সূরা কদর বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ,সূরা কদরের শানে নুযুল -সূরা আল কদর এর ফজিলত

আসছালামু আলাইকুম প্রিয় পাঠক সবাই কেমন আছেন। আসা করি সবাই ভালো আছেন। বন্ধুরা আজকে আমরা এই পোস্টে তোমাদের সূরা কদর বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ,সূরা কদরের শানে নুযুল -সূরা আল কদর এর ফজিলত সম্পর্কে আলোচনা করবো। 

আল কদর অর্থ কি

সূরা আল-কদর (বা ক্বদর) (আরবি: سورة القدر‎‎) মুসলমানদের ধর্মীয় গ্রন্থ কুরআনের ৯৭ তম সূরা, এর আয়াত সংখ্যা ৫ টি এবং এর রূকুর সংখ্যা ১। আল ক্বদর সূরাটি মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে। কদরের এর অর্থ মাহাত্ম্য ও সম্মান। এর মাহাত্ম্য ও সম্মানের কারণে একে "লায়লাতুল-কদর" তথা মহিম্মান্বিত রাত বলা হয়।

       
       
     

    সূরা কদর বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ

    সূরা কদর বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ

    সূরা কদর বাংলা উচ্চারণ

    ইন্নাআনঝালনা-হু ফী লাইলাতিল কাদর।ওয়ামাআদরা-কা-মা-লাইলাতুল কাদর।লাইলাতুল কাদরি খাইরুম মিন আলফি শাহর।তানাঝঝালুল মালাইকাতুওয়াররুহু ফীহা-বিইযনি রাব্বিহিম মিন কুল্লি আমর।ছালা-মুন হিয়া হাত্তা-মাতলা‘ইল ফাজর।

    সূরা কদর তেলাওয়াত

    ○إِنَّآ أَنزَلْنَٰهُ فِى لَيْلَةِ ٱلْقَدْرِইন্নাআনঝালনা-হু ফী লাইলাতিল কাদর।নিঃসন্দেহ আমি এটি অবতারণ করেছি মহিমান্বিত রজনীতে।
    ○وَمَآ أَدْرَىٰكَ مَا لَيْلَةُ ٱلْقَدْرِওয়ামাআদরা-কা-মা-লাইলাতুল কাদর।শবে-কদর (মহিমান্বিত রাত) সমন্ধে আপনি কি জানেন?
    ○لَيْلَةُ ٱلْقَدْرِ خَيْرٌ مِّنْ أَلْفِ شَهْرٍলাইলাতুল কাদরি খাইরুম মিন আলফি শাহর।শবে-কদর হল এক হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ।
    ○تَنَزَّلُ ٱلْمَلَٰٓئِكَةُ وَٱلرُّوحُ فِيهَا بِإِذْنِ رَبِّهِم مِّن كُلِّ أَمْرٍতানাঝঝালুল মালাইকাতুওয়াররুহু ফীহা-বিইযনি রাব্বিহিম মিন কুল্লি আমর।এতে প্রত্যেক কাজের জন্যে ফেরেশতাগণ ও রূহ অবতীর্ণ হয় তাদের পালনকর্তার নির্দেশক্রমে।
    ○سَلَٰمٌ هِىَ حَتَّىٰ مَطْلَعِ ٱلْفَجْرِছালা-মুন হিয়া হাত্তা-মাতলা‘ইল ফাজর।এটা নিরাপত্তা, যা ফজরের উদয় পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।

    সূরা কদরের শানে নুযুল

    ইবনে আবী হাতেম (রাঃ)-এর রেওয়ায়েতে আছে, রসূলুল্লাহ্‌ (সাঃ) একবার বনী-ইসরাঈলের জনৈক মুজাহিদ সম্পর্কে আলোচনা করলেন। সে এক হাজার মাস পর্যন্ত অবিরাম জেহাদে মশগুল থাকে এবং কখনও অস্ত্র সংবরণ করেনি। মুসলমানগণ একথা শুনে বিস্মিত হলে এ সূরা কদর অবতীর্ণ হয়। এতে এ উম্মতের জন্যে শুধু এক রাত্রির ইবাদতই সে মুজাহিদের এক হাজার মাসের এবাদত অপেহ্মা শ্রেষ্ঠ প্রতিপন্ন করা হয়েছে। ইবনে জরীর (রহঃ) অপর একটি ঘটনা এভাবে উল্লেখ করেছেন যে, বনী-ইসরাঈলের জনৈক এবাদতকারী ব্যক্তি সমস্ত রাত্রি এবাদতের মশগুল থাকত ও সকাল হতেই জেহাদের জন্যে বের হয়ে যেত এবং সারাদিন জেহাদে লিপ্ত থাকত। সে এক হাজার মাস এভাবে কাটিয়ে দেয়। এর পরিপ্রেহ্মিতেই আল্লাহ্‌ তাআলা সূরা-কদর নাযিল করে এ উম্মতের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছেন। এ থেকে আরও প্রতীয়মান হয় যে, শবে-কদর উম্মতে মুহাম্মদীরই বৈশিষ্ট্য।

