নবম/৯ম শ্রেণীর/শ্রেণির ২য় সাপ্তাহের ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং এসাইনমেন্ট উত্তর/সমাধান ২০২১-অর্থায়নের ক্রমবিকাশ ( নিবন্ধ রচনার ক্ষেত্রে ভূমিকা , অর্থায়নের ধারণা , ক্রমবিকাশ এবং উপসংহার লিখতে হবে । )

 

অর্থায়নের ক্রমবিকাশ ( নিবন্ধ রচনার ক্ষেত্রে ভূমিকা , অর্থায়নের ধারণা , ক্রমবিকাশ এবং উপসংহার লিখতে হবে । )

নবম/৯ম শ্রেণীর/শ্রেণির ২য় সাপ্তাহের ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং এসাইনমেন্ট উত্তর/সমাধান ২০২১

Class 9 2nd Week Finance And Banking Assignment Answer 2021

অর্থায়নের ক্রমবিকাশ ( নিবন্ধ রচনার ক্ষেত্রে ভূমিকা , অর্থায়নের ধারণা , ক্রমবিকাশ এবং উপসংহার লিখতে হবে । )


ভূমিকা :অর্থায়নের পরিধি অনেক বিস্তৃত । আমাদের ব্যক্তিগত , পারিবারিক , সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে অর্থায়ন অতি গুরুত্বপূর্ণ । অর্থ ছাড়া যেমন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের আর্থিক কার্যাবলী সম্পন্ন করা যায় না ঠিক তেমনিভাবে কোনাে প্রতিষ্ঠানও অর্থ ছাড়া চলতে পারে না । তাই অর্থকে একটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের জীবনীশক্তি বলা হয় । সাধারণত অর্থ বলতে নগদ অর্থ বা ব্যাংকে জমা করা অর্থকে বােঝানাে হয় । কিন্তু ব্যবসায়িক পরিমণ্ডলে অর্থ বলতে শুধু নগদ অর্থকে বােঝায় না , অর্থাকারে প্রকাশিত যেমন : চেক , শেয়ার , বন্ড বা ঋণপত্র , প্রাপ্য বিল , প্রাইজবন্ড ইত্যাদিও অর্থের অন্তর্ভুক্ত । বিভিন্ন উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহ , অর্থ ব্যবস্থাপনা , বিনিয়ােগ , সংরক্ষণ এবং এ সংশ্লিষ্ট সামগ্রিক কার্যাবলিকে অর্থায়ন বলা হয় ।

অর্থায়নের ধারণা :অর্থায়নের মূল কাজ হলাে তহবিল সংগ্রহ ও তার ব্যবহার , ব্যবস্থাপনা এবং বিনিয়ােগ । আমাদের দৈনন্দিন জীবনে অর্থের প্রয়ােজন । আর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান অর্থ ছাড়া সম্পূর্ণ অচল । এ জন্যই অর্থায়নকে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের হৃদপিন্ড বলা হয় । সাধারণভাবে অর্থ সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনাকে অর্থায়ন বলা হয় । একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য কি পরিমাণ মূলধন প্রয়ােজন , কোন কোন উৎস হতে তা সংগ্রহ করার জন্য লাভজনক এবং কোন প্রজেক্ট বা সম্পদে বিনিয়ােগ করলে সবচেয়ে বেশি মুনাফা হবে , সেই সকল বিষয়ের পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের যে কার্যাবলী তাকেই অর্থায়ন বলে ।

অর্থায়ন সম্পর্কে বিভিন্ন মনিষীদের উক্তি :Lawrence J. Gitman এর মতে " Finance can be defined as the art and science of managing money . It is concerned with the process , institutions , markets and instruments involved in the transfer of money among individuals , businesses , and governments . ” Schall and Halley এর মতে " Finance is a body of facts , principles and theories dealing with raising and using of money by individuals , businesses and governments . " আর . এ . স্টিভেনসন এর মতে “ অর্থায়ন বলতে সেই উপায়কে বুঝায় যা দ্বারা তহবিল সংগ্রহ করা যায় এবং তহবিলের ব্যবস্থাপনা ও বন্টন সম্ভবপর হয় । ”

অর্থায়নের শ্রমবিকাশ ঃ পূর্বে তহবিল সংগ্রহ করাই অর্থায়নের অন্তর্ভুক্ত ছিল । কালের বিবর্তনে অর্থেও ব্যবহারটি অর্থায়নের আওতাভুক্ত হয়েছে । দীর্ঘ সময়ের পরিবর্তনশীল পরিবেশ পরিস্থিতির দ্বারা প্রভাবিত হয়ে বর্তমান অর্থায়নের সৃষ্টি হয়েছে । মূলত দ্রব্য বিনিময় প্রথার অসুবিধা দূর করার জন্য অর্থের সূচনা হয় । এই কথাটি আমরা সকলেই জানি । সপ্তদশ শতাব্দীতে প্রযুক্তির উন্নয়ন ও উৎপাদন কৌশল উন্নত বিশ্বে শিল্প বিপ্লব হয় । এতে উৎপাদন কৌশল জটিলতর হয় এবং বিশেষায়িত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উৎপাদন প্রক্রিয়া উৎকর্ষতা লাভ করে । সভ্যতা বিকাশের সাথে সাথে প্রতিষ্ঠানের ব্যাপ্তি ও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন আর্থিক ব্যবস্থাপকদের দায় দায়িত্ব পরিবর্তিত হয়েছে । অর্থায়নের মূল বিকাশ ঘটে যুক্তরাষ্ট্রে পরে তা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পরে । নিচে অর্থায়নের বিবর্তনের বিষয়টি আলােচনা করা হলােঃ-

১৯৩০ এর পূর্ববর্তী দশকঃ এই সময়কালে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানীগুলাের মধ্যে একত্রীকরণের প্রবণতা শুরু হয় । আর্থিক বিবরণী বিশ্লেষণ করে কোন প্রতিষ্টানের সাথে কোন প্রতিষ্টান একত্রিত হওয়া উচিত এই সংক্রান্ত রূপরেখা দিতে আর্থিক ব্যবস্থাপকদের দায়িত্ব পালন করতে হয় । তারা এই একত্রীকরণে বিশাল অংকের অর্থসংস্থান ও আর্থিক বিবরণী তৈরি করার দায়িত্ব পালন করেন ।

 ১৯৩০ এর দশকঃএকত্রীকরণ প্রক্রিয়া স্বল্পকালে লাভজনক হলেও দীর্ঘকালে আশানুরূপ সফলতা পায়নি । আগের দশকে একীভূত অনেক প্রতিষ্ঠানই পরের দশকে দেউলিয়া হয়ে যায় । সে কারণে ত্রিশের দশকে যুক্তরাষ্ট্রে চরম মন্দা শুরু হয় । শুরু হল বাঁচার জন্য লড়াই । শুরু হল ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানগুলাে পুনর্গঠন করে কীভাবে দেউলিয়াত্ব থেকে রক্ষা করা রাখা যায় , সে ব্যাপারে আর্থিক ব্যবস্থাপক বিশেষ দায়িত্ব পালন করেন । এ সময় থেকেই শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে অর্থায়নের প্রয়ােজন দেখা দেয় । 

১৯৪০ এর দশকঃ এ সময়ে সুষ্ঠুভাবে ব্যবসায় পরিচালনার জন্য তারল্যের প্রয়ােজনীয়তা বিশেষভাবে উপলব্ধি করা যায় । নগদ অর্থপ্রবাহের বাজেট করে সুপরিকল্পিত নগদপ্রবাহের মাধ্যমে অর্থায়ন সেই দায়িত্ব পালন করে । 

১৯৫০ এর দশকঃ১৯৫০ এর দশকে অর্থায়নের সনাতন দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন হয় । তহবিল সংগ্রহ করে কিভাবে তা লাভজনক খাতে বিনিয়ােগ করে সর্বাধিক মুনাফা অর্জন করা যায় তা অর্থায়নের প্রধান কাজ হিসেবে পরিগণিত হতে থাকে । মূলধন বাজেটিং নতুন বিনিয়ােগ প্রকল্প সনাক্তকরণের ক্ষেত্রে নতুন কৌশল ও পদ্ধতির আবির্ভাব হলাে যা ব্যবসায়ের মূলধনের দক্ষ বন্টনের কাজকে ত্বরান্বিত করতে সহযােগিতা করলাে ।

 ১৯৬০ এর দশক ১৯৬০ এর দশকে আধুনিক অর্থায়নের যাত্রা শুরু । অর্থায়ন শেয়ার বা মূলধন বাজারকে অগ্রাধিকার দিতে শুরু করে । একটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারহােল্ডারদের সম্পদ বা শেয়ারের বাজারমূল্য সর্বাধীককরণই ছিল এই সময়ের অর্থায়নের অন্যতম উদ্দেশ্য । কিন্তু অর্থায়নের সাথে ঝুকির সম্পদটি তেমন বিবেচনায় নেওয়া হয়নি । অর্থায়নের ক্ষেত্রে ঝুঁকির ধারণা হলাে এই যে মুনাফা বৃদ্ধির সাথে সাথে ঝুঁকিও বৃদ্ধি পায় । সুতরাং মুনাফা সৰ্বাদীককরণ সর্বদা কাঙ্ক্ষিত নাও হতে পারে ।

