জেনে নিন-বিয়ে কি ফরজ না সুন্নত? অনলাইনে বিয়ে করা কি জায়েজ - মোবাইলে /ইন্টারনেটে বিয়ে জায়েজ

জেনে নিন-বিয়ে কি ফরজ না সুন্নত? অনলাইনে বিয়ে করা কি জায়েজ - মোবাইলে /ইন্টারনেটে বিয়ে জায়েজ


আসছালামু আলাইকুম প্রিয় দ্বীনি ভাই ও বোনেরা তোমরা ভিবিন্ন সময় নানান প্রশ্ন আমাদেরকে করে থাকো তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ২ টি প্রশ্নের উত্তর আজকে দেওয়ার চেষ্টা করি। সেই প্রশ্ন গুলো হলো বিয়ে কি ফরজ না সুন্নত? অনলাইনে বিয়ে করা কি জায়েজ - মোবাইলে /ইন্টারনেটে বিয়ে জায়েজ আসুন জেনে নেই ইসলাম কি বলে।

       
       

    বিয়ে করা কি ফরজ না সুন্নত

    উত্তরঃ বিয়ে করা স্বাভাবিক ভাবে সুন্নত যেহেতু রাসুল (সাঃ) বিয়ে করেছেন। তাই আমাদের সবার বিয়ে করা সুন্নত।  আর বিয়ে করা ফরজ তখন যখন আপনার চাহিদা থাকে, আপনার যদি আশঙ্কা থাকে আপনার নৈতিক যে পবিত্রতা রয়েছে সেটি রক্ষা হবে না, যেকোনো ধরনের অপরাধ, অন্যায়, ব্যাভিচারের মধ্যে লিপ্ত হতে পারেন,যিনায় লিপ্ত হতে পারেন তাহলে আপনার জন্য বিয়ে করা ফরজ। আবার যার মধ্যে স্ত্রীর নানাবিধ হক বা অধিকার দেওয়ার মোটেও যোগ্যতা নেই, তার পক্ষে বিবাহ করা নাজায়েজ।

    তাই এখানে বিয়ের বিষয়টা নির্ভর করতেছে ব্যক্তির উপর। ব্যক্তি অনুযায়ী সুন্নত হতে পারে আবার ফরজ হতে পারে। আসা করি উত্তরটা পেয়েছেন।

    অনলাইনে বিয়ে করা কি জায়েজ

    এখন আমরা ২য় প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করবো অনলাইনে বিয়ে করা কি জায়েজ আসুন জেনে নেই।
    উত্তরঃ বিবাহ সহীহ হওয়ার জন্য শর্ত হল দু’জন প্রাপ্তবয়স্ক বিবেকবান মুসলিম সাক্ষীর সামনে পাত্র/পাত্রী প্রস্তাব দিবে আর অপরপক্ষ পাত্র/পাত্রী তা কবুল করবে। আর সাক্ষীগণ উভয়ের কথা সুষ্পষ্টভাবে শুনবে। হাদিস শরিফে এসেছে,

    عَنْ عَائِشَةَ ، أَنّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَالَ لا نِكَاحَ إِلا بِوَلِيٍّ وَشَاهِدَيْ عَدْلٍ ، وَمَا كَانَ مِنْ نِكَاحٍ عَلَى غَيْرِ ذَلِكَ ، فَهُوَ بَاطِلٌ

    আয়শা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্   বলেছেন, অভিবাক ও দু’জন ন্যায়পরায়ণ সাক্ষীর উপস্থিতি ব্যতিত বিয়ে শুদ্ধ হয় না। যে বিবাহ অভিবাক ও সাক্ষীর উপস্থিতি ব্যতিত হবে তা বাতিল। (সহিহ ইবন হিব্বান ৪০৭৫)

    আর শরয়ী এ শর্তাবলী পরিপূর্ণভাবে (হ্যাকিং, ক্লোনিং, ভয়েস চেঞ্জিং, এডিটিং ও অন্যান্য সমস্যার আশঙ্কা থাকার কারণে) টেলিফোনে পাওয়া সম্ভব নয়। তাই মোবাইলে বিবাহ করা জায়েয নয়। (ফাতওয়ায় উসমানী-২/৩০৪,৩০৫)

    আল-লাজনাতুদ্দায়িমাহ লিল-ইফতা, সৌদি আরব-এর ফতোয়াও এটাই যে, টেলিফোন বা মোবাইলে বিবাহ বৈধ হবে না। যেমন, সেখানে বলা হয়েছে,

    نظرا إلى عناية الشريعة الإسلامية بحفظ الفروج والأعراض ، والاحتياط لذلك أكثر من الاحتياط لغيرها من عقود المعاملات – رأت اللجنة أنه ينبغي ألا يعتمد في عقود النكاح في الإيجاب والقبول والتوكيل على المحادثات التليفونية ؛ تحقيقا لمقاصد الشريعة ، ومزيد عناية في حفظ الفروج والأعراض حتى لا يعبث أهل الأهواء ومن تحدثهم أنفسهم بالغش والخداع

    নারীর সম্ভ্রম ও ইজ্জতের হেফাজত, বিবাহের গুরুত্ব, ধোঁকা ও প্রতারণা থেকে নিরাপত্তা এবং ইসলামি শরিয়তের মাকাসিদের প্রতি লক্ষ্য করে ফাতওয়া বোর্ড এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে, বিবাহের ইজাব-কবুল ও প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে ফোনের কথোপকথনের ওপর নির্ভর করা উচিত হবে না। (ফাতওয়া লাজনাতিদ্দায়িমাহ ১৮/৯০)

    তবে ওয়াকীল বা প্রতিনিধি বানানোর কাজটি ফোন বা মোবাইলের মাধ্যমেও হতে পারে। আর এই পদ্ধতিটি প্রয়োগ করলে টেলিফোন বা মোবাইলে বিবাহ বৈধ হবে।  এটার পদ্ধতি হল, পাত্র বা পাত্রী তৃতীয় কোন একজন ব্যক্তিকে ওয়াকীল বা প্রতিনিধি  বানাবে। ওয়াকীল বিবাহের যেকোনো এক পক্ষের সাথে থাকবে।  তারপর সে ওয়াকীল দু’জন সাক্ষীর সামনে বিবাহ করিয়ে দিবে। তাহলে বিবাহ শুদ্ধ হয়ে যাবে। (আল মাবসুত ৫/১৬-১৭, ফাতওয়ায় উসমানী-২/৩০৬) এছাড়া সরাসরি মোবাইলে বা টেলিফোনে প্রস্তাব ও কবুল করার দ্বারা বিবাহ সহীহ হবে না।
    والله اعلم بالصواب

    সুত্রঃ- কোরআনের জোতি 


     
    Tag:বিয়ে কি ফরজ না সুন্নত,অনলাইনে বিয়ে করা কি জায়েজ, মোবাইলে /ইন্টারনেটে বিয়ে জায়েজ

                                   
    Previous Post Next Post
    আমাদের ফেসবুক পেইজে যুক্ত হতে ক্লিক করুন