়তান আমার আকৃতি ধারণ করতে পারে না। (বুখারি ও মুসলিম)

    এ হাদিস থেকে আমরা জানতে পারলাম :

    এক. যে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে স্বপ্নে দেখবে সে সত্যিকারভাবেই তাকে দেখেছে।

    দুই. শয়তানের কুমন্ত্রণা ও প্রভাবে মানুষ স্বপ্ন দেখে থাকে। শয়তান মানুষকে বিভিন্ন স্বপ্ন দেখাতে পারে। কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আকৃতি ধরে ধোকা দিতে পারে না।

    তিন. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে স্বপ্নে দেখা একটি সৌভাগ্য। খুব কম ঈমানদারই আছেন, যারা এ সৌভাগ্যটি অর্জন করেছেন।

    স্বপ্ন দেখলে করণীয় হাদিসে এসেছে - আবু সায়ীদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন: তোমাদের কেউ যদি এমন স্বপ্ন দেখে যা সে পছন্দ করে, তাহলে জানবে যে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে দেখানো হয়েছে। তখন সে যেন আল্লাহ তাআলার প্রশংসা করে ও অন্যদের কাছে বর্ণনা করে।অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, এ স্বপ্নের কথা শুধু তাকে বলবে, যে তাকে ভালোবাসে। আর যদি স্বপ্ন অপছন্দের হয়, তাহলে বুঝে নেবে এটা শয়তানের পক্ষ থেকে হয়েছে। তখন সে শয়তানের ক্ষতি থেকে আল্লাহ তাআলার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করবে আর এ স্বপ্নের কথা কারো কাছে বলবে না। কারণ খারাপ স্বপ্ন তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।(বর্ণনায় : বুখারি ও মুসলিম)

    এ হাদিস থেকে আমরা জানতে পারলাম :

    এক. যা কিছু ভাল স্বপ্ন, সেটা আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে হয়ে থাকে। আর খারাপ স্বপ্ন শয়তানের কুমন্ত্রণা ও প্রভাবের কারণে দেখে থাকে।

    দুই. ভাল স্বপ্ন দেখলে এমন ব্যক্তির কাছে বলা যাবে, যে তাকে ভালোবাসে। যে ভালোবাসে না, এমন ব্যক্তির কাছে কোনো স্বপ্নের কথা বলা যাবে না। হতে পারে সে ভাল স্বপ্নটির একটি খারাপ ব্যাখ্যা দাঁড় করিয়ে দেবে।

    তিন. ভাল স্বপ্ন দেখলে আলহামদুলিল্লাহ বলে আল্লাহ তাআলার প্রশংসা করতে হবে।

    চার. খারাপ স্বপ্ন দেখলে কারো কাছে বলা উচিত নয়।

    পাঁচ. খারাপ স্বপ্ন দেখলে নিদ্রা থেকে জাগ্রত হওয়া মাত্র আল্লাহ তাআলার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে বলতে হবে আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজীম।

    হাদিসে এসেছে - জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: যদি তোমাদের কেউ এমন স্বপ্ন দেখে যা সে পছন্দ করে না, তাহলে তিনবার বাম দিকে থুথু দেবে। আর তিন বার শয়তান থেকে আল্লাহ তাআলার কাছে আশ্রয় চাবে। (আউজুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজীম বলবে) আর যে পার্শ্বে শুয়েছিল, তা পরিবর্তন করবে। (অর্থাৎ পার্শ্ব পরিবর্তন করে শুবে) (বর্ণনায় : মুসলিম)

    হাদিস থেকে আমরা শিখতে পারলাম :

    এক. খারাপ স্বপ্ন দেখলে তিনবার বাম দিকে থুথু নিক্ষেপ করা ও তিনবার আউজুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজীম বলা তারপর পার্শ্ব পরিবর্তন করে শোয়া সুন্নাত।

    দুই. পার্শ্ব পরিবর্তন করা মানে হল, ডান কাতে শুয়ে থাকলে বাম দিকে ফিরবে। তেমনি বাম কাতে শুয়ে থাকলে ডানে ফিরবে।

    কেউ মিথ্যা স্বপ্নের বর্ণনা দিলে তার ব্যাখ্যা করা উচিত নয়। আর যদি ব্যাখ্যা করা হয়, তাহলে তা সংঘটিত হয়ে যায়। উদাহরণ : এক ব্যক্তি ইমাম ইবনে সীরিন রহ. এর কাছে এসে বলল, আমি স্বপ্নে দেখলাম, আমার হাতে যেন একটি কাঁচের পেয়ালা। সেটি ভেঙ্গে গেল কিন্তু তার পানি রয়ে গেছে।ইবনে সীরিন রহ. বললেন, তুমি কিন্তু এ রকম কোনো স্বপ্ন দেখোনি। লোকটি রাগ হয়ে বলল, সুবহানাল্লাহ! (আমি মিথ্যে বলিনি)ইবনে সীরিন রহ. বললেন, যদি স্বপ্ন মিথ্যা হয়, তাহলে আমাকে দোষারোপ করতে পারবে না। আর এ স্বপ্নের ব্যাখ্যা হল, তোমার স্ত্রী মারা যাবে আর পেটের বাচ্চাটি জীবিত থাকবে।এ কথা শোনার পর লোকটি বলল, আল্লাহর কসম! আমি আসলে কোনো স্বপ্ন দেখিনি।এর কিছুক্ষণ পর তার একটি সন্তান ভূমিষ্ট হয়েছে এবং তাতে আর স্ত্রী মারা গেছে।(ইমাম জাহাবী রহ. প্রণীত সীয়ার আল-আলাম আন নুবালা)

    আরেকটি উদাহরণ : এক ব্যক্তি ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর কাছে এসে বলল, আমি স্বপ্নে দেখেছি, জমিন তরু-তাজা সবুজ হয়েছে। এরপর আবার শুকিয়ে গেছে। আবার সবুজ-তরুতাজা হয়েছে, আবার শুকিয়ে গেছে। ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, এর ব্যাখা হল তুমি প্রথমে মুমিন থাকবে পরে কাফের হয়ে যাবে। আমার মুমিন হবে, এরপর আবার কাফের হয়ে যাবে আর কাফের অবস্থায় তুমি মৃত্যু বরণ করবে।এ কথা শুনে লোকটি বলল, আসলে আমি এ রকম কোনো স্বপ্ন দেখিনি। ওমর বাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, যে বিষয়ে তুমি প্রশ্ন করেছিলে তার সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে।তোমার বিষয়ে ফয়সালা হয়ে গেছে যেমন ফয়সালা হয়েছিল, ইউসূফ আলাইহিস সালামের সাথীর ব্যাপারে।(মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক, বর্ণনার সনদ সহীহ) তাই কখনো কাল্পনিক বা মিথ্যা স্বপ্ন বলা ও তার ব্যাখ্যা জানতে চাওয়া ঠিক নয়।


    স্বপ্নে সাপ দেখার কারণ কি

    সপ্নে সাপ দেখার অনেক কারন থাকতে পারে। সপ্নে সাপ দেখার ভিন্ন ভিন্ন ব্যাক্ষা রয়েছে। সাপটি কিভাবে দেখেছে কোথায় দেখেছেন কিভাবে দেখেছেন সব মিলিয়ে পরে ব্যাক্ষাতে যেতে হবে। নিচে আমরা সাপ দেখার ভিবিন্ন রকম ভঙ্গি উল্লেখ তার ব্যাক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করতেছি।

    স্বপ্নে সাপ দেখার কারণ কি ইসলামিক ব্যাখ্যা

    স্বপ্নের ব্যাক্ষা ভিবিন্ন ধর্মে ভিবিন্ন রকম হয়ে থাকে। তবে ইসলাম ধর্মে সপ্নের ব্যাক্ষা সবার থেকে আলাদা যা প্রাচীন কাল থেকে ইসলামিক পন্ডিতগন দিয়ে আসছে। অনেকে আছেন যারা স্বপ্নে সাপ দেখার কারন কি ইসলামিক ব্যাখ্যা জানতে চান। নিচে আমরা স্বপ্নে সাপ দেখার কারন কি ইসলামিক ব্যাখ্যা শেয়ার করলাম।

    সাপের স্বপ্নের ব্যাখ্যা


    স্বপ্নে সাপে কাটলে কি হয় 

    কিন্তু যদি আপনি এমন স্বপ্ন দেখেন যেখানে সাপ আপনাকে ছোবল মেরেছে বা কামড়ে দিয়েছে, তাহলে তার পিছনে একটি ভয়ঙ্কর ইঙ্গিত লুকিয়ে থাকে। এই ইঙ্গিত হল যে আপনি জীবনে কোন কিছু করতে চাইলে তা আপনার জন্য সুখকর না হতে পারে।

    স্বপ্নে সাপে কাটলে কি হয় ইসলাম কি বলে

    আল্লামা সীরীন রহঃ এর ব্যাখ্যা অনুপাতে এর মানে হল, শত্রু দ্বারা ক্ষতি হতে পারে।{তাবীরুর রুয়া লিইবনে সীরীন}

    তাই সতর্ক থাকা উচিত। আল্লাহ তাআলার কাছে সাহায্য কামনা করা উচিত। বাকি স্বপ্নের ব্যাখ্যা সব সময় সত্য হয় এমন নয়। তাই অযথা টেনশন করার প্রয়োজন নেই। বেশি বেশি করে আল্লাহর নুসরত এবং দয়া চান। ইনশাআল্লাহ, আল্লাহ তাআলা বিপদ আপদ থেকে হিফাযত করবেন।

    স্বপ্নে ঘরে সাপ দেখলে কি হয়

    উত্তরঃ যদি কখনো আপনি স্বপ্ন দেখেন যে, আপনার বিছানার উপর ঘুরে বেড়াচ্ছে সাপ। তাহলে জেনে রাখবেন তা হলো যৌন শক্তির প্রতীক। ফ্রয়েডের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, যদি আপনি কখনো স্বপ্নে সাপ দেখেন, তাহলে মনে করা যায়, তার সঙ্গে যৌনতার কোন রকম সম্পর্ক আছে। কোন মহিলার কিংবা কোনো পুরুষের আপনার জীবনে খুব তাড়াতাড়ি আগমন হবে।

    গর্ভাবস্থায় স্বপ্নে সাপ দেখলে কি হয়

    ইবনে সিরিন রাহ বলেন,
    فإن رأى حية تمشي خلفه فإنّ عدوه يريد أن يمكر به فإن مشت بين يديه أو دارت حوله فإنّهم أعداء يخالطونه
    যদি কেউ স্বপ্নে সাপ দেখে যে,তার পিছু পিছু ছুটছে,তাহলে এর অর্থ হল,ঐ ব্যক্তির শত্রুরা তার সাথে শত্রুতা করা জন্য চেষ্টা করতেছে।আর যদি কেউ দেখে যে তার হাতের সামনে বা তার আশপাশে সাপ ঘুর ঘুর করতেছে,তাহলে এর অর্থ হলো,ঐ ব্যক্তির শুত্রুরা তার পাশেই রয়েছে ঘনিষ্টজনদের মধ্যে। (তাফসিরুল আহলাম-ইবনে সিরান-২/৪)

    স্বপ্নে সাদা সাপ দেখার অর্থ

    স্বপ্নে সাদা বা সোনালী সাপের স্বপ্ন দেখার অর্থ শীঘ্র আপনার ভাগ্যোদয় হতে চলেছে। আবার বার বার সাপের স্বপ্ন পিতৃ দোষের দিকে ইশারা করে। অন্য দিকে সাপ নিজের গর্তে যাচ্ছে এমন স্বপ্ন দেখলে বুঝতে হবে যে, আকস্মিক অর্থ লাভ করতে পারেন আপনি। আবার ফনা তোলা সাপের স্বপ্ন সম্পত্তি লাভের ইঙ্গিত দেয়।

    স্বপ্নে সাপ মারলে কি হয়

    সপ্নে সাপ মারতে দেখলে বুঝবেন বাস্তব জীবনে শত্রুর উপর সে বিজয়ী হবে।

    স্বপ্নে কাউকে সাপ মারতে দেখলে কি হয়

    সপ্নে কাউকে সাপ মারতে দেখলে বুঝবেন বাস্তব জীবনে আপনার শত্রুকে অন্য কেউ পরাজিত করবে।

    স্বপ্নে কালো সাপ দেখলে কি হয়

    কালো সাপ স্বপ্ন দেখার অথ হল বেশী ক্ষতিকারন দুশমন। আর কোন কোন ব্যাখ্যাকারি কালো সাপকে শক্তিশালি চৌকিদার বননা করেছেন যে চৌকিদার আপনাকে হেফাজত করবেন।

    স্বপ্নে বড় সাপ দেখলে কি হয়

    সপ্নে বড় সাপ মানে আপনার শত্রু শক্তিশালী এটা ও বুঝায়।আবার একটি বড় সাপ স্বপ্নে দেখা একটি মহান ঘটনার একটি চিহ্ন।এর কোনোটির মানেই এই ইভেন্টটি খারাপ হবে, কিন্তু এর মানে এই নয় যে এটি একটি ভালো ইভেন্টও। আপনি শুধু জানেন যে এটি একটি দুর্দান্ত অনুষ্ঠান হবে।

    স্বপ্নে পানিতে সাপ দেখলে কি হয়

    উত্তরঃ-স্বপ্নে যদি জলে সাপ দেখা যায়, জ্যোতিষশাস্ত্র মতে এমন স্বপ্নের অর্থ হল পূর্ণ কালসর্প যোগের ইঙ্গিত। আবার স্বপ্নে কখনও যদি দেখা যায় সাপ ক্ষতি করছে, তা হলে বুঝতে হবে জীবন থেকে কোনও জটিল সমস্যার সমাধান হতে চলেছে

    স্বপ্নে অজগর সাপ দেখলে কি হয়

    অজগর সাপ মানে একটি বড় সাপ আর বড় সাপ মানে আপনার শত্রু অনেক শক্তিশালী। 

    স্বপ্নে সাপ উড়তে দেখলে কি হয়

    আর কেহ যদি উড়ন্ত সাপ স্বপ্নে দেখে তার তাবির হল সে ব্যক্তি সফরে বের হবে। আর যদি তার ঘরের কেহ সফরে বের হওয়ার এরাদা করে তাহলে সে খুব তাড়াতাড়ি সফরে বের হবে।l

    Tag:স্বপ্নে সাপ দেখার কারণ কি,স্বপ্নে সাপ দেখার কারণ কি ইসলামিক ব্যাখ্যা,সাপের স্বপ্নের ব্যাখ্যা,স্বপ্নে সাপে কাটলে কি হয়,স্বপ্নে ঘরে সাপ দেখলে কি হয়,গর্ভাবস্থায় স্বপ্নে সাপ দেখলে কি হয়,স্বপ্নে সাদা সাপ দেখার অর্থ,স্বপ্নে সাপ মারলে কি হয়,স্বপ্নে কাউকে সাপ মারতে দেখলে কি হয়,স্বপ্নে কালো সাপ দেখলে কি হয়,স্বপ্নে বড় সাপ দেখলে কি হয়,স্বপ্নে পানিতে সাপ দেখলে কি হয়,স্বপ্নে অজগর সাপ দেখলে কি হয়

                                   
    Previous Post Next Post
    আমাদের ফেসবুক পেইজে যুক্ত হতে ক্লিক করুন  

     

    আপনার নামের অর্থ জানতে ক্লিক করুন