১৯৭০ এর দশকঃ এই সময় কম্পিউটারের যাত্রা শুরুর ফলে বদলে যারা অর্থায়নের কাজ । অর্থায়নও তখন অংকনির্ভর হয়ে উঠে । মূলধনি কাঠামাের সনাতন ধারণাও অনেক অংকনির্ভর ও জটিল হয় । তাত্ত্বিক অর্থায়নকে নানা তত্ত্বের বিশ্লেষণে সমৃদ্ধ করেন হ্যারি মার্কোইজ , মার্টন মিলার , ফ্রাংকো মডিগলিয়ানি । 

১৯৮০ এর দশকঃ কম্পিউটার প্রােগ্রামের সাহায্য স্বল্পমেয়াদি আর্থিক ব্যবস্থাপনার বিশ্লেষণের ক্ষেত্র বেড়ে যায় । এই সময়ে আর্থিক সেবা শিল্পসহ অন্যান্য শিল্পের ক্ষেত্রে সরকারি বিধিনিষেধ শিথিল করা হয় । একজন আর্থিক ব্যবস্থাপককে তহবিল সংগ্রহ , বন্টন , বিনিয়ােগ ও সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে এবং মূল্যায়নে সহযােগিতা করেছে ।

১৯৯০ এর দশক ও আধুনিক অর্থায়নের সুচনাঃ এই দশকে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা ( World Trade Organization ) প্রতিষ্ঠিত হয় । বিশ্বব্যাপী আমদানি - রপ্তানির উপর থেকে প্রতিবন্ধকতা ও বিধিনিষেধ ব্যাপকভাবে হ্রাস করা হয় । যার ফলে অর্থায়নও আন্তর্জাতিকতা লাভ করে । তথ্য প্রযুক্তি ও বিশ্বায়নের যুগে অর্থয়নের ক্ষেত্র আরও প্রসারিত হতে থাকে ।

 উপসংহারঃ অর্থায়নকে প্রতিষ্ঠানের হৃদপিণ্ডের সাথে তুলনা করা হয় । তাই অর্থায়ন প্রক্রিয়া একটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এর পরিধি অত্যন্ত ব্যাপক । এমনকি ব্যক্তিগত পর্যায়ে এবং সরকারের প্রতিটি ক্ষেত্রে অর্থায়ন গভীরভাবে জড়িত । প্রতিবছর সরকার আয় - ব্যয়ের প্রাক্কলিত হিসাব করে বাজেট প্রেস করে । সরকারের বার্ষিক আয় কোন কোন উৎস হতে সংগ্রহ করা হবে এবং বার্ষিক ব্যয় কোন কোন খাতে কী পরিমাণে করা হবে তা নির্ধারণ করাকে সরকারি অর্থায়ন বুঝায় । প্রতিটি সরকারের একটি সুনির্দিষ্ট অর্থ ব্যবস্থাপনা আছে । সরকারি অর্থায়নে প্রথমে ব্যয়ের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয় এবং সে অনুযায়ী বিভিন্ন উৎস থেকে তহবিল সংগ্রহ করা হয় । সরকারি অর্থায়নে ক্ষেত্রে বিভিন্ন আয়ের ও ব্যয়ের খাত বাজেটের মাধ্যমে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয় । যখন সরকারি অর্থায়নের ক্ষেত্রে আয় অপেক্ষা ব্যয় বেশি হয় তখন তাকে ঘাটতি বাজেট বলে । আবার সরকারি অর্থায়নের ক্ষেত্রে ব্যয় অপেক্ষা আয় বেশি হয় তখন তাকে তখন তাকে উদ্ধৃত্ত বাজেট বলে । সরকারি অর্থায়নের মূল লক্ষ্য হলাে সমাজকল্যাণ ।


টাগঃনবম/৯ম শ্রেণীর/শ্রেণির ২য় সাপ্তাহের ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং এসাইনমেন্ট উত্তর/সমাধান ২০২১,Class 9 2nd Week Finance And Banking Assignment Answer 2021

0/Post a Comment/Comments

Previous Post Next Post


��ঈদ মোবারকের কিছু সব পিকচার ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন 

��ঈদুল ফিতরের নামাজের নিয়ম,নিয়ত বিস্তারিত দেখতে ক্লিক করুন 

Hot Post

��বাংলাদেশের ৬৪ জেলার রমজানের ক্যালেন্ডার ২০২১ ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন

��২০২১ সালে ফিতরার পরিমান কত টাকা ক্লিক করে জেনে নিন

��সেহরি ও ইফতারের দোয়া আরবি বাংলা দেখতে ক্লিক করুন

��রোজা ভঙ্গের ও মকরুহ হওয়ার কারন জেনে নিন

TOP POST

��এসএসসি সকল বই ও নোট ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন