Class 7 Islam and moral education Assignment Answer 2021 (7th Week) | ৭ম-সপ্তম শ্রেণির ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা এসাইনমেন্ট সমাধান ও উত্তর ২০২১

 

Class 7 Islam and moral education Assignment Answer 2021 (7th Week) | ৭ম-সপ্তম শ্রেণির ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা এসাইনমেন্ট সমাধান ও উত্তর ২০২১

       
       
              

    Class 7 Islam and moral education Assignment Answer 2021 (7th Week) 

    এ্যাসাইনমেন্ট বা নির্ধারিত কাজ

    মনে কর তুমি ৭ ম শ্রেণির একজন শিক্ষার্থী । নিয়মিত মসজিদে গিয়ে জামাআতের সাথে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় কর । নিচে বর্ণিত অবস্থাগুলাের ক্ষেত্রে তুমি কীভাবে সালাত আদায় করবে বর্ণনা দাও ।

    যেকোনাে ৩ টি বিষয়ের বর্ণনা লেখ : 

    ১। কোভিড -১৯ পরিস্থিতিতে ( স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে) 

    ২। সালাতে এক বা দু'রাকাত মাসবুক হলে । 

    ৩। মুসাফির অবস্থায় মাগরিব , এশা ও ফজরের সালাত 

    ৪। অসুস্থ অবস্থায় সালাত ( যখন তুমি দাড়াতে বা বসতে পার না ) ।

    ৭ম-সপ্তম শ্রেণির ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা এসাইনমেন্ট সমাধান ও উত্তর ২০২১

    ১ নং প্রশ্নের উত্তর : 

    সালাত ফরজ ইবাদত । আমাদের উচিত জামায়াতের সাথে সালাত আদায় করা । কিন্তু বর্তমান করােনা মহামারীর মধ্যে আমাদের উচিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা । কোভিড - ১৯ পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে জামায়াতে সালাত আদায়ের উপায়গুলাে নিচে বর্ণনা করা হলাে :

    ১ ) মাস্ক পরিধান করে সালাত আদায় করতে যেতে হবে 

    ২ ) প্রত্যেককে নিজ নিজ বাসা থেকে ওযু করে , সুন্নাত নামাজ ঘরে আদায় করে মসজিদে আসতে হবে এবং মসজিদে প্রবেশের পূর্বমুহূর্তে কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিতে হবে ।

    ৩ ) মসজিদে কমপক্ষে তিন ফিট সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে । প্রয়ােজনে এক কাতার ফাক রেখে সালাত আদায় করতে হবে । 

    ৪ ) ঘর থেকে জায়নামাজ নিয়ে সালাত আদায় করতে যেতে হবে ।  

    ৫ ) মসজিদে সংরক্ষিত টুপি , জায়নামাজ ইত্যাদি ব্যবহার করা যাবে ।

    ৬ ) করােনা ভাইরাস মহামারি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য নামাজ শেষে মহান রাব্বল আলামিনের দরবারে প্রার্থনা করতে হবে । 

    ৭ ) সালাত শেষে জনসমাগম এড়িয়ে যেতে হবে ।  

    ৮ ) সালাত শেষে বাসায় ফিরে আসার পর সাবান দিয়ে ভালাে করে ২০ সেকেন্ড হাত ধুতে হবে ।

    ২ নং প্রশ্নের উত্তর 

    যে ব্যক্তি নামাযে এক বা একাধিক রাকআত শেষ হওয়ার পর ইমামের সাথে জামাআতে অংশগ্রহণ করে , তাকে মাসবুক বলে ।

     মাসবুকের সালাত আদায়ের নিয়ম

     মুসল্লি জামাআতে সালাত আদায় করতে গিয়ে ইমামকে যে অবস্থায় পাবে সে অবস্থাতেই নিয়ত করে নামাযে অংশগ্রহণ করবে । তারপর ইমামের সাথে যথারীতি রুকু সিজদাহ করে তাশাহহুদ পাঠের জন্য বসে যাবে । ইমাম সালাম ফিরালে সে মুসল্লি সালাম না ফিরিয়ে দাঁড়িয়ে যাবে এবং ছটে যাওয়া রাকআতগুলাে বুকু , সিজদাহ্ করে যথারীতি তাশাহ্হুদ , দরুদ , দোয়া মাসূরা পড়ে সালামের মাধ্যমে সালাত শেষ করবে । রুকুসহ ইমামের সাথে যে কয় রাকআত পাওয়া যায় তা আদায় হয়ে যায়। রুকুর পর ইমামের পেছনে ইক্তেদা বা নামাযে দাঁড়ালে ঐ রাকআত মাসবুককে আদায় করতে হবে ।

    মুক্তাদির সালাত এক , দুই , তিন , চার রাকআত ছুটে গেলে কিছুটা তারতম্য রয়েছে কতঃসলেদাকে তরতরিয়েছে নিম্নে এসবের বর্ণনা করা হলাে : মুক্তাদি ইমামের পেছনে ইদো করার পর যদি এক রাকআত ছুটে যায় , তবে ইমামের সালাম ফেরানাের পর দাঁড়িয়ে যাবে এবং ছুটে যাওয়া এক রাকআত একাকী সালাত আদায়ের ন্যায় আদায় করে নেবে । দুই রাকআত ছুটে গেলে ইমামের সালাম ফেরানাের পর মুক্তাদি দাড়িয়ে যাবে এবং ছুটে যাওয়া দুই রাকআত যথানিয়মে আদায় করবে রাকআত ফরজ সালাত একাকী আদায় করা হয়।

    ৩ নং প্রশ্নের উত্তর 

    ‘ মুসাফির ’ আরবি শব্দ । এর অর্থ ভ্রমণকারী । কমপক্ষে ৪৮ মাইল দূরবর্তী কোনাে স্থানে যাওয়ার নিয়তে কোনাে ব্যক্তি বাড়ি থেকে বের হলে শরিয়তের পরিভাষায় তাকে মুসাফির বলে । এমন ব্যক্তি গন্তব্যস্থলে পৌছে কমপক্ষে পনেরাে দিন অবস্থানের নিয়ত না করা পর্যন্ত তার জন্য মুসাফিরের হুকুম প্রযােজ্য হবে । শরিয়তে মুসাফিরকে সংক্ষিপ্ত আকারে সালাত আদায়ের সুযােগ দেওয়া হয়েছে । এই সংক্ষিপ্তকরণকে আরবিতে কসর বলা হয় । মুসাফির অবস্থায় যােহর , আসর ও এশার ফরজ সালাত কসর পড়তে হয় । 

    যেমন আল্লাহ বলেন

    وَ اِذَا ضَرَبۡتُمۡ فِی الۡاَرۡضِ فَلَیۡسَ عَلَیۡکُمۡ جُنَاحٌ اَنۡ تَقۡصُرُوۡا مِنَ الصَّلٰوۃِ ٭ۖ 

     অর্থ : “ যখন তােমরা দেশ - বিদেশে সফর করবে , তখন সালাত সংক্ষিপ্ত করলে তােমাদের কোনাে দোষ নেই । ” ( সূরা আন - নিসা , আয়াত ১০১ )

    মুসাফিরের জন্য কসর সালাত আদায় করার অনুমতি আল্লাহ তায়ালার এক বিশেষ অনুগ্রহ । এই অনুগ্রহের গুরুত্ব সম্পর্কে মহানবি ( স . ) বলেন : “ এটি একটি সাদাকা , যা আল্লাহ তায়ালা তােমাদের ( মুসাফিরদের ) দান করেছেন । এ সাদাকা তােমরা গ্রহণ কর । ' ( বুখারি ও মুসলিম ) চার রাকআত বিশিষ্ট অর্থাৎ যােহর , আসর ও এশার ফরজ সালাত মুসাফির ব্যক্তি দুই রাকআত করে আদায় করবে । ফজর , মাগরিব ও বিতরের নামাযে কসর নেই । এগুলাে পুরােপুরি আদায় করতে হবে । আল্লাহর দেওয়া সকল সুযােগ - সুবিধা খুশি মনে গ্রহণ করা উচিত । কাজেই কোনাে মুসাফির ব্যক্তি যদি ইচ্ছে করে যােহর , আসর বা এশার ফরজ সালাত চার রাকআত আদায় করে , তবে আল্লাহর দেওয়া সুযােগ গ্রহণ না করায় গুনাহগার হবে । কিন্তু ইমাম যদি মুকিম ( থায়ী ) হয় , তাহলে সে ইমামের অনুসরণ পূর্ণ সালাত আদায় করবে । সফর একটি কষ্টকর বিষয় । তাই আল্লাহ তাঁর বান্দার উপর সালাত সংক্ষিপ্ত করার অনুমতি প্রদান করেছেন ।

    ৪ নং প্রশ্নের উত্তর 

    রােগী বা অক্ষম ব্যক্তি যথা নিয়মে সালাত আদায় করতে না পারলে , তার জন্য ইসলামে সহজ নিয়মের অনুমােদন রয়েছে । রােগীর সেই সহজ নিয়মে সালাত আদায়কে রুগুণ ব্যক্তির সালাত বলে । 

    রুগ্ন ব্যক্তির সালাত আদায়ের নিয়ম  

    রুগ্ন ব্যক্তির জন্য জ্ঞান থাকা পর্যন্ত সালাত আদায় করা বাধ্যতামূলক । রােগ যত কঠিন হােক না কেন , সম্পূর্ণরূপে অপারগ না হলে সালাত ত্যাগ করা যাবে না । রােগীর দাঁড়াতে কষ্ট হলে বসে রুকু - সিজদাহুর সাথে সালাত আদায় করবে । রুকু - সিজদাহ্ করতে অক্ষম হলে বসে ইশারায় সালাত আদায় করবে । ইশারা করার সময় রুকু অপেক্ষা সিজদায় মাথা একটু বেশি নত করতে হবে । মাথা দিয়ে ইশারা করতে হবে , চোখে ইশারা করলে সালাত আদায় হবে না । রুগ্ন ব্যক্তিকে বসার সময় সালাতের অবস্থায় বসতে হবে । যদি রােগী এতােই দুর্বল হয় যে বসে থাকা সম্ভব নয় , তবে কিবলার দিকে পা দুটি রাখতে হবে । পা সােজা না রেখে হাঁটু উচু করে রুগ্ন ব্যক্তির জন্য জ্ঞান থাকা পর্যন্ত সালাত আদায় করা বাধ্যতামূলক । 

    রােগ যত কঠিন হােক না কেন , সম্পূর্ণরূপে অপারগ না হলে সালাত ত্যাগ করা যাবে না । রােগীর দাঁড়াতে কষ্ট হলে বসে রুকু - সিজদাহর সাথে সালাত আদায় করবে । রুকু - সিজদাহ্ করতে অক্ষম হলে বসে ইশারায় সালাত আদায় করবে । ইশারা করার সময় রুকু অপেক্ষা সিজদায় মাথা একটু বেশি নত করতে হবে । মাথা দিয়ে ইশারা করতে হবে , চোখে ইশারা করলে সালাত আদায় হবে না । রুগ্ণ ব্যক্তিকে বসার সময় সালাতের অবস্থায় বসতে হবে । যদি রােগী এতােই দুর্বল হয় যে বসে থাকা সঙ্ক নয় , তবে কিবলার দিকে পা দুটি রাখতে হবে । পা সােজা না রেখে হাঁটু উঁচু করে রাখতে হবে এবং মাথার নিচে বালিশ বা এ জাতীয় কিছু জিনিস রেখে মাথা একটু উচু রাখতে হবে । শুয়ে ইশারায় রুকু ও সিজদাহ্ করবে অথবা উত্তর দিকে মাথা রেখে কাত হয়ে শুয়ে এবং কিবলার দিকে মুখ রেখে ইশারায় সালাত আদায় করবে । যদি এভাবেও সালাত আদায় করা সম্ভব না হয় , তবে তার উপর সালাত আর ফরজ থাকে না , মাফ হয়ে যায় । অপারগ অবস্থায় বা কেউ বেহুঁশ হয়ে পড়লে যদি চব্বিশ ঘন্টা সময় অর্থাৎ পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের বা তার চেয়ে কম সময় অতিক্রান্ত হয় , তাহলে সক্ষম হওয়ার পর রুগ্ণ ব্যক্তিকে কাযা করতে হবে । যদি পাঁচ ওয়াক্তের বেশি সময় অতিবাহিত হয় , তবে আর কাযা করতে হবে না । এতে এ কথা প্রতীয়মান হয় যে সালাত এমন একটি ইবাদত , যা সক্ষমতার শেষ সীমা পর্যন্ত আদায়ের হুকুম দেওয়া হয়েছে । কোনােভাবেই সালাত ত্যাগ করা যায় না । 


    Tag:Class 7 Islam and moral education Assignment Answer 2021 (7th Week), ৭ম-সপ্তম শ্রেণির ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা এসাইনমেন্ট সমাধান ও উত্তর ২০২১

    Previous Post Next Post