অধ্যবসায় রচনা - অধ্যবসায় | Ordhyboshai Rochona

অধ্যবসায় রচনা - অধ্যবসায়, Ordhyboshai Rochona, রচনা - অধ্যবসায়, অধয়বসায় কি, অধ্যবসায় অনুচ্ছেদ রচনা, অধ্যবসায় রচনার উক্তি, অধ্যবসায় ও প্রতিভা

    অধ্যবসায় রচনা

    ভূমিকা : মানবজীবন আকাঙ্ক্ষায় পরিপূর্ণ । মানবহৃদয় আকাঙ্ক্ষারই বীজতলা । এখানে স্বপ্নের অঙ্কুরােদগম ঘটে । স্বপ্নপূরণে সফল হতে চায় সকলেই । তবে স্বপ্নপূরণ কারাে পক্ষে সম্ভব হয়ে ওঠে আবার কারাে কাছে তা থেকে যায় অধরা । যারা সফল হয় তারা সকলেই অধ্যবসায়ী । সফলতার পেছনে একাগ্রচিত্তে নিৱন্তর ছুটে চলে । তারা । সামনে বাধা এলেও পিছপা না হয়ে ধৈর্য সহকারে গন্তব্যে পৌছানাের বিরামহীন প্রচেষ্টাই অধ্যবসায় । 

    অধ্যবসায়ের স্বরূপ : আজকের পৃথিবী আধুনিক সভ্যতার ধারক । পৃথিবীর মানুষ একদিনে এ অবস্থায় উন্নীত হয়নি । গুহাবাসী মানবজাতি হাজার বছরের সাধনা দিয়ে সাজিয়েছে তার প্রিয় আবাস এ পৃথিবীকে । শত - সহস বিরুদ্ধ শক্তিকে পরাজিত করে মানুষ আজ নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ হিসেবে । নিরলস সাধনা আছে বলেই মানুষ ছুটে চলেছে গ্রহ থেকে গ্রহান্তরে । নাসা হাউজে বসে রিমােট কন্ট্রোলে মহাশূন্যে নভােয়ান পাঠাচ্ছে মানুষ । নভােযান প্রেরিত নানা রকম ছবি কৌতূহল মেটাচ্ছে মানুষের । এ সব কিছুর পেছনে আছে বহু বছরের পরিশ্রম । কত কত নভােযান মহাশূন্যে বিলীন হয়েছে । কত আকাশচারী মহাশূন্যের সীমা খুঁজতে গিয়ে । নিখোঁজ হয়েছেন । কিন্তু মানুষ পরাজয় মানতে রাজি নয় । মানুষ দূর চাদের ধুলােয় এঁকে দিয়েছে তার পদচিহ্ন । মঙ্গলের মাটি খুঁড়ে নভােযান ফিনিক্স পৃথিবীবাসীর জন্যে বয়ে এনেছে নতুন বার্তা । নিয়ত বৈরী পরিবেশকে ডিঙিয়ে জয়ী হবার পুনঃপুন এ প্রচেষ্টাই অধ্যবসায় । পৃথিবী আজ এত সাজে সজ্জিত এ অধ্যবসায়েরই ফলে । অধ্যবসায়ের স্বরূপকে আমরা ড . মুহম্মদ শহীদুল্লাহর কাব্যভাষায় পাই এভাবেই ‘ কোনাে কাজ ধরে যদি উত্তম সে জন হউক সহস্র বিঘ্ন ছাড়ে না কখুন । 

    অধ্যবসায়ের প্রয়ােজনীয়তা : একটি সফল মানবজীবন অধ্যবসায়েরই পরিণতি । যুগে যুগে যে সব ব্যক্তি সুখ্যাতির উচ্চ শিখরে আরােহণ করেছেন তাদের সফলতার পেছনে অধ্যবসায় বড় ভূমিকা পালন করেছে । বড় বড় শিল্পী , সাহিত্যিক , বিজ্ঞানী , সেনানায়ক , ধর্মপ্রবর্তক সকলেই ছিলেন অধ্যবসায়ী । তারা বারবার ব্যর্থ হয়েও অক্লান্ত পরিশ্রম করে অসীম ধৈর্য সহকারে নিজ নিজ আদর্শের পথে অগ্রসর হয়েছেন— “ কেন পান্থ ক্ষান্ত হও , হেরি দীর্ঘ পথ উদ্যম বিহনে কার পুরে মনােরথ ? ' কবির এ বাণী প্রেরণা দিয়ে যাচ্ছে সফলকামী মানুষের যাত্রাপথে । সকলের উচিত অধ্যবসায়ের প্রয়ােজনকে গ্রহণ করে উদ্যম না হারিয়ে সামনে এগিয়ে চলা । 

    ছাত্রজীবনে অধ্যবসায় : ছাত্রজীবনে অধ্যবসায়ের বিকল্প নেই । মানুষের জীবন নির্মাণের প্রস্তুতিপর্ব ছাত্রজীবন ।। তাই যে ছাত্র যত বেশি অধ্যবসায়ী সে তত সুন্দর জীবনের অধিকারী হয় । যার ছাত্রজীবন আলস্যে পরিপূর্ণ তার । পক্ষে কখনােই নন্দিত জীবনের তৃপ্তি ভােগ করা সম্ভব নয় । ছাত্রজীবনের প্রস্তুতিই জীবনের পরিপূর্ণতাকে । নির্ধারণ করে । তাই গৌরবময় জীবনের অধিকারী হতে হলে ছাত্রজীবনে হতে হবে অধ্যবসায়ী । 

    ব্যক্তি ও জাতীয় জীবনে অধ্যবসায় : ব্যক্তিজীবনে মানুষ সকলেই স্বতন্ত্র । বুদ্ধিমত্তা ও শক্তির দিক থেকে মানুষ অসমান । কিন্তু সকলেই উচ্চ জীবনের মহিমা কামনা করে । সে ক্ষেত্রে যদি অধ্যবসায়ের যথার্থ প্রয়ােগ ঘটানে । যায় তবে শক্তির স্বল্পতা সাফল্যের পথে অন্তরায় হয়ে ওঠে না । তাই আত্মােন্নয়নের জন্য চাই অধ্যবসায় পক্ষান্তরে , জাতীয় জীবনেও গৌরব প্রতিষ্ঠা করতে হলে জাতিকে অধ্যবসায়ী হতে হবে । ব্যক্তির অধ্যবসায় জাতির জন্য বৃহত্তর কল্যাণ বয়ে আনে । নিতান্ত ক্ষুদ্র ব্যক্তি থেকে আবিষ্কারক , বীরপুরুষ , সমাজ সংস্কারক । রাষ্ট্রনায়ক , শিন্তী , সাহিত্যিক হয়ে বিস্ময়কর যে সাফল্য ব্যক্তি লাভ করে তা অন্য অর্থে জাতিরই সাফল্য । তাই । নবিত জাতি হিসেবে নিজ রাষ্ট্র বা জাতিকে বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড় করাতেও অধ্যবসায় জরুরি ।

    প্রতিভা ও অধ্যবসায় : অনেকে প্রতিভার স্তুতি গাইতে যেয়ে প্রতিভাকে অধ্যবসায়ের ওপরে স্থান দেন । বস্তুত সত্য হচ্ছে , প্রতিভা নয় , বরং অধ্যবসায়ই সাফল্যের চাবিকাঠি । যদি এমন কেউ থাকে যে কি - না অধ্যবসায়হীন অথচ নিজেকে প্রতিভাবান দাবি করে আলস্যে গৃহকোণে পড়ে থাকে তবে তাকে জ্ঞানী বলাই হবে অজ্ঞানীর কাজ । জগতের সকল কীর্তিমানই স্বীকার করেছেন তাদের কৃতকার্যের পেছনে কেবল প্রতিভা ছিল না , ছিল কঠোর অধ্যবসায় । 

    অধ্যবসায়ের দৃষ্টান্ত : মহামনীষীদের জীবনচরিত আলােচনা করলে অধ্যবসায়ের দৃষ্টান্ত মেলে । নেপােলিয়ন অধ্যবসায়ী না হলে বলতে পারতেন না , অসম্ভব ' শব্দটি কেবল বােকাদের অভিধানেই পাওয়া যায় । বিজ্ঞানী নিউটন , আইনস্টাইন , মনীষী কার্লাইল , স্কটল্যান্ডের রাজা রবার্ট ব্রুসসহ জগতের বিভিন্ন মনীষীর জীবনে অধ্যবসায়ের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত বর্তমান । 

    অধ্যবসায়ের ফল : জগতের সকল সুকীর্তি অধ্যবসায়ের ফল । সুদীর্ঘ অধ্যবসায়ের ফলেই মানুষ আজ উদ্ভাবন করতে পেরেছে । রােগ নিরাময়ের এতসব ওষুধ । মানুষের আকাশ ভ্রমণ , মহাকাশে বিচরণ , অত্যাধুনিক মুঠোফোন , কম্পিউটারের বিস্ময়কর ব্যবহারে দৈনন্দিন জীবনের নানা কর্মকাণ্ডকে সহজ করে তুলতে পারা এ সবই অধ্যবসায়ের ফল । 

    উপসংহার : বর্তমান যুগ তীব্র প্রতিযােগিতার যুগ । এ যুগে অধ্যবসায়হীন কোনাে মানুষ নিজেকে সফলভাবে । তুলে ধরতে পারবে না । ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে তাকে অবদান রাখতে হলে অধ্যবসায়কে মূলমন্ত্র হিসেবে গ্রহণ করতে হবে । কেননা মানবজীবনে অধ্যবসায়ের গুরুত্ব অপরিসীম ।

    অধ্যবসায়

    Ordhyboshai Rochona


    Tag: অধ্যবসায় রচনা - অধ্যবসায়, Ordhyboshai Rochona, রচনা - অধ্যবসায়, অধয়বসায় কি, অধ্যবসায় অনুচ্ছেদ রচনা, অধ্যবসায় রচনার উক্তি, অধ্যবসায় ও প্রতিভা
    Previous Post Next Post


    TOP POST

     

     

    🔽 এস এস সি/দাখিল ১ম সপ্তাহের এসাইনমেন্ট ২০২২ সমাধান দেখতে ক্লিক করুন

    🔽 এইচ এস সি/আলিম ১ম সপ্তাহের এসাইনমেন্ট সমাধান ২০২২ দেখতে ক্লিক করুন

    🔽 সকল সপ্তাহের এসাইনমেন্ট সমাধান (ষষ্ঠ-নবম শ্রেণীর) দেখতে ক্লিক করুন 

    ☀️আপনার নামের অর্থ জানতে ক্লিক করুন 

    ��এসএসসি সকল বই ও নোট ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন