মানব জীবন ও জ্ঞান অর্জন:প্রসঙ্গ ইসলাম | আলিম এসাইনমেন্ট ২০২১ উত্তর /সমাধান হাদিস শরিফ (এসাইনমেন্ট ২) | ২০২১ সালের আলিম হাদিস শরিফ (এসাইনমেন্ট ২) সমাধান

6

    আলিম এসাইনমেন্ট ২০২১ উত্তর /সমাধান হাদিস শরিফ (এসাইনমেন্ট ২)


    মানব জীবন ও জ্ঞান অর্জন:প্রসঙ্গ ইসলাম


    শিরােনামঃ ইলম পর্ব  

    হাদীসের ব্যাখ্যামূলক অনুবাদঃ 

    হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর ( রা ) হইতে বর্ণিত । তিনি বলেন , রাসূল ( সা ) ইরশাদ করেছেন , ( শেষ জামানায় ) আল্লাহ তায়ালা তার বান্দাদের অন্তর হতে ইলম টেনে বের করে উঠিয়ে নেবেন না ; বরং আলেমদের উঠিয়ে নেওয়ার মাধ্যমেই ইলম উঠিয়ে নেবেন । এমকি তিনি দুনিয়ার আর কোনাে আলেমকে অবশিষ্ট রাখবেন না ; তখন লোেক জন মূখ লােকদেরকে নেতা হিসেবে গ্রহণ করবে । অতঃপর তাদের নিকট বিভিন্ন মাসআলা জিজ্ঞাসা করা হলে তারা ইলম ব্যতীতই  প্রদান করবে । ফলে তারা নিজেরাও পথভ্রষ্ট হবে এবং অন্যদেরকে ও পথভ্রষ্ট করবে । ( বুখারী ও মুসলীম )। 


    রাবির পরিচয় ১. 

    নাম ও পরিচিতি আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস | কুনিয়াত আবু মুহাম্মদ , আবু আব্দুর রহমান ও আবু নুসাইর | তার পিতা প্রখ্যাত সেনানায়ক ও কূটনীতিবিদ অমর ইবনুল আস , তার মাতার নাম রিতা বিনতু মুনাইবিহ । 

    ২. জন্ম তিনি ৫৯৫ খ্রি . মক্কা নগরীতে কোরাইশ বংশে জন্ম গ্রহন করেন । 

     ৩. ইসলাম গ্রহণঃ হিজরী ৫ ম সনে খালিদ ইবনে ওয়ালিদ ও ওসাম ইবনে ত্বলহা ( রা ) এর সাথে মদিনাতুল মনোয়ারা এসে ইসলাম গ্রহণ করেন | 

    ৪. যুদ্ধে অংশগ্রহণ তিনি মুয়াবিয়া ইবনে আবু সুফিয়ান এর সাথে সিফফিনের যুদ্ধে অংশগ্রহন করেন । 

    ৫. হাদীস শাস্ত্রে তাঁর অবদান রাসূল ( সা ) এর মুখ থেকে যা কিছু বের হতাে , তিনি সব কিছু লিখে রাখতেন | তিনি ৭০০ টি হাদিস বর্ণনা করেন । 

    ৬. ইন্তেকালঃ সর্বাধিক প্রসিদ্ধ মতে তিনি ৬৮৪ খ্রিষ্টাব্দ , হিজরি ৬৫ সনে ফুসতাত ’ ( মিসর ) নগরে ৭২ বছর বয়সে ইনতিকাল করেন ।

    দিব্য বা শারিরীক সম্পকিত তথ্যকে বোঝায়, তবে ইসলামী দৃষ্টিতে ' ইলম ' একটি সর্বাত্মক শব্দ যা জ্ঞান , অনুধাবন ও উপলব্ধি করাকে নির্দেশ করে থাকে । 

    ইলম এর প্রকারঃ 

    ইলম প্রধানত দুই প্রকার । যথা : 

    ১. দুনিয়াবী ইলম । দুনিয়াবী ইলম হলাে যেমন বাংলা , ইংরেজী , অংক , রসায়ন , পদার্থ ইত্যাদি । এসব বিষয় জ্ঞান অর্জন করা জায়েয । 

    ২. দ্বীনি ইলম । আর দ্বীনি ইলম হলাে যেমন -কোরআন , হাদীস , ফিকহ ইত্যাদি বিষয় জ্ঞান অর্জন করা ওয়াজিব । 

    ( গ ) জ্ঞানার্জনের গুরুত্ব ও ফজিলতঃ 

    মহান আল্লাহ তাআলা মানবজাতিকে জ্ঞান অর্জনের যােগ্যতা দিয়ে সৃষ্টি করেছেন । এর মাধ্যমে মানুষ যেমন তার পার্থিব প্রয়ােজন পূরণের উত্তম পন্থা আবিষ্কার করতে পারে , তেমনি আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি - অসন্তুষ্টি , ন্যায় - অন্যায়বােধ এবং আখিরাতের সফলতা - ব্যর্থতার জ্ঞান অর্জন করতে পারে । মানুষ ছাড়া অন্যান্য প্রাণীর এ মােগ্যতা নেই । শিক্ষার মাধ্যমে অজানাকে জানার এবং জানা বিষয়কে কাজে লাগিয়ে অজানার সন্ধান করার যােগ্যতা একমাত্র মানুষেরই আছে । ইসলামে শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম । রাসুল ( সা . ) - এর ওপর হেরা গুহায় সর্বপ্রথম ওহি নাজিল হয় , ' পড়াে , তােমার পালনকর্তার নামে , যিনি সৃষ্টি করেছেন ' ( সুরা আলাক : ১ )। 

    হালাল পন্থায় জীবিকা উপার্জনঃ 
    মাতা - পিতা ও আত্মীয়স্বজনের খিদমত , পরিবার - পরিজনের হক আদায় , সমাজসেবা ইত্যাদি উদ্দেশ্যে জ্ঞান অর্জন করলে এতেও সওয়াব রয়েছে । হাদিস শরিফে এসেছে- ' হালাল রিজিক সন্ধান সব মুসলমানের ওপর ফরজ । ' ( আল মু'জামুল আওসাত : ৮৬১০ )

    ধর্মীয় শিক্ষার প্রয়ােজনীয়তা : 
    ধর্মীয় শিক্ষার প্রতি গুরুত্বারােপ করে অসংখ্য আয়াত ও হাদিস বর্ণিত হয়েছে । মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন , ' তােমাদের মধ্যে যারা ইমান এনেছে এবং যাদের ইলম দান করা হয়েছে , আল্লাহ তাদের মর্যাদা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবেন । ' ( সুরা মুজাদালা : ১১ )। 

    দ্বীনি ইলমঃ 

    দ্বীনি ইলমের ওই ফজিলত লাভের জন , শর্ত হলাে ' ইখলাস ' তথা একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ইলম অর্জন করা । পার্থিব কোনাে উদ্দেশ্যে দ্বীনি ইলম অর্জন করা হলে তার পরিণাম হবে ভয়াবহ । হাদিস শরিফে এসেছে , ' যে ব্যক্তি দুনিয়াবি স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে এমন ইলম শিখল , যা কেবল আল্লাহর জন্যই শেখা হয় , সে কিয়ামতের দিন জান্নাতের সুঘ্রাণও পাবে না । ' ( আবু দাউদ : ৩৬৬৪ )

    সারকথাঃ
    ইসলামে দ্বীনি শিক্ষার যেমন গুরুত্ব রয়েছে , তেমনি রয়েছে জাগতিক শিক্ষার গুরুত্ব । পার্থিব প্রয়ােজন পূরণ ও সামাজিক ব্যবস্থাপনা ও ভারসাম্য ঠিক রাখার জন্য জাগতিক শিক্ষা অতীব জরুরি । পক্ষান্তরে জীবনের সব কাজ ইসলামের বিধান মােতাবেক করার জন্য দ্বীনি শিক্ষার বিকল্প নেই ।


    কুরআন - হাদীসের আলােকে ফতােয়াঃ 

    কুরআনে ফতােয়া শব্দটি বিভিন্নভাবে ব্যবহৃত হয়েছে। যেমন পরামর্শ ব্যাপারে 
    কুরআনে বলা হয়েছে , “ বিলকীস বলল, হে পরিষদবর্গ , আমাকে আমার কাজে পরামর্শ দাও । তােমাদের উপস্থিতি ব্যতিরেকে আমি কোন কাজে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি না ” । নমলঃ ৩২ ] 

    ব্যাখ্যা প্রদানে বলা হয়েছে , 
    আপনি আমাদেরকে এ স্বপ্ন সম্পর্কে পথনির্দেশ প্রদান করুনঃ যাতে আমি তাদের কাছে ফিরে গিয়ে তাদের অবগত করাতে পারি । ” [ ইউসুফঃ ৪৬ ] 

    শরীয়াতের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে , তােমার নিকট তারা জিজ্ঞেস করে নতুন চাঁদের বিষয়ে । বলে দাও যে এটি মানুষের জন্য সময় নির্ধারণ এবং হজ্বের সময় ঠিক করার মাধ্যম । [ বাকারাঃ ১৮৯ ] 

    তারপর কুরআনে বলা হয়েছে , “ তারা আপনাকে সম্পর্কব্ধি করেছে ? ” 

    আল্লাহ আরও কালালা সম্পর্ক জিজ্ঞাসা করেছে ? ” 
    আল্লাহ আর  বলেন , “ তারা আপনার কাছে নারীদের বিবাহের অনুমতি চায় । বলে দিনঃ আল্লাহ্ তােমাদেরকে তাদের সম্পর্কে অনুমতি দেন ” [ নিসাঃ ১২৭ ] “ 

    মানুষ আপনার নিকট ফতােয়া জানতে চায় অতএব , আপনি বলে দিন , আল্লাহ্ তােমাদিগকে কালালাহ এর মীরাস সংক্রান্ত সুস্পষ্ট নির্দেশ বাতলে দিচ্ছেন , ” [ নিসাঃ ১৭৬ ] 
    বহু হাদীসে ফতােয়ার ব্যবহার হয়েছে । 
    সহীহ মুসলিমে ৪ বার , আহমদ ১২ বার , নাসাই এ ২ বার , আবু দাউদ এ ৩ বার , ইবনে মাজাহতে আছে দুইবার , দারিমীতে রয়েছে ৭ বার।এভাবে করে বহুবার ফতােয়া শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে । 

    সুনানে দারিমীর বলা হয়েছে , “ যে ফতােয়া প্রদানে দুঃসাহস দেখান সে যন জাহান্নামে প্রবেশের দুঃসাহস দেখাচ্ছেন।  

    রাসূল ( সাঃ ) আরও বলেন , “ যে ব্যক্তি কোন বিষয় জ্ঞান না থাকা সত্ত্বেও সে বিষয়ের সমাধান দিল তাহলে তার নাগ তার উপর বর্তাবো ”


    ২০২১ সালের আলিম হাদিস শরিফ (এসাইনমেন্ট ২) সমাধান



    Tag: আলিম এসাইনমেন্ট ২০২১ উত্তর /সমাধান হাদিস শরিফ (এসাইনমেন্ট ২),  ২০২১ সালের আলিম হাদিস শরিফ (এসাইনমেন্ট ২) সমাধান, মানব জীবন ও জ্ঞান অর্জন:প্রসঙ্গ ইসলাম
    Previous Post Next Post