    সূরা আল কদর এর ফজিলত

    ১- লায়লাতুল কদরেই পবিত্র কুরআন নাযিল করা হয়েছে আল্লাহ তাআলা বলেন : (إِنَّآ أَنزَلۡنَٰهُ فِي لَيۡلَةِ ٱلۡقَدۡرِ) {নিশ্চয় আমি এটি নাযিল করেছি ‘লাইলাতুল কদরে।}[ সূরা আল কাদ্র:১]

    ২ – লায়লাতুল কদর হাজার মাস থেকেও উত্তম আল্লাহ তাআলা বলেন: (لَيۡلَةُ ٱلۡقَدۡرِ خَيۡرٞ مِّنۡ أَلۡفِ شَهۡرٖ ) {লায়লাতুল কদর এক হাজার মাস থেকে উত্তম} [সূরা আল-কাদ্র:৩] অর্থাৎ লায়লাতুল কদরে আমল করা লায়লাতুল কদরের বাইরে এক হাজার মাস আমল করার চেয়েও উত্তম।

    ৩- লায়লাতুল কদরে ফেরেশতা ও জিব্রীল এর অবতরণ আল্লাহ তাআলা বলেন: (تَنَزَّلُ ٱلۡمَلَٰٓئِكَةُ وَٱلرُّوحُ فِيهَا بِإِذۡنِ رَبِّهِم مِّن كُلِّ أَمۡرٖ ) {সে রাতে ফেরেশতারা ও রূহ (জিব্রীল) তাদের রবের অনুমতিক্রমে সকল সিদ্ধান্ত নিয়ে অবতরণ করে।}[ সূরা আল কাদ্র:৪] আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,‘লায়লাতুল কদর হলো সাতাশ তারিখ অথবা ঊনত্রিশ তারিখের রাত, আর ফেরেশতাগণ এ রাতে পৃথিবীতে কঙ্করের সংখ্যা থেকেও বেশি থাকেন।

    ৪ – লায়লাতুল কদর হলো শান্তির রাত আল্লাহ তাআলা বলেন : (سَلَٰمٌ هِيَ حَتَّىٰ مَطۡلَعِ ٱلۡفَجۡرِ ٥ ) {শান্তিময় সেই রাত, ফজরের সূচনা পর্যন্ত।}[ সূরা আল কাদ্র:৫] অর্থাৎ লায়লাতুল কদরের পুরোটাই ভালো, এর শুরু থেকে সুবেহ সাদেক পর্যন্ত আদৌ কোনো অনুত্তম বিষয় নেই।

    ৫- লায়লাতুল কদর মুবারক রাত আল্লাহ তাআলা বলেন: (إِنَّآ أَنزَلۡنَٰهُ فِي لَيۡلَةٖ مُّبَٰرَكَةٍۚ إِنَّا كُنَّا مُنذِرِينَ ٣ ) {নিশ্চয় আমি এটি নাযিল করেছি বরকতময় রাতে; নিশ্চয় আমি সতর্ককারী।} [ সূরা আদ-দুখান:৩] উক্ত আয়াতে ‘লায়লাতুম্ মুবারাকা’- এর অর্থ ইবনে আব্বাস রাযি. এর নিকট ‘লায়লাতুল কদর।’

    ৬ – এ রাতে এক বছরের সকল প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেয়া হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন: (فِيهَا يُفۡرَقُ كُلُّ أَمۡرٍ حَكِيمٍ ) {সে রাতে প্রত্যেক প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয়।} [ সূরা আদ-দুখান:৪] ৭ – যে ব্যক্তি ছাওয়াবপ্রাপ্তির দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে ও আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় লায়লাতুল কদর যাপন করবে তার অতীতের সকল গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘যে ব্যক্তি ছাওয়াবপ্রাপ্তির দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে ও আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় লায়লাতুল কদর যাপন করল, তার অতীতের সকল গুনাহ মাফ করে দেয়া হলো।’(বর্ণনায় ইবনে খুযায়মাহ) । 


    Tag:সূরা কদর বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ,সূরা কদরের শানে নুযুল, সূরা আল কদর এর ফজিলত,সূরা কদর তেলাওয়াত,সূরা কদর বাংলা উচ্চারণ,সূরা কদরের তাফসীর,আল কদর অর্থ কি,সূরা ইন্না আনযালনা বাংলা উচ্চারণ

    Previous Post Next Post

    👇 সকল ক্লাসের এসাইনমেন্ট নোটিফিকেশন আকারে সহজে পেতে ডাউনলোড করুন আমাদের এপ্লিকেশন 

     🔝 এসাইনমেন্ট কভার পেইজ PDFলেখার নিয়ম দেখতে ক্লিক করুন 

    TOP POST

    🔽 এস এস সি (সকল সপ্তাহের) এসাইনমেন্ট ২০২২ সমাধান দেখতে ক্লিক করুন

    🔽 এইচ এস সি (সকল সপ্তাহের) এসাইনমেন্ট ২০২২ সমাধান দেখতে ক্লিক করুন

    🔽 ষষ্ঠ-নবম শ্রেণীর (সকল সপ্তাহেরএসাইনমেন্ট সমাধান দেখতে ক্লিক করুন 

    ☀️আপনার নামের অর্থ জানতে ক্লিক করুন 

    ��এসএসসি সকল বই ও নোট ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন