সৌদি আরবে নারীদের নির্যাতন | প্রবাসে নারী নির্যাতন | সৌদি নারী নির্যাতন ও নারীদের অসহায়ত্ব


আসসালামুআলাইকুম সবাইকে Educationblog.Com এ স্বাগতম। 

আশা করি আল্লাহুর অশেষ রহমতে আপনারা সবাই ভালো আছেন। আলহামদুলিল্লাহ আমরাও আল্লাহর অশেষ রহমতে ভালো আছি। 

বন্ধুরা আজকে আপনাদের মাঝে Educationblog.Com নিয়ে আসলো সৌদি আরবে নারীদের নির্যাতন,  প্রবাসে নারী নির্যাতন , সৌদি নারী নির্যাতন ও নারীদের অসহায়ত্ব, সৌদি আরবে নারীদের বর্তমান অবস্থা এই সম্পর্কে পোস্টে পাবেন সবকিছু। 


    সৌদি আরবে নারীদের নির্যাতন  

    অভিবাসন নিয়ে কাজ করে এমন একটি বেসরকারি সংস্থা বলেছে, সেখানে ধর্ষণসহ নানা ধরনের নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে এবছর ৯০০ জনের মতো বাংলাদেশী নারী গৃহকর্মি দেশে ফেরত এসেছে।

    সংস্থাটি আরও বলেছে, সাম্প্রতিক সময়ে নারী শ্রমিকদের মৃতদেহ দেশে আসার সংখ্যাও বেড়েছে। এই বিষয়টিকেই বেশি উদ্বেগজনক বলে বলা হচ্ছে।

    ফেরত আসা নারী শ্রমিকরা ধর্ষণসহ নানাভাবে নির্যাতিত হওয়ার অভিযোগ করছেন।

    সরকারি কর্মকর্তারাও বলছেন, এসব অভিযোগের কিছুটা সত্যতা আছে। কিন্তু এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকার কতটা কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে-এই প্রশ্ন অনেকে তুলছেন।


    এ বছর সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশী নারী গৃহকর্মির ৪৮ জনের মৃতদেহ দেশে আনা হয়। তাদের মধ্যে ২০ জনই সৌদি আরবে নির্যাতনের অভিযোগ তুলে আত্মহত্যা করেছেন।

    বেসরকারি সংস্থা ব্রাক এর অভিভাসন কর্মসূচির কাছ থেকে এই পরিসংখ্যান পাওয়া গেছে।

    সংস্থাটি বলেছে, সৌদি আরবে গৃহকর্মির কাজ করতে গিয়ে নির্যাতনের কারণে বাংলাদেশী নারীদের মৃত্যুর ঘটনাগুলোর কোন বিচার হচ্ছে না।

    খুলনার খালিসপুর এলাকা থেকে সালমা বেগম বলছিলেন, সৌদি আরবে নির্যতনের কারণে তার ছোট বোনের মৃত্যু হয়েছে। কোন বিচার তারা চাইতেই পারেননি। মৃতদেহও পেয়েছেন ঘটনার অনেক পরে।

    "নির্যাতনে কারণে আমার ছোট বোন সৌদিতে একটা পরিবারের কাছ থেকে পালিয়ে থানায় গিয়েছিল। কিন্তু পরিবারটি থানা থেকে ফেরত নিয়ে আবার নির্যাতন চালিয়েছিল।তখন তার মৃত্যু হয় বলে আমরা জানতে পেরেছি।

    সৌদিতে যাওয়ার পর এক পরিবারে থাকলাম ৭ মাস। সেখানে প্রতিদিন মারধোর এবং নির্যাতন চলে। আর বেতন চাইলে নির্যাতন আরও বেড়ে যায়। এক পর্যায়ে ঐ পরিবার আমাকে মক্তবের মাধ্যমে আরেকটা পরিবারের কাছে বিক্রি করে দেয়। সেখান থেকে পালানোর জন্য ঐ বাড়ির দুই তলার জানালা দিয়া বাইরে লাফ দিয়েছিলাম। তখন রাস্তার লোক আমাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়।"

    আমি হাসপাতালে দুই মাস ছিলাম। সেখান থেকে বাংলাদেশ দূতাবাসের সেভ হোমে চারমাস থাকার পর দেশে ফিরছি।

    প্রবাসে নারী নির্যাতন  

    সৌদি আরবে গৃহকর্মীর কাজ করতে গিয়ে  নির্যাতনের শিকার হয়ে ফিরে আসা সুমি আক্তার এবং হোসনা আক্তারকে নিয়ে এখন বাংলাদেশে চলছে তুমুল আলোচনা৷ তাঁরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উদ্ধারের আকুতি জানিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হন৷ দূতাবাস তাঁদের উদ্ধার করে দেশে পাঠিয়েছে৷ কিন্তু তাঁদের কেউই ক্ষতিপুরণের টাকা নিয়ে আসতে পারেননি৷ তাঁদের যে নির্যাতন করা হয়েছে সে বিষয়ে ওই দেশে মামলাও করেননি৷ 

    মামলা না করার কারণ জানতে চাইলে সুমি কিছু বলতে রাজি হননি৷ তবে ফিরে আসা আরেক নারী বলেন, ‘‘সেখানে রাস্তায় বের হলেই তো পুলিশ ধরে আটক করে৷ মামলা করব কিভাবে? তাছাড়া দূতাবাসও সহায়তা করে না৷ মামলা করতে গেলে বিপদ আরো বাড়ে৷ চুক্তিতে থাকা ক্ষতিপুরণের টাকাই পাওয়া যায় না, আবার মামলা!

    সুমির মতো আরো অনেক নারী নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে ফিরে এসেছেন৷ তাদেরই একজন কোহিনুর বেগম (ছদ্ম নাম)৷ সৌদি আরবের রিয়াদে এক বাড়িতে কাজে নিয়ে গেলও সাড়ে চার মাসের বেশি সেখানে টিকতে পারেননি৷ পরে বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়ে দূতাবাসের মাধ্যমে দেশে ফেরেন৷ তিনিও কোনো ক্ষতিপূরণ পাননি৷ কোহিনূরের ননদও সৌদি আরবে গিয়ে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশে ফিরতে বাধ্য হন৷

    কোহিনূর জানান, ‘‘ওই বাড়িতে আমাকে শারীরিক নির্যাতন করা হতো৷ গরম খুন্তির ছ্যাঁকা দেয়া হতো৷ ওখানে অনেক বাংলাদেশি নারীই যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন৷’’

    বুধবারও ৩৫ জন নারী গৃহকর্মী নির্যাতনের শিকার হয়ে সৌদি আরব থেকে ফিরে এসেছেন৷ সরকারি তথ্য  বলছে, গত চার বছরে বাংলাদেশ থেকে তিন লাখ নারী শ্রমিক সৌদি আরবে গেছেন৷ তাদের মধ্যে ১৩ হাজার দেশে ফিরে এসেছেন৷ ব্র্যাকের অভিবাসন বিভাগের তথ্য মতে, চলতি বছরের নয় মাসে সৌদি আরব থেকে ৪৮ নারীর মরদেহ বাংলাদেশে এসেছে৷ আর গত চার বছরে সৌদি থেকে ১৫২ নারীর মরদেহ দেশে ফিরেছে৷ তাদের মধ্যে আত্মহত্যা করেছেন ৩১ জন নারী৷

    সৌদি আরবে নারীদের বর্তমান অবস্থা


    সৌদি নারী নির্যাতন ও নারীদের অসহায়ত্ব



    Tag: সৌদি আরবে নারীদের নির্যাতন,  প্রবাসে নারী নির্যাতন , সৌদি নারী নির্যাতন ও নারীদের অসহায়ত্ব, সৌদি আরবে নারীদের বর্তমান অবস্থা

    Previous Post Next Post